Mission Paani: বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পরিবেশবিদ লিসিপ্রিয়া চান সব স্কুলের পাঠ্য হোক জলবায়ু পরিবর্তন!

Mission Paani: বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পরিবেশবিদ লিসিপ্রিয়া চান সব স্কুলের পাঠ্য হোক জলবায়ু পরিবর্তন!
মাত্র আট বছর বয়স থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাব নিয়ে মানুষকে সচেতনা করতে শুরু করেছে লিসিপ্রিয়া কানগুজম (Licypriya Kangujam)।

মাত্র আট বছর বয়স থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাব নিয়ে মানুষকে সচেতনা করতে শুরু করেছে লিসিপ্রিয়া কানগুজম (Licypriya Kangujam)।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে বিশ্ব জুড়ে। যার প্রভাব পড়ছে পরিবেশের উপরে। এর ফলে গলছে বরফ। বিলুপ্তির পথে হাঁটতে শুরু করেছে একাধিক প্রজাতি। জলবায়ু পরিবর্তনের পিছনে আমাদের লাইফস্টাইল, ভালো ভাবে বেঁচে থাকাও অনেকাংশে দায়ী। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সে ভাবে চিন্তিত নন। যার ফলে সমস্যা আরও বাড়ছে। সব সময়ে পরিবেশবিদরা বা বিজ্ঞানীরাই বিভিন্ন গবেষণার মধ্যে দিয়ে আমাদের সচেতন করবেন, এটা ভাবা ভুল। আামাদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে তরুণ প্রজন্মকে। এই সচেতনতা ছোট থেকেই সকলের মধ্যে তৈরি করতে হবে। আর এই কথা মাথায় রেখেই হয় তো মাত্র আট বছর বয়স থেকে জলবায়ু পরিবর্তন ও তার প্রভাব নিয়ে মানুষকে সচেতনা করতে শুরু করেছে লিসিপ্রিয়া কানগুজম (Licypriya Kangujam)।

বয়স এখন মাত্র ১০। এই সময়ে খেলাধুলা, একটু-আধটু পড়াশোনাই সকলের জন্য যথেষ্ট হয়। অনেক সময়ে আশেপাশে সৃজনশীল কিছু শিখলেও পরিবেশ নিয়ে মাথা ঘামাতে কাউকে সে ভাবে দেখা যায় না। কিন্তু ভারতের লিসিপ্রিয়া এই বয়সেই বিভিন্ন জায়গায় পরিবেশ নিয়ে মানুষকে সচেতন করার কাজ করছে। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পরিবেশকর্মী হিসেবে গত দু'বছর ধরে এই কাজ সে করে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশেরে অনেকেই হয় তো তাকে চেনেন না!

তার নাম প্রথম সংবাদ-শিরোনামে উঠে আসে ২০১৯ সালে। সে বছর লিসিপ্রিয়া রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কনফারেন্স (United Nations Climate Conference) বা COP25-এ অংশ নিয়েছিল। মাদ্রিদে হওয়া ওই কনফারেন্সে সে যখন অংশ নেয়, তখন তার বয়স মাত্র আট।


https://twitter.com/LicypriyaK/status/1204475608429973504

তার পর থেকে সে পরিবেশ সচেতনায় ও তা সমস্ত স্কুলে পড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পড়ানো বাধ্যতামূলক করার কাজ করে যাচ্ছে। মাদ্রিদে বক্তব্য রাখা সময়ে, লিসিপ্রিয়া জানিয়েছিল- আর সময় নেই, আমাদের এ বার সচেতন হতে হবে।

এর আগে সুইডেনের গ্রেটা থানবার্গ পরিবেশ নিয়ে একাধিক সচেতনতামূলক কাজ করে এবং বিশ্বনেতাদের আকৃষ্ট করে অনেকের কাছে প্রশংসিত হয়েছেন। বর্তমানেও তিনি এই কাজই করে চলেছেন। লিসিপ্রিয়াকে যখন প্রশ্ন করা হয়, তার তো এখন খেলার সময়, পড়াশোনার সময়, এই বয়সে সে এ কাজে করতে শুরু করল কেন, সে তখন জানায় যে, পরিবেশের ক্ষয় রোধ করতে এই মুহূর্তে গাছ কাটা বন্ধ করতে হবে। পরিবেশ বাঁচাতে একাধিক নতুন পদক্ষেপ করতে হবে। পরে সে বলে, গ্রেটা তার অনুপ্রেরণা। গ্রেটার সঙ্গে অবশ্য তার একবার দেখাও হয়েছে।

যাদের জন্মের অনেক আগে থেকেই বিশ্বের তাবড় নেতারা ভালো ভাবেই জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অবগত, সেখানে এ বিষয়ে তাঁদের উপেক্ষা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত এই দুই তরুণী। তাঁদের মতে, বিশ্বনেতারা, রাষ্ট্রপ্রধানরা যদি এই নিয়ে সামান্য পদক্ষেপও করেন, তা হলে অনেকটাই পরিবর্তন আসতে পারে।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিসিপ্রিয়া জানায়, একটি বৈঠকে সে শুনেছিল কী ভাবে বিপর্যয় আমাদের দোষেই আমাদের ঘিরে ধরছে। তারই বিরাট প্রভাব পড়ে তার উপরে। পাশাপাশি সে এমন প্রচুর মানুষ দেখেছে, যারা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে ঘরছাড়া। তার পর পরিবেশ নিয়ে সে কাজ শুরু করে ছ'বছর বয়সে।

শুধু পরিবেশ নিয়ে কাজ করাই নয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে সে সংসদের বাইরে প্রায় এক সপ্তাহ বসেছিল। কিন্তু কারও সঙ্গেই দেখা করতে না পারায় সে ঠিক করেছিল যে রাষ্ট্রপুঞ্জের কনফারেন্সে যোগ দিলে হয় তো অনেকের কাছে পৌঁছানো যাবে।

বড় হয়ে মহাকাশবিদ হতে চায় লিসিপ্রিয়া। পড়াশোনার পাশাপাশি, কনফারেন্সের পাশাপাশি টাকা জোগাড় করে পরিবেশ বাঁচানোর কাজ তার চলছে।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: