চিকিৎসাকেন্দ্রিক মডেল নয়, করোনায় সুস্থ থাকতে প্রয়োজন প্রতিরোধক মডেল, বলছেন বিশেষজ্ঞ!

চিকিৎসাকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে প্রতিরোধক মডেলে আস্থা রাখার কথা বলেছেন Circee Health- a disease-reversal platform-এর Co-Founder এবং CEO ড. জেনিফার প্রভু (Dr. Jennifer Prabhu)।

চিকিৎসাকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে প্রতিরোধক মডেলে আস্থা রাখার কথা বলেছেন Circee Health- a disease-reversal platform-এর Co-Founder এবং CEO ড. জেনিফার প্রভু (Dr. Jennifer Prabhu)।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যখন বিধ্বস্ত গোটা দেশ তখন সকলের মুখে একটাই প্রশ্ন, কী ভাবে মিলবে এই সংক্রমণ থেকে মুক্তি? কিন্তু এই মুক্তির উপায় খুঁজে পাওয়াই হয়ে উঠেছে দুস্কর। তাও বিজ্ঞানীরা নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই মারণ ভাইরাসের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য। তবে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে চিকিৎসাকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে প্রতিরোধক মডেলে আস্থা রাখার কথা বলেছেন Circee Health- a disease-reversal platform-এর Co-Founder এবং CEO ড. জেনিফার প্রভু (Dr. Jennifer Prabhu)।

তাঁর কথায়, ভারত প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্যসেবা রোগ প্রতিরোধের মডেল- আয়ুর্বেদ পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। এই পদ্ধতি কোনও একজন ব্যক্তির দেহ ও মনের ভারসাম্যের উপর নির্ভর করে এবং এইভাবে রোগমুক্ত করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে, শুধুমাত্র লক্ষণগুলিকে চিহ্নিত করার দিকে ফোকাস না করে রোগের চিকিৎসার জন্য মূল কারণগুলির দিকে মনোনিবেশ করা হয়।

"আয়ুর্বেদ সম্পর্কে লিখে, আমি এখানে শুধুমাত্র এই বিষয়টিকে একক করে বোঝাতে চাইছি না, বরং এটা বলায় যাই যে, চিকিৎসার অন্যান্য পদ্ধতির জন্যও প্রতিরোধক ওষুধের একটি শক্তিশালী দিক রয়েছে। এখানে উদ্দেশ্যটি হল এটি উল্লেখ করা যে, প্রতিরোধমূলক ওষুধের এই মডেলটি আমাদের দেশে নতুন নয়", বলছেন প্রভু।

"বিশ শতকের শুরুর দিকে, স্বাস্থ্যসেবার প্রতি তীব্র যত্নবান হতে দেখা যায় সকলকে। যদি আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার দেখান। কিন্তু শতাব্দীর অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সংক্রামক রোগগুলি মৃত্যুর সর্বাধিক সাধারণ কারণ হিসাবে দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে, স্বাস্থ্যসেবা চিকিৎসাভিত্তিক মডেলটির বাইরে কখনও বিকশিত হয়নি যা ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যমান ছিল। বর্তমানে লাইফস্টাইল-সম্পর্কিত দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮১ শতাংশ, চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েছেন ৭৬ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয় স্বাস্থ্যসেবাতে।

"এই পরিস্থিতিতে আমি আপনাদের সামনে আরও একবার তুলে ধরতে চাই, প্রতিরোধকারী স্বাস্থ্যের আসলেই কী অর্থ। এই প্রতিরোধ ব্যবস্থায় কোনও মানুষকে তার দেহ থেকে পৃথক করে দেখা হয়ে থাকে। যার অর্থ হল, ব্যক্তির শারীরিক, জীবনকেন্দ্রিক, সংবেদনশীল, চিকিৎসা বিষয়ক, সামাজিক এমনকি আধ্যাত্মিক চাহিদা বোঝা। এক্ষেত্রে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং রোগীকে একযোগে কাজ করে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বিষয়ে আলোকপাত করতে হবে। সেই সঙ্গে সমস্যা হওয়ার আগে কী হতে পারে তা নিয়েও আলোচনা করা প্রয়োজন। নিজের স্বাস্থ্য প্রসঙ্গে বারে বারে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করুন এবং পরামর্শ নিন। এর ফলে রোগীরা অনুভব করতে পাবেন যে, এই ধরণের পরিদর্শন তাদের স্বাস্থ্যকর এবং দীর্ঘতর জীবনযাত্রার দিকে পরিচালিত করছে।"

এছাড়াও তিনি বর্তমানে বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেওয়া করোনা মহামারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কারণ একমাত্র এই পরিস্থিতিতেই আমরা সাক্ষী থেকেছি, ছোট থেকে বড় সমস্ত ক্লিনিকে এবং হাসপাতালে রোগীদের জন্য বৃহত্তর হাসপাতালের সেট আপ তৈরির। এছাড়া রোগীরা তাদের বাড়িতে বসেই অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং এক্স-রে থেকে BiPAP মেশিন ও ওষুধপত্র পাচ্ছেন। প্রভুর দাবি, করোনা না এলে এই দিকে মন দিতেন না কেউ!

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: