ঝাড়খণ্ডের কুয়োর জল ট্রেনে করে কলকাতায় আনতেন দ্বারকানাথ! ছোট্ট রেলস্টেশনকে ঘিরে নয়া ভাবনা

ঝাড়খণ্ডের কুয়োর জল ট্রেনে করে কলকাতায় আনতেন দ্বারকানাথ! ছোট্ট রেলস্টেশনকে ঘিরে নয়া ভাবনা

স্বাস্থ্যকর জল নিয়ে যাওয়া হত ২৭৩ কিলোমিটার দূরে কলকাতায়। মহেশমুণ্ডা এলাকার কুয়োর জল ড্রামে ভরতি করে নিয়ে যাওয়া হত জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে ৷

  • Share this:

Venkateswar Lahiri

#মধুপুর: একসময়  জল-হাওয়া পরিবর্তন মানেই ছিল মধুপুর-গিরিডি। শুধু যে স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে  মানুষজন পশ্চিমে যেতেন, এমনটা কিন্তু নয়, সেখানকার স্বাস্থ্যকর জল নিয়ে যেতেন ২৭৩ কিলোমিটার দূরে কলকাতায়। মহেশমুণ্ডা এলাকার কুয়োর জল ড্রামে ভরতি করে নিয়ে যাওয়া হত জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের তত্ত্বাবধানে রেলপথে সেই জল যেত কলকাতায়।

গিরিডির সেই বিখ্যাত মহেশমুণ্ডা জংশন এবং কুয়োর সংস্কারের উদ্যোগ নিল আসানসোল রেল ডিভিশন। এমনকী, ব্রিটিশ আমলের ছোট্ট স্টেশনটিকে হেরিটেজ সম্মান দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ায় মধুপুর থেকে গিরিডি পর্যন্ত রেললাইনটি তৈরি হয় কয়লা পরিবহণের জন্য। পরবর্তীকালে এই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

চালাছাদ, পাতলা লালমাটির ইটের দেওয়াল, চিমনি, আর্চিং দেওয়া বড় দরজা জানালা। ব্রিটিশদের তৈরি করা  স্টেশনটি আজও অপরিবর্তিত। স্টেশনে বিশালাকার কুয়োটিও নজরে আসে রেলের পদস্থ আধিকারিকদের ৷ মহেশমুণ্ড স্টেশনের ইতিহাস কেউ কেউ জানতেন।  মহেশমুণ্ডা এলাকার কুয়োর জল ড্রামে ভরতি করে নিয়ে যাওয়া হত জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে। শোনা কথা, এই কুয়োর জল  নিয়ে যাওয়া হত কলকাতায়। সবকিছু দেখার পর হেরিটেজ কমিটির সঙ্গে কথাও বলেছেন রেল কর্তৃপক্ষ।

একইভাবে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর স্মৃতিবিজড়িত ছোট্ট এই স্টেশনটিকেও হেরিটেজ সম্মান দিয়ে সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শুধু নয়, মহেশমুণ্ড স্টেশনের কুয়োর জল খান রেলযাত্রীরাও। রেল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কুয়োটিকে রাজস্থানের বাওরি পদ্ধতিতে সংস্কার করা হবে। সিঁড়ি দিয়ে কুয়োতে নামতেও পারবেন গ্রামবাসীরা। গরমেও কুয়োর জলের স্তর নিচে নামবে না।

মহেশমুণ্ডা স্টেশনটি চলে সৌর বিদ্যুতের আলোতে। বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চলে না। স্টেশনটিতেও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হবে ও আমূল সংস্কার করা হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ আমলে স্টেশনটি যেমন ছিল, ঠিক তেমনই থাকবে। সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি প্রফেসর শঙ্কুর গবেষণাগারও এই গিরিডিতেই। বিজ্ঞানী প্রশান্তচন্দ্র মহলানবীশের বাড়ি গিরিডিতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিভিন্ন গল্পে অধুনা ঝাড়খণ্ডের এই জনপদটির উল্লেখ পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে নতুন সাজে সজ্জিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রেল প্রশাসনের তরফে। শুধুমাত্র সৌন্দর্যায়নই  নয়, পর্যটন মানচিত্রেও  এই এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করার  ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এখানে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে চাঙ্গা হবে এলাকার অর্থনীতি। আশপাশের বহু গ্রামের মানুষজন উপকৃত হবেন । সবমিলিয়ে এক নতুন ডেস্টিনেশনের  অপেক্ষায় পর্যটকরা।

First published: January 28, 2020, 12:16 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर