Vijay Diwas 2020| আজকের দিনে একাত্তরের যুদ্ধে ভারতের কাছে হার মেনেছিল পাকিস্তান, স্মরণে সেই বিজয়গাথা!

Vijay Diwas 2020| আজকের দিনে একাত্তরের যুদ্ধে ভারতের কাছে হার মেনেছিল পাকিস্তান, স্মরণে সেই বিজয়গাথা!

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই যুদ্ধ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই যুদ্ধ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

  • Share this:

#কলকাতা: উপমহাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। চিরকাল এক বিজয় গাথা শোনাবে। শোনাবে বিজয় দিবসের কাহিনি। ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশের মুক্তির লড়াই (Bangladesh Liberation War) আর ভারত-পাকিস্তানের (India Pakistan War) সেই যুদ্ধ ইতিহাসের পাতায় আজও স্বমহিমায় উজ্জ্বল। ৭১-এর যুদ্ধে সে দিন পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করেছিল ভারত। গঠন হয়েছিল বাংলাদেশ (Bangladesh)। সব চেয়ে বড় বিষয় হল, সে দিন ভারতীয় সেনার সম্মিলিত শক্তি প্রদর্শন হয়েছিল শত্রুপক্ষের সামনে। যুদ্ধ শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর। প্রায় ১৩ দিন পর অর্থাৎ ১৬ ডিসেম্বর পরাজয় স্বীকার করে পাকিস্তানের সেনা। আর স্বাধীনতার স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের (Muktijuddho) পটভূমি। সম্মুখ সমরে মুখোমুখি হয় ভারত (India) ও পাকিস্তান (Pakistan)। মানুষজনের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান অত্যাচার আর পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনী ফল, সব মিলিয়ে একটা যুদ্ধ পরিস্থিতির আতঙ্ক দানা বাঁধছিল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে। ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এই স্বাধীনতার ইচ্ছেকে পূর্ণ সমর্থন করেন।

বাঙালি বিশেষ করে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে একের পর এক খবর ছাপতে শুরু করে সেই সময়ের পত্র-পত্রিকায়। পাকিস্তানের সেনার নানা ধরনের কার্যকলাপও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। সেদিন প্রায় ১ কোটি মানুষকে প্রতিবেশী দেশ ভারতে আসতে হয়েছিল। বাঙালি উদ্বাস্তুদের জন্য সীমান্তের দরজা খুলে দিয়েছিল ভারত।

ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের নানা জায়গা সহ আগ্রায় পাকিস্তানের বায়ু সেনার বেশ কয়েকটি হামলায় ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। শুরু হয়ে যায় যুদ্ধের প্রস্তুতি।

পালটা জবাব দেয় ভারতীয় বায়ু সেনা (Indian Air Force)। পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে যুদ্ধ বিমানের মাধ্যমে হামলা শুরু হয়। ভারতের আক্রমণের জবাবে ফের পালটা দেয় পাকিস্তানের সেনাও। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি বায়ু সেনা ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয় ভারত।

এদিকে তৈরি ছিল ভারতীয় নৌ সেনার ওয়েস্টার্ন কমান্ড। ৪-৫ ডিসেম্বরের রাতে মিশন ট্রাইডেন্টের অধীনে করাচি বন্দরের উপর সফল ভাবে আক্রমণ করে নৌ সেনা। পরের দিকে ভারতের সেনা পাকিস্তানের কয়েক হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা অধিগ্রহণ করে।

যুদ্ধে পাকিস্তানের দারুণ ক্ষতি হয়। মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০০০ । জখম হয় ২৫,০০০। অন্য দিকে ভারতে মৃতের সংখ্যা ছিল ৩০০০। জখম ১২,০০০।

এ দিকে পাকিস্তানের সেনাদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তি বাহিনী ভারতীয় সেনার সঙ্গে হাত মেলায়। ভারতীয় সেনার কাছ থেকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দুই নেয় মুক্তি বাহিনী (Mukti Bahini)।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এই যুদ্ধ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সেই সময় পূর্ব পাকিস্তানের মুক্তি যুদ্ধকে সমর্থন করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। কিন্তু রিচার্ড নিক্সনের প্রতিনিধিত্বে পাকিস্তানকে অর্থের জোগান দিয়েছিল আমেরিকা।

যুদ্ধের শেষে পাকিস্তান সেনার জেনেরাল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজির (Amir Abdullah Khan Niazi) নেতৃত্বাধীন প্রায় ৯৩,০০০ সৈনিক ভারতীয় সেনা ও মুক্তি বাহিনীর সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করে। ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি অনুযায়ী পিছু হটে পাকিস্তান সেনা।

Published by:Pooja Basu
First published: