ধর্মীয় বা রাজনৈতিক ভিড়ে নিষেধাজ্ঞা! মহারাষ্ট্রের লকডাউন নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা উদ্ধব ঠাকরের

ধর্মীয় বা রাজনৈতিক ভিড়ে নিষেধাজ্ঞা! মহারাষ্ট্রের লকডাউন নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা উদ্ধব ঠাকরের
উদ্ধব ঠাকরে

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাই এবার তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিল উদ্ধভ ঠাকরে সরকার। মহারাষ্ট্রের বেশ কিছু অঞ্চলে লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে ভিড় ও অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

  • Share this:

    #মুম্বই: ফের চিন্তা বাড়িয়েছে মহারাষ্ট্র। প্রতিদিন বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। করোনা পরিস্থিতিতে ভারতের মধ্যে বেশ সংকটজনক অবস্থায় ছিল এই রাজ্য। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাই এবার তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিল উদ্ধভ ঠাকরে সরকার। মহারাষ্ট্রের বেশ কিছু অঞ্চলে লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যে ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক কারণে ভিড় ও অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।

    মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধভ ঠাকরে বলেছেন, যেখানে জানুয়ারিতে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০০০, তা গিয়ে পৌঁছেছে ৭০০০-এ। মহারাষ্ট্রের চার জেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক ভাবে বেশি। কোভিড ১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে তাই মুখ্যমন্ত্রী এই চার জেলা সহ আরও বেশ কিছু জায়গায় আরও কড়া লকডাউন দাবি করেছেন। জানিয়েছেন, প্রয়োজনে এই চার জেলা ছাড়াও অন্যান্য এলাকায় লকডাউন ঘোষণা হতে পারে।

    তিনি বলছেন, "দ্বিতীয় স্রোত আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। সত্যিই করোনার দ্বিতীয় স্রোত এসে গিয়েছে কি সেই বিষয়ে আগামী ৮ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নিশ্চিত হওয়া যাবে।" রবিবার মহারাষ্ট্রে নতুন করে ৬৯৭১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৪১৭জন।


    মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে জানিয়েছেন, এখনও রাজ্যে অ্যাক্টিভ রোগীর সংখ্যা ৫২, ৯৫৬জন। আর তাই রাজ্যে সোমবার থেকে সমস্ত ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক কারণে ভিড় ও অনুষ্ঠানের উপর সোমবার থেকে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন উদ্ধভ ঠাকরে। আগামী কয়েকদিনের জন্য রাজ্যে রাজনৈতিক বিক্ষোভ দেখানোরও অনুমতি দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান। ভিড় এড়ানোর জন্যই এই ঘোষণা করেছেন তিনি।

    মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন লকডাউনই একমাত্র সমাধান না হলেও, এর দ্বারাই কোভিড ১৯ এর শৃঙ্খল ভাঙা সম্ভব হয়। তিনি বলছেন, লকডাউনই একমাত্র সমাধান নয়। কিন্তু শারীরিক ভাবে দূরত্ব বজায় রাখলে করোনা সংক্রমণের এই শৃঙ্খল ভাঙা যায়। শতক আগে স্প্যানিশ ফ্লুতেও মাস্ক পরা, হাত ধোওয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এগুলি মেনে চলা হচ্ছিল।

    আর তাই উদ্ধভ জানিয়েছেন কোভিড ঠেকাতে সবচেয়ে অস্ত্র হল মাস্ক। স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘণ করলে কড়া শাস্তি দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। লকডাউন সম্পর্কে তিনি বলছেন, যাঁরা লকডাউন চান না, তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। মাস্ক পরবেন। হাত ধোবেন। সামাজিক দূরত্ব রাখবেন। আর যাঁরা আবার লকডাউন চায় তারা সব নিয়ম ভাঙবে। দেখা যাক কারা লকডাউন চায়। আর কারা চায় না।

    মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে সংক্রমণ বাড়ছে। তাই সোমবার সকাল ৮টা থেকে এই এলাকায় এক সপ্তাহ লকডাউন ঘোষণা হয়েছে। এই এলাকায় শুধুমাত্র কিছু প্রয়োজনীয় পরিষেবা খোলা থাকবে। আর কোভিড ১৯ স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চললে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হবে। সিনেমা হল, জিম, সুইমিং পুল, পার্ক ইত্যাদি বন্ধ থাকবে। অমরাবতীতে লকডাউন ছাড়াও আকোলা, ওয়াশিম, বুলধানায়ও বেশ কিছু কড়া নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে।

    Published by:Swaralipi Dasgupta
    First published: