জলের অভাবে ৭০ কোটি মানুষ গৃহহীন হতে চলেছেন, আতঙ্ক জাগাচ্ছে নতুন সমীক্ষা!

জলের অভাবে ৭০ কোটি মানুষ গৃহহীন হতে চলেছেন, আতঙ্ক জাগাচ্ছে নতুন সমীক্ষা!

জলের অভাবে ৭০ কোটি মানুষ গৃহহীন হতে চলেছেন, আতঙ্ক জাগাচ্ছে নতুন সমীক্ষা!

অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের প্রায় ৭০ কোটি মানুষ জলের অভাবের কারণে গৃহহীন হয়ে যাবেন, সব কিছু ফেলে জলের খোঁজে তাঁদের বসতি উঠিয়ে পাড়ি দিতে হব?

  • Share this:

জল যে জীবন, সে কথা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু জলের অভাব হলেও জীবনযাত্রা তো আর সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায় না। ফলে, সারা বিশ্ব জুড়ে জনসংখ্যার একটা বিষশাল অংশ যে পড়তে চলেছে মর্মান্তিক জলকষ্টে, সে কথা সম্প্রতি আমাদের জানাল এক নতুন সমীক্ষা। WaterAid নামের এক আন্তর্জাতিক অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দ্বারা পরিচালিত এই সমীক্ষার দাবি- অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বের প্রায় ৭০ কোটি মানুষ জলের অভাবের কারণে গৃহহীন হয়ে যাবেন, সব কিছু ফেলে জলের খোঁজে তাঁদের বসতি উঠিয়ে পাড়ি দিতে হবে অন্যত্র।

জলের অভাবে মানুষ যে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরে ঘুরে যাযাবরের জীবন কাটিয়েছে, তা ইতিহাস প্রমাণ করেছে বারে বারে। এর জন্য সুবিশাল প্রাচীন সময়েও যাওয়ার দরকার নেই। রাজধানীর অদূরেই রয়েছে এমন প্রত্নতাত্ত্বিক ভগ্নাবশেষ যা জলের অভাবের জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছিল। ফলে WaterAid-এর এই সমীক্ষা সঙ্গত কারণেই আতঙ্কজনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যে ছবি তুলে ধরছে সংস্থা, তা একেবারে মিথ্যা নয়।

সমীক্ষা বলছে যে খুব বেশি হলে ২০৩০ সালের মধ্যেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হবে যখন কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এক বিন্দু জলও আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। অন্য দিকে, ২০৫০ সালের মধ্যে আনুমানিক ৫ বিলিয়ন মানুষ তাঁদের বসতিতে জল কমে আসা নিয়ে সমস্যায় পড়বেন বলেও দাবি করছে সমীক্ষা। জানাচ্ছে যে বিশ্বে এখনই এমন বেশ কিছু উন্নতিশীল দেশ আছে যেখানে প্রতি দুইজনের মধ্যে একজনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পানীয় জল সরবরাহ করা যায় না। অদূর ভবিষ্যতে এই ছবি আরও অন্ধকারময় হয়ে উঠবে বলেই দাবি সংস্থার।

পাশাপাশি সংস্থা এটাও বলতে ভুলছে না যে এই জলসমস্যার মূলে কার্যত দায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা। ২০০১ সাল থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ প্রাকৃতিক দুর্যোগই যে জলসমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে, সেই হিসেব তুলে ধরেছে WaterAid। জানাচ্ছে এর মোকাবিলা করা একমাত্র তখনই সম্ভব যদি একেকটি দেশে এই জলবায়ু সমস্যার মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে অর্থ মজুত থাকে।

এই প্রসঙ্গে WaterAid-এর বক্তব্য- ২০০৯ সালে বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলো ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু সমস্যা ত্রাণে দেবে বলে অঙ্গীকার করেছিল। এই বিশাল পরিমাণ টাকা তহবিলে জমা হওয়ার কতা ছিল ২০২০ সালের মধ্যে। কিন্তু কার্যত এখনও পর্যন্ত মোটে ৭৮.৯ বিলিয়ন ডলার কোনও মতে সংগ্রহ করা গিয়েছে। ফলে, সব মিলিয়ে সমস্যার মোকাবিলা নিয়ে খুব একটা আশ্বাসের ছবি তুলে ধরছে না সংস্থা।

Published by:Simli Raha
First published: