হাতে ‘তিরঙ্গা’, মুখে ‘জন গণ মন’, CAA-র প্রতিবাদে অহিংস আন্দোলনের পথে দেশের মুসলিমরা

হাতে ‘তিরঙ্গা’, মুখে ‘জন গণ মন’, CAA-র প্রতিবাদে অহিংস আন্দোলনের পথে দেশের মুসলিমরা
Demonstrators hold the national flag of India as they attend a protest against a new citizenship law, after Friday prayers at Jama Masjid (Reuters)

দেশের মুসলিমদের একটা বড় অংশ এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন ৷ এর জন্য দেশের প্রায় সর্বত্রই আন্দোলন চলছে ৷ যে আন্দোলনে হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদেরও সমর্থন পেয়েছেন তাঁরা ৷ এখন তাই মুসলিমদের ভরসা ‘তিরঙ্গা’, ‘অহিংসা’ এবং ‘জন গণ মন’ ৷

  • Share this:

Rasheed Kidwai

#নয়াদিল্লি: নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতীয় মুসলিমদের ভয়ের কিছু নেই ৷ এমনটাই সম্প্রতি আশ্বাস দিয়েছিলেন দিল্লির জামা মসজিদের শাহি ইমাম ৷ নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ যাতে নিয়ন্ত্রণের গণ্ডি না ছাড়ায় তার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি ৷ পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন যে নাগরিকত্ব আইন ভারতীয় মুসলিমদের জীবনে কোনও রকম প্রভাব ফেলবে না। এই আইন নিয়ে সবাইকে ভয় না পেতে অনুরোধ জানান তিনি।

দিল্লির জামা মসজিদের শাহি ইমাম বলেন, 'নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি)-র মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সিএএ আইনে পরিণত হয়েছে কিন্তু এনআরসি শুধুমাত্র ঘোষিত হয়েছে, আইনে পরিণত হয়নি। নাগরিকত্ব আইনে ভারতীয় মুসলিমদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীরা এই আইনের কারণে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবে না। ভারতীয় মুসলিমরা যেমন আছেন, তেমন থাকবেন।'

তবে সিএএ নিয়ে শাহি ইমাম যাই বলুক না কেন ৷ দেশের মুসলিমদের একটা বড় অংশ এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন ৷ এর জন্য দেশের প্রায় সর্বত্রই আন্দোলন চলছে ৷ যে আন্দোলনে হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদেরও সমর্থন তাঁরা পেয়েছেন ৷ এখন তাই মুসলিমদের ভরসা ‘তিরঙ্গা’, ‘অহিংসা’ এবং ‘জন গণ মন’ ৷ সরকারকে জবাব দিতে এভাবেই অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নিচ্ছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ৷ যুগ-যুগ ধরে এ দেশের নাগরিক তারা ৷ এ দেশের নাগরিকত্ব তাদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় ৷ এর জন্য যে কোনও প্রকারের আন্দোলনে যেতে রাজি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ ৷ ‘তিরঙ্গা’ ভারতের সব নাগরিকদের শান ৷ সেই তিরঙ্গা পতাকা হাতেই অহিংস আন্দোলনে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন দেশের মুসলিমদের একাংশ ৷

ঝাড়খণ্ডে দিন কয়েক আগে নির্বাচনী বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে এই আইন ভারতীয় নাগরিকের কোনও অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে না বা কোনও ক্ষতি করছে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘ ‌আমি দেশের নাগরিকদের আশ্বাস দিচ্ছি যে এই আইন তাঁদের ওপর কোনও ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কংগ্রেস এবং তার জোটদলগুলি নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার্থে মুসলিমদের উস্কানি দিচ্ছে।’‌’

সংসদে নাগরিকত্ব বিল পাশ হওয়ার পর দেশ জুড়ে আন্দোলনের ঘূর্ণিঝড়। ক্ষোভে ফুঁসছে পশ্চিমবঙ্গও। সংখ্যালঘু মুসলিমরা বিপন্ন বোধ করছেন। ‘‌যত দোষ নন্দ ঘোষ’‌–এর শিকার যেন এখন তাঁরা। প্রতিবেশী পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান থেকে অনুপ্রবেশকারী হিন্দুদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, আর মুসলিমদের এই দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। নিজ দেশে পরবাসী হবেন তাঁরা। অন্য সম্প্রদায়ের মানুষ এদেশে শরণার্থী এবং নাগরিক, কিন্তু মুসলিমরা অনুপ্রবেশকারী, দেশদ্রোহী!‌ চরম বিভাজনের বিলে শুধুই মুসলিম বিদ্বেষ। মুসলিমদের একাংশের দাবি, দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকারের কাঠামোকেই যেন প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে সরকার ৷

First published: December 21, 2019, 8:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर