CPIM stands by TMC in Tripura: ত্রিপুরায় আক্রান্ত তৃণমূল, বিবৃতি দিয়ে পাশে দাঁড়াল সিপিএম! প্রতিবেশী রাজ্যে নয়া সমীকরণ?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মানিক সরকার৷

তৃণমূলের উপরে হামলার ঘটনার অভিযোগ এড়িয়ে যাচ্ছিলেন বিজেপি নেতারা৷ কিন্তু এ দিন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বিবৃতির পর বিষয়টি নিঃসন্দেহে অন্য মাত্রা পেল ()৷

  • Share this:

#আগরতলা: ত্রিপুরার আমবাসায় তৃণমূলের ছাত্রও যুবনেতাদের উপরে হামলা এবং ধর্মনগরে তৃণমূলের পার্টি অফিসের ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা করে বিবৃতি দিল সিপিএম৷ সিপিএম-এর ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে রীতিমতো লিখিত বিবৃতি প্রকাশ করে তৃণমূল নেতা কর্মী এবং পার্টি অফিসের উপরে হামলার জন্য সরাসরি বিজেপি-কে দায়ী করা হয়েছে৷ বিজেপি বিরোধী জোটে সিপিএম তৃণমূলের পাশে থাকবে কি না, এই প্রশ্নে যখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে, সেই সময় প্রতিবেশী রাজ্যে তৃণমূলের উপর হামলার ঘটনায় সিপিএম পাশে দাঁড়ানোর মধ্যে বিশেষ তাৎপর্য খুঁজে পাচ্ছে রাজনৈতিক মহল৷ বলার অপেক্ষা রাখে না, সিপিএমের এ দিনের বিবৃতির পর ত্রিপুরায় আরও চাপে পড়ল বিপ্লব দেব সরকার৷

শনিবার ত্রিপুরার আমবাসায় যাওয়ার পথে তৃণমূলের ছাত্র নেতা সুদীপ রাহা, জয়া দত্ত, যুবনেতা দেবাংশ ভট্টাচার্যের উপরে বিজেপি হামলা চালায় বলে অভিযোগ৷ ঘটনায় আহত হন সুদীপ রাহা৷ মাথা ফাটে জয়া দত্তর৷ যদিও এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি৷ এর পাশাপাশি ধর্মনগরে তৃণমূলের একটি কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ৷

ত্রিপুরা সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বিবৃতিতে এই দুই ঘটনারই তীব্র নিন্দা করে বলা হয়েছে, 'আমবাসা ও ধর্মনগর শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মী এবং অফিসের উপরে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি-র দুর্বৃত্ত বাহিনীর ফ্যাসিস্টসুলভ আক্রমণের তীব্র নিন্দা করা হচ্ছে৷ বিজেপি রাজত্বে রাজ্যে ভারতের সংবিধানে প্রদত্ত মত প্রকাশের, সংগঠন করার অধিকার, আইন- গণতন্ত্রের কোন অস্তিত্ব নেই- তা সমগ্র দেশবাসীর সামনে আবারও উন্মোচিত করেছে৷ এ ধরনের ফ্যাসিস্টসুলভ আক্রমণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে সমস্ত গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের প্রতি সিপিএম আহ্বান জানাচ্ছে৷'

পশ্চিমবঙ্গে বিপুল জয় পাওয়ার পর এবার প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরা থেকে বিজেপি সরকারকে উৎখাত করাকেই পাখির চোখ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ গত কয়েকদিনে ত্রিপুরায় বিজেপি- তৃণমূলের মধ্যে একাধিকবার সংঘাতের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে৷ এমন কি, আগরতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে৷ ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন৷ এতদিন ত্রিপুরায় তৃণমূলের অস্তিত্বকেই গুরুত্ব দিতে নারাজ ছিল বিজেপি নেতৃত্ব৷ তৃণমূলের উপরে হামলার ঘটনার অভিযোগও এড়িয়ে যাচ্ছিলেন বিজেপি নেতারা৷ কিন্তু এ দিন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বিবৃতির পর বিষয়টি নিঃসন্দেহে অন্য মাত্রা পেল৷ তৃণমূলের উপরে হামলার ঘটনায় সিপিএম পাশে দাঁড়ানোয় আরও চাপে পড়ল শাসক দল বিজেপি৷ এমন কি, ২০২৩ সালে বিজেপি-কে ক্ষমতাচ্যুত করতে ত্রিপুরায় নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় কি না, সেই জল্পনাও উস্কে দিল সিপিএমের এ দিনের বিবৃতি৷

পশ্চিমবঙ্গে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র গত বৃহস্পতিবার কলকাতায় মুজফফর আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটকে স্বাগত জানালেও এ রাজ্যে তৃণমূলের প্রতি তাঁদের মনোভাব বদলাবে না৷ কয়েকদিন আগে বিমান বসুও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বিজেপি-কে ক্ষমতাচ্যুত করতে জাতীয় স্তরে তৃণমূলের সঙ্গে লড়াইয়ে তাঁদের আপত্তি নেই৷ প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরার সিপিএম নেতৃত্বের তৃণমূলকে নিয়ে কী মনোভাব, তা হয়তো এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়৷ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই বিজেপি বিরোধী ভোটকে এক জায়গায় নিয়ে আসার ফর্মুলার পক্ষে সওয়াল করেছেন৷ ত্রিপুরায় শেষ পর্যন্ত বিজেপি-কে ক্ষমতা থেকে সরাতে নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় কি না, এ দিন সিপিএমের বিবৃতির পর তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল সৃষ্টি হল৷

Published by:Debamoy Ghosh
First published: