• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • COVID 19–এর বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধ!‌ নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে প্রাণ বাঁচাতে লড়ছেন চিকিৎসকরা

COVID 19–এর বিরুদ্ধে অসম যুদ্ধ!‌ নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে প্রাণ বাঁচাতে লড়ছেন চিকিৎসকরা

করোনায় মৃত বেড়ে ৮৩৷ PHOTO- FILE

করোনায় মৃত বেড়ে ৮৩৷ PHOTO- FILE

পাওয়া যাচ্ছে না মাস্ক, পিপিই কিট, কিছুই। তবু, তাঁদের তো লড়তেই হবে।

  • Share this:

    #‌নয়া দিল্লি:‌ এখন শত্রুকে দমন করার অস্ত্র আবিষ্কার হয়নি!‌ তাও লড়াইয়ের ময়দানে দাঁতে দাঁত চেপে লড়তে হচ্ছে সেনাকে। এ যেন এক অসম যুদ্ধ ক্ষেত্র। দেশ জোড়া করোনার বিরুদ্ধে চলা লড়াইয়ে এমনই এক অসম যুদ্ধ চালাচ্ছেন দেশের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীরা। ঢাল, তরোয়ালের অভাব, তাও লড়তে হচ্ছে রোজ।

    সমস্ত দেশেই এই সমস্যা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে পারছে না প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকার করেছে, দেশে ৫০ জন চিকিৎসক এখনও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে একজন চিকিৎসক ও নার্স করোনা আক্রান্ত হয়েছে‌ন। তারপর সেই হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সরা জানিয়েছেন, তাঁরা একাধিকবার পিপিই কিটের দাবি জানালেও তাঁদের তা দেওয়া হয়নি। তারপর থেকে বাধ্য হয়ে সেই হাসপাতাল অবরুদ্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ওখানে কতজন আক্রান্ত তা বোঝা মুশকিল। দিল্লি এইমসের ফিজিওলজি বিভাগের এক চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। দিল্লির মহল্লা ক্লিনিকের দুই চিকিৎসকও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এমনই অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে দেশ জুড়ে।

    দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, চার হাজার পিপিই কিটের আবেদন পড়ে রয়েছে কেন্দ্রের কাছে। যেখানে প্রয়োজন ৫০ হাজার। ছত্তিশগড়ের স্বাস্থ্য সচিব নীহারিকা বারিক সিং জানিয়েছেন, রাজ্যে পাঁচ হাজারের কম পিপিই কিট আছে, আমরা পেয়েছি মাত্র এক হাজার। এখনই ১০ হাজার না পেলে মুশকিল হয়ে যাবে। সারা দেশ জুড়েই এই সরঞ্জামের সংকটের কথা জানিয়েছেন জেলাশাসক, আইএএস অফিসারেরা।

    আর এই কম সরবরাহের মধ্যেই দিল্লি এইমসে শুধু করোনা চিকিৎসার জন্যই পিপিই কিট রেখে দেওয়া হচ্ছে, অন্য বিভাগের একটি সার্জিক্যাল মাস্কও জুটছে না। স্নায়ু জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, আমরা পুরনো মাস্ক পরে কাজ করছি। সেটিকে ধুয়ে আবার কাজে লাগাচ্ছি। দরকার মতো নিজেরাই আরও একটি স্তর যোগ করে নিয়ে কাজ করছি।

    পাটনার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ রোগীর মধ্যেই করোনা আক্রমণের কোনও লক্ষণ নেই। যতক্ষণ না টেস্ট করা হচ্ছে, বোঝা যাবে না। তাঁদের সামনে আমরা তো সুরক্ষা না নিয়েই কাজ করছি। সাধারণ মাস্কে এই কাজ করা যায় না। যাঁরা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করছেন, তাঁরা সবচেয়ে আতঙ্কে আছেন। জামশেদপুর হাসপাতালের চেহারাও একরকম। বেশিরভাগ চিকিৎসককে হাসপাতাল মাস্ক দিতে পারেনি। তাঁরা নিজেরা কিনে নিয়েছেন সেটি।

    পাটনা এইমসের পক্ষ থেকে নাম না করে বলা হয়েছে, তাঁরা অনেকদিন আগেই নিয়মিত পিপিই কিটের আবেদন করেছিলেন। সেগুলিই যা রয়েছে, নতুন করে আর কিছু তাঁরা পাননি। কিন্তু করোনা মোকাবিলার জন্য তো সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দরকার।

    সরকার ইতিমধ্যে এই সরবরাহ বাড়ানোর কাজ করতে শুরু করেছে। দেশের ১১টি সংস্থা থেকে ২১ লক্ষ কভার অল, সিঙ্গাপুরের একটি সংস্থা থেকে ১০ লক্ষ পিপিই কিট ও দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংস্থা থেকে ২০ লক্ষ কভার অল আনানোর কথা জানিয়েছে। এছাড়া দেশের দুটি সংস্থাকে ৫০ হাজার N‌‌95 মাস্ক বানানোর বরাত দিয়েছে কেন্দ্র। হিসাব করে দেখা গিয়েছে ভারতে প্রায় ৪০ লক্ষ N‌‌95 মাস্ক ‌দরকার। এপ্রিল মাসের ১০ তারিখ থেকে এগুলি আসতে শুরু করবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার। কাজ করছে ডিআরডিও। তৈরি করছে N99 মাস্ক।

    এরপরেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তো রয়েছেই। কোনও কোনও জেলার হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা কিট ছাড়া কাজ করবেন না বলেও জানিয়েছেন। অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বলেছেন তাঁদের রাগের কথা। এনএমসিএইচ, পাটনার চিকিৎসক CNBC-TV18–কে আগেই জানিয়েছিলেন, ‘‌এখানে বিশেষত স্বাস্থ্যকর্মীরা ভয়ে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নেই। ফলে আগত রোগীদের এমন ভাবে সামলাচ্ছেন তাঁরা, যেন অচ্ছুৎ। চিকিৎসকরা তাও নিরাপদ, কিন্তু নার্স, ওয়ার্ড বয়রা মারাত্মক অবস্থায় রয়েছেন।’‌

    কিন্তু তাও, বেশিরভাগ চিকিৎসকই নিজের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। পিপিই কিট, মাস্ক, ছাড়াও তাঁরা কাজ করছেন। সরকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, কিন্তু পিপিই কিট এসে পৌঁচ্ছছে না।

    Published by:Uddalak Bhattacharya
    First published: