Biplab Deb: 'ত্রিপুরার থেকে পিছিয়ে', বাংলার দল নিয়ে 'মাথাব্যথা' শুরু বিপ্লব দেবের!

বিরোধী যখন তৃণমূল...

Biplab Deb: মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের মন্তব্যও যেন বুঝিয়ে দিচ্ছে, ত্রিপুরায় গুরুত্ব বাড়ছে তৃণমূলের।

  • Share this:

    #আগরতলা: জয়ের গন্ধ পেয়েই কি ত্রিপুরায় সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে তৃণমূল? গোটা ত্রিপুরাজুড়ে তৃণমূলের তৎপরতা, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতার বারবার ত্রিপুরা যাত্রা, তৃণমূল নেতাকর্মীদের উপর একের পর এক হামলায় একটা জিনিস পরিষ্কার, তৃণমূলের লক্ষ্য এবার ত্রিপুরাই। যদিও সে রাজ্যের শাসক দল বিজেপি বারবার বলে এসেছে, তৃণমূলের কোনও সংগঠনই নেই ত্রিপুরায়। তাই তৃণমূলের ত্রিপুরা জয়ের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে বলে দাবি তাঁদের। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সে কথা অবশ্য বলছে না। এমনকী মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের মন্তব্যও যেন বুঝিয়ে দিচ্ছে, ত্রিপুরায় গুরুত্ব বাড়ছে তৃণমূলের।

    রবিবার দিনভর ত্রিপুরার থানা, আদালতে কাটানো তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দেবাংশু ভট্টাচার্য, জয়া দত্তদের জামিনে ছাড়িয়ে জয়ের হাসি হাসছেন, তখন বিপ্লব দেব হঠাৎই ট্যুইটারে লেখেন, 'কিছু দল যারা ত্রিপুরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে তারা উন্নয়নের নিরিখে অনেকাংশেই ত্রিপুরা থেকে পিছিয়ে l রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধি নয়, বরং রাজ্যের সর্বাঙ্গীন বিকাশই আমাদের প্রধান লক্ষ্য l বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের নিরিখে ত্রিপুরা আজ গোটা দেশে নজির তৈরী করছে l'

    আর বিপ্লব দেবের এই ট্যুইটেও যেন স্পষ্ট হয়েছে অনেককিছু। রাজনৈতিক মহল বলছে, ত্রিপুরায় তৃণমূল ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়ে গিয়েছে। অন্য দল থেকে তাঁদের দলে কর্মীরাও আসতে শুরু করেছেন। এই মুহূর্তে ত্রিপুরায় বিরোধী দল হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে একমাত্র তৃণমূলই। একের পর এক তৃণমূল নেতা এ রাজ্য থেকে ছুটে যাচ্ছেন আগরতলায়। আক্রান্ত হচ্ছেন, কিন্তু থেমে থাকছেন না। প্রশান্ত কিশোরের আই প্যাকের কর্মীরাও ত্রিপুরায় গিয়ে 'হাউজ অ্যারেস্ট' হয়েছেন। এই প্রবণতাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ত্রিপুরায় উত্থান হচ্ছে তৃণমূলের।

    আর সেই কাজে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই মূখ্য ভূমিকা নিচ্ছেন। মাত্র দুবার ত্রিপুরা সফর করলেন অভিষেক, কিন্তু তাতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন ১৭ মাস পরের নির্বাচনে তিনি ও তাঁর দল এক ইঞ্চি জমি ছাড়বে না। অপরদিকে রয়েছে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে একজোট হওয়ার বার্তা। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরায় তৃণমূলের ক্ষেত্রে নরম মনোভাব দেখিয়েছে বামেরা। এমনকী তৃণমূলের সঙ্গে জোট সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। এই পরিস্থিতি বিপ্লব দেবের চিন্তা বাড়া স্বাভাবিক বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    প্রসঙ্গত, বাংলার বিধানসভা ভোটের পর থেকেই তৃণমূল সুপ্রিমো বাড়তি নজর দিচ্ছেন ত্রিপুরার দিকে। বাংলাভাষী এই রাজ্যটিতে নিজেদের সংগঠন আরও জোরদার করতে উঠে পড়ে লেগেছে জোড়াফুল শিবির। গত সপ্তাহেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন। সেই সময়েও তাঁর কনভয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই সময়েও অভিযোগ ছিল বিজেপির দিকেই। এরপর দেবাংশু, জয়াদের গাড়ির উপর হামলা। এর পাশাপাশি তৃণমূলের ১১ জন নেতাকে ত্রিপুরায় বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের আওতায় গ্রেফতার করা হয়। সবমিলিয়ে রবিবার থেকে বিপ্লব দেবের রাজ্যে আরও পরিসর দখল করল তৃণমূল। আর তাতে দুশ্চিন্তার ভাঁজ চওড়া হল সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কপালে।

    Published by:Suman Biswas
    First published: