ঋতুস্রাবের সময় ছুটি নিলে জরিমানা, বাধ্য হয়েই জরায়ু বাদ দিচ্ছেন মহারাষ্ট্রের মহিলা শ্রমিকরা

News18 Bangla
Updated:Apr 11, 2019 12:01 PM IST
ঋতুস্রাবের সময় ছুটি নিলে জরিমানা, বাধ্য হয়েই জরায়ু বাদ দিচ্ছেন মহারাষ্ট্রের মহিলা শ্রমিকরা
News18 Bangla
Updated:Apr 11, 2019 12:01 PM IST

#মহারাষ্ট্র: নিজেদের জরায়ু বাদ দিয়ে বন্ধ্যত্বকরণের রাস্তায় হাঁটছেন মহারাষ্ট্রের বিড় জেলার মহিলা আখ শ্রমিকেরা। কারণটা অত্যন্ত মর্মান্তিক! ঋতুস্রাবের সময়ে শরীর ভাল না থাকলে এক-আধ দিন কাজে যেতে পারেন না মহিলারা। কিন্তু ঠিকাদার সে কথা শুনবেন না। এক-এক দিন কাজে কামাইয়ের জন্য উলটে দিতে হয় ৫০০ টাকা।

অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত আখ চাষের মরসুম। পশ্চিম মহারাষ্ট্রের বিড় জেলায় ওই সময়ে ভিড় জমান প্রচুর সংখ্যক শ্রমিক। আখ কাটার কাজ করেন মূলত মহিলা শ্রমিকেরা। তাঁদের স্বামীরা খেতের অন্য কাজে ব্যস্ত থাকেন। এক এক জন দম্পতিকে এক একটি ‘ইউনিট’ হিসেবে ধরা হয়। সেই মতোই তাঁদের মজুরি দেন ঠিকাকর্মীরা। কিন্তু অভিযোগ, মাসের তিন-চার দিন ঋতুস্রাবের সময়ে শরীর খারাপ থাকলে মহিলা শ্রমিক যদি উপস্থিত থাকতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে তাঁর স্বামী তো মজুরি পান-ই না, উল্টে নিজেদের পকেট থেকে দিন প্রতি ৫০০ টাকা করে ঠিকাদারদের দিতে হয় । গ্রামের মানুষেরা জানিয়েছেন, এই নিয়মই এই সব অঞ্চলের দস্তুর। তাই টাকা কাটা যাওয়ার ভয়ে দু’-তিন সন্তানের মায়েরা এখন জরায়ু বাদ দিয়ে বন্ধ্যত্বকরণের রাস্তা বেছে নিচ্ছেন।

সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় দৈনিকে এই খবর দেখে চমকে উঠেছিল মহারাষ্ট্রের জাতীয় মহিলা কমিশন। সব দিক খতিয়ে দেখে তারা রাজ্যের মুখ্যসচিব ইউপিএস মদনকে নোটিস পাঠিয়েছে । মহিলা কমিশনের অনুরোধ, যে ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের যেন উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হয়! পাশাপাশি, এই বর্বর অত্যাচারের শিকার যে সব মহিলা, তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা ও সমাজের মূলস্রোতে ফেরাতে রাজ্য সরকার কী, কী পদক্ষেপ করল, তা যেন কমিশনকে জানানো হয়। কমিশনের চেয়ারপার্সন রেখা শর্মার বক্তব্য, যে পরিস্থিতিতে ওই সব মহিলা শ্রমিক আখের খেতে কাজ করছেন, তা শোচনীয়। বিষয়টি নিয়ে কমিশনও উদ্বিগ্ন।

First published: 12:01:56 PM Apr 11, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर