Shocking: 'স্বামীকে মরা পশুর মতো টেনে হাসপাতাল থেকে বাইরে বের করে এনেছি', অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা শুনুন...

Shocking: 'স্বামীকে মরা পশুর মতো টেনে হাসপাতাল থেকে বাইরে বের করে এনেছি', অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতা শুনুন...

শুক্রবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দু-তিনদিন কেটে যাওয়ার পরেও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে। রাতে ঘুমোতে গিয়ে চমকে উঠছেন থেকে থেকে।

শুক্রবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দু-তিনদিন কেটে যাওয়ার পরেও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে। রাতে ঘুমোতে গিয়ে চমকে উঠছেন থেকে থেকে।

  • Share this:

    #মুম্বইঃ স্বামী-স্ত্রী দু'জনেই করোনা আক্রান্ত হয়ে দিন কয়েক আগে মুম্বইয়ের সানরাইজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসাও চলছিল।  দু'জনে একটি প্রাইভেট কেবিনে ছিলেন। এ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু, শুক্রবার রাতে যে ঘটনা ঘটেছে, তা দু-তিনদিন কেটে যাওয়ার পরেও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়াচ্ছে। রাতে ঘুমোতে গিয়ে চমকে উঠছেন থেকে থেকে।

    শুক্রবার তখন ঘড়িতে রাত এগারো'টা। হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবেই রোগীদের খাওয়া-দাওয়া হয়ে গিয়েছিল। ঘুমিয়েও পড়েছিলেন বহু রোগী। তবে ব্যক্তিগত কেবিনে স্বামী-স্ত্রী দু'জনের চিকিৎসা চলায় তখনও জেগে ছিলেন স্ত্রী মাধুরী গোধওয়ানী (৬৭)। স্বামী চেতন গোধওয়ানী ((৭৮)-র বয়স বেশী হওয়ায় তাঁর অবস্থা অনেক বেশী সঙ্গীন ছিল। মাধুরী সে দিনের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে বলেন, "রাত এগারো'টা নাগাদ ঘরের মধ্যে যখন ধোঁয়া ঢুকতে শুরু করে তখন ভেবেছিলাম সব শেষ। চেতনের শারীরিক অবস্থা ভাল ছিল না। অক্সিজেন সাপোর্টে ছিল। ফলে আগুন লাগার পরে দৌড়ে দু'জনে যে নীচে নেমে যাব, সেই পরিস্থিতি ছিল না। সেই সময় হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয় দরজা খুলে বলে যায় বেরিয়ে আসুন, তারপরেই সে চলে যায় কোনও সাহায্য না করে। চারিদিকে ততক্ষণে ধোঁয়া ভরে গিয়েছে। বুঝতে পারি আমাদের সাহায্য করার জন্য কেউ এ গিয়ে আসার মতো নেই। সবাই নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত। ঠিক করি, নিজেই স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালের বাইরে বেরোবো।"

    মাধুরী বলেন, "জানেন,  স্বামীকে মরা পশুর মতো সেদিন টানতে টানতে হাসপাতালের বাইরে বের করে নিয়ে এসেছি অন্ধকার করিডর দিয়ে।" দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বৃদ্ধা বলেন, "সে দিন বাইরে বেরিয়ে আসার পরে হাসপাতালের বাইরে এক ঘণ্টারও বেশি আমাদের দু'জনেকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল চিকিৎসা পাওয়ার জন্য। মাধুরী আতঙ্কিত গলায় আরও বলেন, "চেতনকে নিয়ে যখন বাইরে বেরিয়ে এসেছি, তখন দেখি এক যুবতী দু'জন বৃদ্ধ মানুষকে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে। যুবতীকে অনুসরণ করা শুরু করলাম। দেখলাম তখনও লিফট ব্যাকআপ পাওয়ারের সাহায্যে কাজ করছে। ভাবলাম লিফটে করে একতলা পর্যন্ত নেমে যাই, তারপর সিঁড়ি দিয়ে নেমে যাব বাকিটা। সেভাবেই কোনও মতে প্রাণে বেঁচেছি।"

    উল্লেখ্য, মুম্বইয়ের ডিসিপি প্রশান্ত কুমার বলেন, শুক্রবার ভন্ডুপের সানরাইজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ১০ করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়।  মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে অগ্নিকাণ্ডের পরে এলাকা পরিদর্শনে যান। যারা ঘটনার জন্য দায়ী চিহ্নিত হবে, তাদের কথর শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনকে। মৃতদের পরিবারের প্রতি গভী সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ৫ লক্ষ টাককা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেন।

    Published by:Shubhagata Dey
    First published:

    লেটেস্ট খবর