দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের যুগ শেষ, কৃষকদের উন্মুক্ত বাজার দেবে নয়া আইন

ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের যুগ শেষ, কৃষকদের উন্মুক্ত বাজার দেবে নয়া আইন
প্রতীকী ছবি৷ Photo-Reuters

এক সময়ে হয়তো এই ব্যবস্থা কার্যকরী ছিল ঠিকই৷ কারণ তখন কেন্দ্রীয় সরকারই কৃষি পণ্যের সর্ববৃহৎ ক্রেতা ছিল৷ কিন্তু পঞ্চাশ বছর পরেও সেই ব্যবস্থাই সময়োপযোগী হবে, তেমনটা নয়৷

  • Share this:

#পুণে: সরকারি মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা হয়তো ক্ষুদ্র স্বার্থ সিদ্ধি করতে পারে৷ কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী ভিত্তিতে তা সমস্যারই উদ্রেক ঘটায়৷ অন্তত ভারতেই একাধিক ক্ষেত্রে এমন সমস্যার উদাহরণ রয়েছে৷

জ্বালানির দাম সরকার নির্ধারণ করার পুরোন পদ্ধতির জেরে এক অয়েল বন্ড ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল ভারত৷ দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে পেট্রোল- ডিজেলের খুচরো মূল্য নির্ধারণ হচ্ছে৷ ক্ষুদ্র সঞ্চয় ব্যবস্থাতেও সরকার নির্ধারিত সুদের হার এতদিনে বাস্তবসম্মত পদ্ধতির মধ্যে আসছে৷ প্রভিডেন্ট ফান্ডের ক্ষেত্রেও সুদের হার নির্ধারণের দায়িত্ব নিজের উপর থেকে ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসা একাধিক সরকার৷

ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্য যদি মুখ থুবড়ে পড়ে তাহলে কৃষি ক্ষেত্র কীভাবে তার ব্যতিক্রম হবে? অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বলেছিলেন, একই চেষ্টা বার বার করে ভিন্ন ভিন্ন ফল আশা করাটা পাগলামি৷ কিন্তু ভারতীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় এই পন্থাকেই সঠিক নীতি মনে করা হয়৷

ন্যূনতম সহায়ক মূল্য সবুজ বিপ্লব পরবর্তী সময় থেকে চলে আসা ব্যবস্থা৷ যেহেতু সেই সময় ভারত কৃষি উৎপাদন রাতারাতি বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং সরকার চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সামঞ্জস্য আনতে চেয়েছিল, তাই সেই সময়ে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থা চালু হয়৷ লক্ষ্য ছিল খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া সমস্ত কৃষিজ উৎপাদনই ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দিয়ে সরকার কিনে নেবে৷

এক সময়ে হয়তো এই ব্যবস্থা কার্যকরী ছিল ঠিকই৷ কারণ তখন কেন্দ্রীয় সরকারই কৃষি পণ্যের সর্ববৃহৎ ক্রেতা ছিল৷ কিন্তু পঞ্চাশ বছর পরেও সেই ব্যবস্থাই সময়োপযোগী হবে, তেমনটা নয়৷ বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার ২৩টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য স্থির করে৷ কিন্তুকোনওটির ক্ষেত্রেই উৎপাদিত ফসলের পুরোটা সরকার কেনে না৷ আবার রাজ্য সরকারগুলির কেন্দ্রের স্থির করা ন্যূনতম মূল্যেই ফসল কেনার কোনও দায়বদ্ধতা নেই৷ যদিও রাজ্যগুলি কেন্দ্রের স্থির করা দাম দেওয়ার চেষ্টা করে৷ ফলে যে কৃষকরা বড় বড় জমিতে চাষ করেন, বাজারের জন্য উদ্বৃত্ত ফসল রেখে তাঁরাই সরকারের কাছে ফসল বিক্রির ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতেন৷

এই সমস্যা মেটাতেই সরকার অবশ্যম্ভাবী সমাধান নিয়ে এগিয়ে এসেছে৷ কৃষকরাই যাতে নিজেরা বেসরকারি ক্রেতাকে খুঁজে নিতে পারেন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে উৎপাদিত ফসলের মানও বাড়ানো যায়, সেই লক্ষ্যও পূরণ করার চেষ্টা হয়েছে৷ নতুন তিনটি কৃষি আইনের সুফল ইতিমধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে৷

নাশিকে সহাদ্রি ফার্মস ফার্মার প্রোডিউসার অর্গানাইজেশন-এর আওতায় থাকা কৃষকরা ইতিমধ্যেই অনলাইন বিপণন ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সরাসরি শহরের বাসিন্দা ক্রেতাদের কাছে ফসল বেচতে শুরু করেছেন৷ মধ্যপ্রদেশের পিপারিয়াতে একজন ছোট কৃষক নতুন কৃষি আইনকে কাজে লাগিয়েই বড় একটি বেসরকারি সংস্থার থেকে চুক্তি অনুযায়ী ধানের দাম আদায় করেছেন৷ আবার মহারাষ্ট্রের একজন কৃষক মধ্যপ্রদেশের বরওয়ানির ব্যবসায়ীর থেকে ফসলের ন্যায্য দাম পেয়েছেন নতুন আইনের বলে৷ অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলেঙ্গানার কৃষকদের সংগঠনের একাংশও এই নতুন আইনের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছেন৷

নতুন এই আইনের ফলে কৃষি পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি হবে, নতুন ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হবে কৃষকদের৷ পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সাহায্যও পাবেন কৃষকরা৷ নিনজাকার্ট এবং ওয়েকুল-এর মতো সংস্থাগুলি ছোট কৃষকরা যাতে সরাসরি ক্রেতাদের ফসল বিক্রি করতে পারেন বা চুক্তি করতে পারেন, সেই পরিকাঠামো তৈরি করছে৷ নতুন উদ্ভাবনী পদ্ধতি এবং প্রযুক্তিকে যে কৃষকরা অবলম্বন করতে চান, তাঁদের সাহায্যের জন্য অপেক্ষা করছে কৃষিজ পণ্যের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা৷

ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রের জন্য এখন ঠিক এটাই প্রয়োজন৷ কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে স্থানীয় স্তরে বা দেশের মধ্যে চাহিদাও বাড়বে৷ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি মাথায় রেখেও বলা যায়, ভারত এখন খাদ্যে স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে৷ কৃষকদের কাছে বাজার বেশি করে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার আসল সুফল মিলবে রপ্তানী থেকে৷ ২০২২ সালের মধ্য ভারত কৃষিজ পণ্যের রপ্তানীর পরিমাণ ৬০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে৷ গত দু'টি অর্থবর্ষে যা ছিল ৪০ বিলিয়ন ডলারের নীচে৷ এখানেই নতুন কৃষি আইন কৃষকদের সাহায্য করবে৷ তবে এর সুফল তাঁরাই পাবেন যাঁরা ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের গতে বাঁধা নিয়ম থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন৷

ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কৃষি পরিকাঠামো এবং সরবরাহে বেশি করে বিনিয়োগ প্রয়োজন৷ এর পাশাপাশি হিমঘর নির্মাণ এবং প্রযুক্তি নির্ভর বিপণন ব্যবস্থাও গড়ে তোলা প্রয়োজন৷ বেসরকারি সংস্থাগুলি এই সমস্ত প্রকল্পে তখনই অর্থ ঢালবে যখন খোলা বাজার থেকে তারা কৃষি পণ্য কেনার সুযোগ পাবে৷ যথাযথ ব্যবসায়িক চুক্তি, দীর্ঘ মেয়াদী লেনদেনের সুযোগ এবং দ্রুত বিবাদের নিষ্পত্তির বিষয়গুলি নিশ্চিত হলেই বিনিয়োগে এগিয়ে আসবে বেসরকারি সংস্থাগুলি৷ ভারতীয় কৃষি ক্ষেত্রকে এমনিতেই পিছিয়ে দিয়েছে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ব্যবস্থা৷ ফলে ভারতীয় কৃষকদের জন্য বৃহত্তর বাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য এর থেকে ভাল সময় আর হয় না৷

Aashish Chandorkar (লেখক পুণের স্মাহি ফাউন্ডেশন, একটি পাবলিক পলিসি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক-এর ডিরেক্টর)

Published by: Debamoy Ghosh
First published: December 14, 2020, 3:19 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर