'মাঙ্গলিক'! দোষ কাটাতে জোর করে ১৩র কিশোরকে বিয়ে শিক্ষিকার!

• এক্সপেরিমেন্ট (Experiments) করা যায়-- ৩০ বছর খুব বেশি বয়স না হলেও তার আগে পর্যন্ত যে প্রাণোচ্ছ্বলতা বা উদ্দীপনা থাকে, তা ৩০-এর পর কমতে থাকে। ফলে ৩০ বছরের আগে বিয়ে করলে সঙ্গীর হাতে হাত রেখে বিভিন্ন এক্সপেরিমেন্ট (Experiment) করা যেতে পারে।

থানায় গিয়ে ছেলেটি অভিযোগ করে, শিক্ষিকার পরিবার জোর করে হলদি-মেহেন্দি এমনকী প্রথা মাফিক ফুলশয্যাও করিয়েছে তাকে দিয়ে। পরে শিক্ষিকার চুড়ি ভেঙে বিধবা ঘোষণা করা হয়েছিল বলেও জানায় ছাত্রটি।

  • Share this:

    #পঞ্জাব : পুরোহিত বিধান দিলেন, কুন্ডলীতে রয়েছে মাঙ্গলিক দোষ। দোষ না কাটালে বিয়ে দিলেই মহা বিপদ। শুধু তাই নয়, দোষ কাটাতে বিয়ে করতে হবে অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি ছেলেকে। সেই প্রতীকী বিয়ের পরেই  পাত্রস্থ করা যাবে তাঁকে। তার  আর সেই বিধান শুনেই মাত্র তেরো বছর বয়সী এক কিশোরকে জোর করে বিয়ে করলেন তার 'টিউশন টিচার'। ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্জাবের জলন্ধর শহরে।

    জানা যাচ্ছে, মাঙ্গলিক দোষ কাটাতে এতটাই মরিয়া হয়ে গিয়েছিলেন ওই শিক্ষিকা যে রীতিমতো ছাত্রকে এক সপ্তাহ ধরে বাড়িতে রেখে পড়ানোর অজুহাতে এই কাণ্ড করে বসেন ওই শিক্ষিকা। ছেলেটি শিক্ষিকার বাড়িতে থাকা শুরু করতেই তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁকে বিয়ে করেন শিক্ষিকা।

    নিজের বাড়িতে ফিরে এসে ছাত্রটি পুরো ঘটনাটি তার বাবা-মাকে জানাতেই তারা শিক্ষিকার এহেন কাণ্ডে চমকে ওঠেন। এরপরেই ছাত্রটির বাবা-মা পুলিশে অভিযোগ জানায়। থানায় গিয়ে ছেলেটি অভিযোগ করে, শিক্ষিকার পরিবার জোর করে হলদি-মেহেন্দি এমনকী প্রথা মাফিক ফুলশয্যাও করিয়েছে তাকে দিয়ে। পরে শিক্ষিকার চুড়ি ভেঙে বিধবা ঘোষণা করা হয়েছিল বলেও জানায় ছাত্রটি। এমনকি শিক্ষিকার পরিবারের তরফে শোকসভারও আয়োজন করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ছেলেটিকে ওই এক সপ্তাহ শিক্ষিকার বাড়ির কাজও করতে বলা হয়েছিল বলে জানায় ওই ১৩ বছরের নাবালক ছাত্র।

    পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষিকা ঘটনাটি স্বীকার করলেও নানা ভাবে ওই পরিবারকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। তাড়াতাড়ি বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তিনি জানান, বিয়ে না হওয়া নিয়ে পরিবার চিন্তিত ছিল। আর পুরোহিত তার কুণ্ডলীর মাঙ্গলিক দশা এবং তা থেকে এই নাবালককে বিয়ে করে মুক্তির উপায় জানালে সে এবং তাঁর পরিবার সেটি অনুসরণ করে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বস্তি বাওয়া খেল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ছেলেটির পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অভিযোগ তুলে নিতে বাধ্য করে ওই শিক্ষিকা ও তাঁর পরিবার।

    বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সত্ত্বেও, ভারতের একাংশ এখনও কুসংস্কারবাদী বিশ্বাস ও অভ্যাস আঁকড়ে আছে। কুণ্ডলীর মাঙ্গলিক দোষ ( Manglik Dosha ) কাটাতে গাছের সঙ্গে অথবা ছাগলের সঙ্গে বিয়ের কথা প্রায়ই শোনা যায় এই একবিংশ শতাব্দীতেও। কিন্তু নিজে শিক্ষিকা হয়েও ১৩ বছরের নাবালক ছাত্রকে জোর করে বিয়ে করার লজ্জাজনক ঘটনা তাজ্জব করেছে দেশবাসীকে।

    Published by:Sanjukta Sarkar
    First published: