• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • WITH HOPE OF MIGRATION AFGHAN REFUGEES FLOCK TO CANADIAN EMBASSY IN DELHI SB

Afgan Refugees in India: চোয়াল উড়েছে তালিবানি গুলিতে, কারও মনে গভীর ক্ষত! দিল্লির পথে আফগান-দুঃস্বপ্ন

দুঃসহ অভিজ্ঞতা..

Afgan Refugees in India: কানাডা দূতাবাসের আধিকারিকরা তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন। ভিসার জন্য অনলাইন আবেদনের অনুরোধ করছেন। কিন্তু অসহায় আফগানিস্তানের নাগরিকরা কার্যত দিশেহারা।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি : 'কাবুলিওয়ালা' আজ বিপন্ন। প্রায় দু'দশক আগে তালিবানি অত্যাচারে দেশ ছেড়ে আসা, ভারতে বসবাসকারী আফগানি শরণার্থীরা চাইছেন ভারতের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশও তাদের পাশে দাঁড়াক। সেই আর্জি নিয়ে দিল্লিতে কানাডা দূতাবাসের সামনে কার্যত ধর্ণায় বসেছেন শতাধিক আফগান নারী-পুরুষ। পোস্টারে "আমাদের সাহায্য করুন", "তালিবানদের হাত থেকে বাঁচান", "মহিলাদের সম্মান রক্ষায় সাহায্য করুন", ইত্যাদি লিখে দূতাবাসের সামনে বসে রয়েছেন শতাধিক আফগানি মহিলা।

কানাডা দূতাবাসের আধিকারিকরা তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করছেন। ভিসার জন্য অনলাইন আবেদনের অনুরোধ করছেন। কিন্তু অসহায় আফগানিস্তানের নাগরিকরা কার্যত দিশেহারা। স্ত্রী সন্তান এবং অন্যান্যদের নিয়ে যারা দূতাবাসের সামনে এসেছেন তাদের অনেকেই আফগান পুলিশের চাকরি করেছেন। শরীরে গুলির ক্ষত এখনো দগদগে। মনে গেঁথে আছে তালিবানি সন্ত্রাসের ভয়ানক স্মৃতি।কথায় কথায় জানা গেল, ওঁরা হাজারি সম্প্রদায়ের মানুষ। আফগানিস্থানে সুন্নি সম্প্রদায়ভুক্ত এই হাজারি সম্প্রদায় সংখ্যালঘু। বর্বর তালিবানদের উদ্ধত বন্দুকের প্রথম 'টার্গেট' হন এই হাজারি সম্প্রদায়ের মানুষরা। তাই আর নিজেদের দেশ আফগানিস্থানে ফিরতে চাইছেন না ওরা কেউই।কথা হচ্ছিল বছর ১৮-র মহিউন্নেশার সঙ্গে। তালিবান সন্ত্রাসের ভয়ঙ্কর চেহারা দেখে ১৭ বছর আগে একরত্তি মেয়েকে বুকে নিয়ে ভারতে এসেছিলেন মহিউন্নেশার বাবা-মা। ছলছল চোখে অষ্টাদশী মেয়েটি জানাচ্ছিলেন, "আমরা আর কখনোই দেশে ফিরতে চাই না। কিন্তু এদেশে আমাদের চলবে কি করে ? এতদিন আফগানিস্তান থেকে নানা কারণে ভারতে যারা আসতেন, দোভাষীর কাজ করে তাদের কাছ থেকে কিছু রোজগার হত। এখন যা পরিস্থিতি তাতে সেই রোজগারও বন্ধ। তাই ভারতের মতো অন্যান্য দেশের কাছেও আমরা সাহায্যের অনুরোধ জানাচ্ছি। সেই কারণেই আমরা কানাডা দূতাবাস মারফত কানাডা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।"

অন্যদিকে, নৃশংস অত্যাচারী তালিবানদের গুলিতে গুরুতর জখম হয়েও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন এক যুবক। গত কয়েক বছর ধরে তিনি দিল্লীতে বসবাস করছেন। বছর তিরিশের বক্তার খান তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন। আফগান পুলিশে চাকরি করার সময় তালিবানদের গুলি লেগেছিল তার চোয়ালে। উড়ে যাওয়া সেই চোয়াল অপারেশন করে প্রাণে বেঁচেছেন বক্তার। নকল দাঁতের পাটি খুলে বক্তার বলছিলেন, "আমরা হাজারি সম্প্রদায়ের মানুষ। আফগানিস্থানে যা সুন্নি মুসলমান। সংখ্যালঘু। তালিবানদের চোখের বালি। তার উপর পুলিশে চাকরি করেছি। চেহারা এবং গলার স্বর তালিবানদের চেনা। নিজের দেশে ফেরার কথা ভেবেছিলাম। তা আর বাস্তবায়িত হল না।"

দূতাবাসের সামনে শরণার্থীদের এই জমায়েত রীতিমতো অস্বস্তিতে ফেলেছে দিল্লি পুলিশকে। কড়া নিরাপত্তার বলয় থাকলেও মানবিকতার খাতিরে তাদের হটিয়ে দিতে মন চাইছে না পুলিশ কর্মীদের। দূতাবাসের আধিকারিক শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে খুব একটা আশ্বাস মেলেনি।আফগান শরণার্থীদের এই ধর্ণায় সমর্থন জানিয়ে হাজির হয়েছিলেন পেশায় দন্ত চিকিৎসক আমানউদ্দিন খান। ছোটবেলায় তালিবানদের গুলিতে মামাকে হারিয়ে বাবা-মার সঙ্গে দিল্লিতে এসে উঠেছিলেন আজকের যুবক আমানউদ্দিন। সম্প্রতি করোনায় বাবাকে হারিয়েছেন তিনি। বয়স ৩৫ বছর। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনিশ্চয়তার কথা ভেবে তিনি বৈবাহিক সম্পর্কেও যেতে চান না।

Published by:Suman Biswas
First published: