মাটি খুঁড়তেই আত্মপ্রকাশ মুঘল আমলের কুণ্ডের, প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারে চাঞ্চল্য দেশে!

মাটি খুঁড়তেই আত্মপ্রকাশ মুঘল আমলের কুণ্ডের, প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারে চাঞ্চল্য দেশে!
মুঘল আমলের এই কুণ্ডটি খুঁজে পেয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। মুঘল আমলের অনেক প্রাসাদের বাগানেই এই ধরণেই কুণ্ডের অস্তিত্ব মিলেছে।

মুঘল আমলের এই কুণ্ডটি খুঁজে পেয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। মুঘল আমলের অনেক প্রাসাদের বাগানেই এই ধরণেই কুণ্ডের অস্তিত্ব মিলেছে।

  • Share this:

#নয়া দিল্লি: আদতে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে চলছিল টোডরমল বারাদারির সংরক্ষণ এবং সৌন্দর্যায়ণের কাজ। ফতেহপুর সিক্রির এই শতাব্দীপ্রাচীন ইমারতের অবস্থা বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছিল রীতিমতো করুণ অবস্থায়। আর তারই এক খোঁড়াখুঁড়ির মাঝে বেরিয়ে এল এক কুণ্ড। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন যে এটি মুঘল আমলের স্থাপত্যের এক নিদর্শন।

আগ্রার সুপারিনটেনডেন্ট আর্কিওলজিস্ট বসন্ত স্বরানকর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে সদ্য আবিষ্কৃত হওয়া এই কুণ্ডটির মাঝে রয়েছে এক ফোয়ারা। তা লম্বায় ৮.৭ মিটার এবং গভীরতায় ১.১ মিটার। বসন্ত জানিয়েছেন যে কুণ্ডটির মেঝে এবং চারপাশের দেওয়ালে রয়েছে পঙ্খের কাজ।

পঙ্খের কাজ বলতে আসলে চুনকামকে বোঝায়। সে আমলে ঝিনুক প্রভৃতি প্রাণীর খোলা পুড়িয়ে তা থেকে তৈরি করা হত অতি মিহি গুঁড়ো। তার সঙ্গে শাঁখের গুঁড়ো মিশিয়ে তৈরি করা হত এক ধরনের আস্তরণ। প্রয়োজন অনুসারে তা লেপে দেওয়া হত ঘরের দেওয়াল বা কোনও স্থাপত্যের গায়ে।


এই জায়গায় এসে টোডরমল বারাদারি নিয়েও সামান্য কিছু না বললেই নয়। বারাদারি কথাটা এসেছে বারোটি দরজার অনুষঙ্গে। মুঘল স্থাপত্যের পরিচায়ক এই বাড়ির চার দিক ঘিরে ছিল বারোটি দরজা। সেই কারণেই তাকে বলা হত বারাদারি। বাড়ির মালিকের নামটিও জুড়ে যায় স্থানমাহাত্ম্য বোঝাতে।

এই রাজা টোডরমল ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবরের সমসাময়িক। তিনি ছিলেন আকবরের আমলে মুঘল শাসিত ভারতের অর্থমন্ত্রী। আকবরের নবরত্ন সভার অন্যতম পার্ষদও ছিলেন টোডরমল। বলা হয়ে থাকে, তিনিই প্রথম জমি জরিপ করে সেই অনুসারে খাজনা আদায়ের বন্দোবস্ত প্রবর্তন করেছিলেন এই দেশে। কালক্রমে যা অনুসরণ করেছিল ব্রিটিশ শাসকরাও।

এ হেন টোডরমলের আবাসগৃহটি সংস্কার করতে গিয়েই মুঘল আমলের এই কুণ্ডটি খুঁজে পেয়েছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া। মুঘল আমলের অনেক প্রাসাদের বাগানেই এই ধরণেই কুণ্ডের অস্তিত্ব মিলেছে। ফতেহপুর সিক্রির প্রাসাদে তা আছে, রয়েছে দিল্লির লাল কেল্লাতেও। বলা হয়, এই ধরনের কুণ্ডগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগ থাকত নিকটবর্তী নদীর। সেখান থেকে জল এসে তা খেলা করে বেড়াত কুণ্ডে, উপচে পড়ত ফোয়ারা বেয়ে।

সঙ্গত কারণেই টোডরমলের বাসভবনের কাছে এরকম একটি কুণ্ড আবিষ্কার করে রীতিমতো আনন্দিত আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে এফ ইন্ডিয়া। সংগঠন জানিয়েছে যে আপাতত তারা বারাদারির চারপাশ ভালো করে খুঁজে দেখবে। যদি আরও কিছু স্থাপত্যকীর্তি পাওয়া যায়, তা হলে সেই সব একত্রে সংস্কার করে নতুন রূপে পর্যটকদের কাছে ধরা দেবে টোডরমলের বাড়ি!

Published by:Piya Banerjee
First published: