পাহাড়ের ভোটকে অনেকটাই প্রভাবিত করবেন ‘নিখোঁজ’ বিমল গুরুং

পাহাড়ের ভোটকে অনেকটাই প্রভাবিত করবেন ‘নিখোঁজ’ বিমল গুরুং
  • Share this:

লোকসভা নির্বাচনে পাহাড়ের রাজনীতি কী নতুন মোড় নেবে? বিশিষ্ট সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্র-এর কলমে পড়ুন বিশ্লেষণ৷

#কলকাতা: কোনও সন্দেহ নেই, এখনও আত্মগোপনকারী নেতা বিমল গুরুং পাহাড়ের মনের মানুষ এবং একথাও সত্যি, শান্তি ফিরিয়ে এনে এবং উন্নয়নের কারণে পাহাড়ে তৃণমূল কংগ্রেস বাড়ছে।

লোকসভা নির্বাচনে, দার্জিলিং আসন জেতা গত ১০ বছর ধরে ছিল বিজেপির বাঁয়ে হাতকি খেল! তার আগে কংগ্রেসও নিয়ন্ত্রণ করেছে এই আসন বেশ কিছু কাল। আর এবারের লোকসভা ভোটে, অনেক দিন পর, পাহাড়ে সমতলের কোনও আঞ্চলিক দল মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

বিজেপি এবারও দার্জিলিঙে প্রার্থী দিয়েছে, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার বিমল গুরুং শিবির এবং জিএনএলএফ-এর সমর্থনে। অন্যদিকে, মোর্চার বিনয় তামাং শিবিরের সমর্থনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছেন, পাহাড়ে মোর্চার বিধায়ক শিক্ষক নেতা অমর সিং রাই। বিজেপির প্রার্থী, সূর্য বাল্ব কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজু বিস্তা ৷

এই মণিপুরী তরুণ রাজনাথ সিং ঘনিষ্ঠ বলে খবর। নানা ধরনের সামাজিক কাজ কর্মের সঙ্গে তিনি জড়িত, সেটাই তাঁর রাজনীতিতে আসার যোগ্যতা, এমন কথা লেখা হচ্ছে সোশাল মিডিয়ায়। তবে এটা ঠিক, এবার মোর্চা সমর্থকেরা একজন ভূমিপুত্রকে চেয়েছিল প্রার্থী হিসেবে, সেটা না হওয়ায় বিমল গুরুঙের কাছের মানুষ স্বরাজ থাপা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমস্ত পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যদিও এই ক্ষোভ ভোটের বাক্সে কোনও প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না।

পাহাড়ে বিনয় তামাংপন্থী মোর্চা শিবির তৃণমূলের পাশে। কিন্তু বিনয়ের জনপ্রিয়তার এখনও কোনও পরীক্ষা হয়নি। তাঁর জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত হলে তাঁকেই প্রার্থী করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তা তিনি করেননি।

দার্জিলিং লোকসভা আসনের মধ্যে থাকা বিধানসভা আসনগুলির একটি আসনও তৃণমূলের নয়। যদি দেখা যায় ২০১৪ লোকসভা ভোটের নিরিখে, তাহলে দেখা যাবে কালিম্পঙ, কার্শিয়ং, দার্জিলিং, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, শিলিগুড়ি, ফাঁসি দেওয়া, সব ক’টি আসনে বিজেপি জয়ী হয়েছিল। বিজেপি ওই লোকসভা আসন জিতেছিল প্রায় দু’লক্ষ ভোটে। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটেও এই ছয়টি আসনের একটিও তৃণমূল পায়নি। সমতলের তিনটি আসন পেয়েছিল কংগ্রেস- বাম জোট। পাহাড়ে একতরফা জয়ী হয়েছিল মোর্চা।

এবারে কী হতে পারে? কংগ্রেস-সিপিএম কোনও দলই এই লোকসভা আসন জিতবে না।  পাঁচ বছর আগের তুলনায় তৃণমূলের সমর্থন বেড়েছে এই আসনে। পাঁচ বছর আগে দার্জিলিং আসনে তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পেয়েছিল ২৫ শতাংশ। বিজেপি ৪৮ শতাংশ। বাম-কংগ্রেসের মিলিত ভোট ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। বাম-কংগ্রেসের এই ভোট ধরে রাখার সম্ভাবনা এবারে কম। বিজেপি গত লোকসভা ভোটে পাহাড়ের তিনটি আসন, কালিম্পঙ, দার্জিলিং, কার্শিয়ংয়ে ৬৫, ৬৫, ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সমতলে নেমে সেই শতাংশের হার অর্ধেক হয়ে গিয়েছিল।

এবার পাহাড়ে মোর্চার বিনয় শিবির সমর্থিত তৃণমূলের প্রার্থী অমর সিং রাই কিন্তু বিজেপির সমর্থনে ভাগ বসাবেন। গতবারে তৃণমূল কংগ্রেস পাহাড়ের তিনটি আসনে গড়ে ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবারে তা বাড়বে। কতটা বাড়বে তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে ভোটের ফল। দার্জিলিং আসনের সমতলের তিনটি আসনে বাম-কংগ্রেস ২০১৪-র লোকসভা ভোটে যে ভোট পেয়েছিল, সেটাও তারা ধরে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না। বাম-কংগ্রেস মিলিত ভাবে ২০১৪ সালে পাহাড়ের তিনটি আসনে ২-৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সমতলের তিনটি আসনে মিলিত ভাবে পেয়েছিল, ৩৩, ২৮, ৩৮ শতাংশ ভোট। এই ভোট কমলে, সেটা কোন বাক্সে যাবে? সম্ভবত তৃণমূলের বাক্সে। কারণ বিমল গুরুং-এর আন্দোলনের সঙ্গে সমতলের একটা দ্বন্দ্ব কোনও গোপন কথা নয়।

ফলে সমতলের দল তৃণমূলকেই হয়তো ভোটাররা বেছে নেবেন। একটা প্রশ্ন উঠতেই পারে, কংগ্রেস-বামেদের মধ্যে কোনও আসন সমঝোতা হয়নি, তাহলে কেন এই দুই দলের ভোটের হিসেব মিলিত ভাবে করা হল? কারণ একটাই, নানা কারণে এই দুই রাজনৈতিক শক্তিই এই মুহূর্তে ক্ষয়িষ্ণু, প্রভাব নিম্নমুখী। তাই মিলিত ভাবে হিসেব কষা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ভূমিপুত্র প্রার্থীর দাবিতে বিমল গুরুং ঘনিষ্ঠ এক নেতা পদত্যাগ করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে মোর্চার অভ্যন্তরে বেশি জলঘোলা হলে, তার সুবিধে কিন্তু পাবেন তৃণমূল প্রার্থী আমর সিং রাই। পাহাড়ের আর এক নেতা, জন আন্দোলন পার্টির হরকা বাহাদুর ছেত্রী সম্ভবত প্রার্থী হচ্ছেন। হলে তিনি দশটা ভোট কাটলেও সেটা কার ভোট? সেটা নিয়েও এখনই শুরু হয়ে গিয়েছে কাটা-ছেঁড়া হিসেব।

এই প্রতিবেদনে যাবতীয় মত ও বক্তব্য লেখকের ব্যক্তিগত৷ 

First published: 09:48:36 PM Apr 25, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर