• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের যুগ শেষ, কৃষকদের উন্মুক্ত বাজার দেবে নয়া আইন

ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের যুগ শেষ, কৃষকদের উন্মুক্ত বাজার দেবে নয়া আইন

অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে এই সবের পাশাপাশিই FPO-তে অধিক পরিমাণ বিনিয়োগের কথা ভাবা উচিৎ সরকারের। নতুন নতুন FPO নিয়ে আসা উচিৎ এবং বর্তমান FPO-তে জনকল্যাণমূলক সংস্কারসাধন করা উচিৎ। তাহলে ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার আশা থাকবে বলে দাবি করছেন তাঁরা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে এই সবের পাশাপাশিই FPO-তে অধিক পরিমাণ বিনিয়োগের কথা ভাবা উচিৎ সরকারের। নতুন নতুন FPO নিয়ে আসা উচিৎ এবং বর্তমান FPO-তে জনকল্যাণমূলক সংস্কারসাধন করা উচিৎ। তাহলে ক্ষুদ্র কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার আশা থাকবে বলে দাবি করছেন তাঁরা।

এক সময়ে হয়তো এই ব্যবস্থা কার্যকরী ছিল ঠিকই৷ কারণ তখন কেন্দ্রীয় সরকারই কৃষি পণ্যের সর্ববৃহৎ ক্রেতা ছিল৷ কিন্তু পঞ্চাশ বছর পরেও সেই ব্যবস্থাই সময়োপযোগী হবে, তেমনটা নয়৷

  • Share this:

    #পুণে: সরকারি মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা হয়তো ক্ষুদ্র স্বার্থ সিদ্ধি করতে পারে৷ কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী ভিত্তিতে তা সমস্যারই উদ্রেক ঘটায়৷ অন্তত ভারতেই একাধিক ক্ষেত্রে এমন সমস্যার উদাহরণ রয়েছে৷

    জ্বালানির দাম সরকার নির্ধারণ করার পুরোন পদ্ধতির জেরে এক অয়েল বন্ড ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল ভারত৷ দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে পেট্রোল- ডিজেলের খুচরো মূল্য নির্ধারণ হচ্ছে৷ ক্ষুদ্র সঞ্চয় ব্যবস্থাতেও সরকার নির্ধারিত সুদের হার এতদিনে বাস্তবসম্মত পদ্ধতির মধ্যে আসছে৷ প্রভিডেন্ট ফান্ডের ক্ষেত্রেও সুদের হার নির্ধারণের দায়িত্ব নিজের উপর থেকে ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসা একাধিক সরকার৷

    ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্য যদি মুখ থুবড়ে পড়ে তাহলে কৃষি ক্ষেত্র কীভাবে তার ব্যতিক্রম হবে? অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, একই চেষ্টা বার বার করে ভিন্ন ভিন্ন ফল আশা করাটা পাগলামি৷ কিন্তু ভারতীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় এই পন্থাকেই সঠিক নীতি মনে করা হয়৷

    ন্যূনতম সহায়ক মূল্য সবুজ বিপ্লব পরবর্তী সময় থেকে চলে আসা ব্যবস্থা৷ যেহেতু সেই সময় ভারত কৃষি উৎপাদন রাতারাতি বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং সরকার চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে চেয়েছিল, তাই সেই সময়ে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থা চালু হয়৷ লক্ষ্য ছিল খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া সমস্ত কৃষিজ উৎপাদনই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দিয়ে সরকার কিনে নেবে৷

    এক সময়ে হয়তো এই ব্যবস্থা কার্যকরী ছিল ঠিকই৷ কারণ তখন কেন্দ্রীয় সরকারই কৃষি পণ্যের সর্ববৃহৎ ক্রেতা ছিল৷ কিন্তু পঞ্চাশ বছর পরেও সেই ব্যবস্থাই সময়োপযোগী হবে, তেমনটা নয়৷ বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার ২৩টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য স্থির করে৷ কিন্তুকোনওটির ক্ষেত্রেই উৎপাদিত ফসলের পুরোটা সরকার কেনে না৷ আবার রাজ্য সরকারগুলির কেন্দ্রের স্থির করা ন্যূনতম মূল্যেই ফসল কেনার কোনও দায়বদ্ধতা নেই৷ যদিও রাজ্যগুলি কেন্দ্রের স্থির করা দাম দেওয়ার চেষ্টা করে৷ ফলে যে কৃষকরা বড় বড় জমিতে চাষ করেন, বাজারের জন্য উদ্বৃত্ত ফসল রেখে তাঁরাই সরকারের কাছে ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতেন৷

    এই সমস্যা মেটাতেই সরকার অবশ্যম্ভাবী সমাধান নিয়ে এগিয়ে এসেছে৷ কৃষকরাই যাতে নিজেরা বেসরকারি ক্রেতাকে খুঁজে নিতে পারেন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে উৎপাদিত ফসলের মানও বাড়ানো যায়, সেই লক্ষ্যও পূরণ করার চেষ্টা হয়েছে৷ নতুন তিনটি কৃষি আইনের সুফল ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে৷

    নাশিকে সহাদ্রি ফার্মস ফার্মার প্রোডিউসার অর্গানাইজেশন-এর আওতায় থাকা কৃষকরা ইতিমধ্যেই অনলাইন বিপণন ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি শহরের বাসিন্দা ক্রেতাদের কাছে ফসল বেচতে শুরু করেছেন৷ মধ্যপ্রদেশের পিপারিয়াতে একজন ছোট কৃষক নতুন কৃষি আইনকে কাজে লাগিয়েই বড় একটি বেসরকারি সংস্থার থেকে চুক্তি অনুযায়ী ধানের দাম আদায় করেছেন৷ আবার মহারাষ্ট্রের একজন কৃষক মধ্যপ্রদেশের বরওয়ানির ব্যবসায়ীর থেকে ফসলের ন্যায্য দাম পেয়েছেন নতুন আইনের বলে৷ অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার কৃষকদের সংগঠনের একাংশও এই নতুন আইনের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছেন৷

    নতুন এই আইনের ফলে কৃষি পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হবে, নতুন ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হবে কৃষকদের৷ পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সাহায্যও পাবেন কৃষকরা৷ নিনজাকার্ট এবং ওয়েকুল-এর মতো সংস্থাগুলি ছোট কৃষকরা যাতে সরাসরি ক্রেতাদের ফসল বিক্রি করতে পারেন বা চুক্তি করতে পারেন, সেই পরিকাঠামো তৈরি করছে৷ নতুন উদ্ভাবনী পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিকে যে কৃষকরা অবলম্বন করতে চান, তাঁদের সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছে কৃষিজ পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা৷

    ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রের জন্য এখন ঠিক এটাই প্রয়োজন৷ কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে স্থানীয় স্তরে বা দেশের মধ্যে চাহিদাও বাড়বে৷ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি মাথায় রেখেও বলা যায়, ভারত এখন খাদ্যে স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে৷ কৃষকদের কাছে বাজার বেশি করে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার আসল সুফল মিলবে রপ্তানী থেকে৷ ২০২২ সালের মধ্য ভারত কৃষিজ পণ্যের রপ্তানীর পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে৷ গত দু'টি অর্থবর্ষে যা ছিল ৪০ বিলিয়ন ডলারের নীচে৷ এখানেই নতুন কৃষি আইন কৃষকদের সাহায্য করবে৷ তবে এর সুফল তাঁরাই পাবেন যাঁরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের গতে বাঁধা নিয়ম থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন৷

    ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কৃষি পরিকাঠামো এবং সরবরাহে বেশি করে বিনিয়োগ প্রয়োজন৷ এর পাশাপাশি হিমঘর নির্মাণ এবং প্রযুক্তি নির্ভর বিপণন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা প্রয়োজন৷ বেসরকারি সংস্থাগুলি এই সমস্ত প্রকল্পে তখনই অর্থ ঢালবে যখন খোলা বাজার থেকে তারা কৃষি পণ্য কেনার সুযোগ পাবে৷ যথাযথ ব্যবসায়িক চুক্তি, দীর্ঘ মেয়াদী লেনদেনের সুযোগ এবং দ্রুত বিবাদের নিষ্পত্তির বিষয়গুলি নিশ্চিত হলেই বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে বেসরকারি সংস্থাগুলি৷ ভারতীয় কৃষি ক্ষেত্রকে এমনিতেই পিছিয়ে দিয়েছে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থা৷ ফলে ভারতীয় কৃষকদের জন্য বৃহত্তর বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য এর থেকে ভাল সময় আর হয় না৷

    Aashish Chandorkar (লেখক পুণের স্মাহি ফাউন্ডেশন, একটি পাবলিক পলিসি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক-এর ডিরেক্টর)

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: