লকডাউন বিধিভঙ্গ ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দায়ের হওয়া মামলাগুলি তুলে নিচ্ছে তামিলনাড়ু সরকার

লকডাউন বিধিভঙ্গ ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দায়ের হওয়া মামলাগুলি তুলে নিচ্ছে তামিলনাড়ু সরকার
লকডাউন বিধিভঙ্গ ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দায়ের হওয়া মামলাগুলি তুলে নিচ্ছে তামিলনাড়ু সরকার

লকডাউন বিধিভঙ্গ এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে পথে নামার জন্য এতদিন যে মামলাগুলি জমেছিল, এবার তার অধিকাংশই তুলে নেওয়া হচ্ছে।

  • Share this:

#চেন্নাই: বিগত দুই বছরে করোনা ও লকডাউন বিধিভঙ্গ এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে পথে নামার জন্য প্রতিটি রাজ্যে লক্ষ লক্ষ মামলা দায়ের হয়েছে। বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেককে আটক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকের ঘাড়ে এখনও ঝুলছে মামলার খাঁড়া। এবার জনস্বার্থে এক অভিনব পদক্ষেপ করল তামিলনাড়ু সরকার। আজ এক বিবৃতিতে তামিলনাড়ু সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, লকডাউন বিধিভঙ্গ এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে পথে নামার জন্য এতদিন যে মামলাগুলি জমেছিল, এবার তার অধিকাংশই তুলে নেওয়া হচ্ছে।

গোটা একটা বছরকে ভুগিয়েছে মারণ ভাইরাস করোনা। বছরের শুরুর দিকে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি-মার্চে হু হু করে বাড়তে থাকে করোনার সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে মার্চ মাসের ২৫ তারিখ থেকে দেশ জুড়ে লকডাউন ঘোষণা করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ মতো লকডাউন জারি করা হয় তামিলনাড়ু সরকারের তরফেও। সেই সূত্র ধরে তামিলনাড়ু পাবলিক হেল্থ অ্যাক্ট ১৯৩৯ (Tamilnadu Public Health Act 1939) ও এপিডেমিক ডিজিজেজ অ্যাক্ট ১৯৩৭ (Epidemic Diseases Act 1937)-এর অধীনে বেশ কয়েকটি নিয়ম ও বিধিনিষেধ জারি করা হয়। রাজ্যের নানা জায়গার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকাগুলিতে চেক পোস্ট বসানো হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক পরা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়। এলাকায় এলাকায় পুলিশ পিকেটিংও বসানো হয়।

তবে অনেককেই লকডাউন বিধি ভঙ্গ করার অপরাধে গ্রেফতার ও আটক করা হয়। যাঁরা নিয়ম মানেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ মামলা দায়ের হয়। এবার সেই মামলাগুলি তুলে নেওয়ার জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তামিলনাড়ু সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যাঁরা ভুয়ো ই-পাস ব্যবহার করেছিলেন ও গুরুতর অপরাধ করেছিলেন, তাঁদের মামলাগুলি ছাড়া বাকি মামলা তুলে নেওয়া হচ্ছে।


একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দায়ের হওয়া মামলাগুলির ক্ষেত্রেও। প্রসঙ্গত ২০১৯ সালে ৪ ডিসেম্বর লোকসভায় পেশ করা হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (Citizenship Amendment Bill)। পেশ করার পরই প্রথমে লোকসভায় পাশ হয়ে যায় এই বিল। পরে ১১ ডিসেম্বর রাজ্য সভায় পাশ হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এর পর নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ২০১৯-কে ঘিরে দেশের নানা প্রান্তে সরব হয় মানুষজন। CAA বিলের কপি পোড়ানো, বিক্ষোভ মিছিল, জমায়েত থেকে শুরু করে নানা রাজ্যে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তামিলনাড়ুর একাধিক এলাকাতেও একই ছবি নজরে আসে। বিভিন্ন ছোট ছোট দল, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও পথে নামতে শুরু করে। ভাঙচুর, গাড়ি পোড়ানো, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উপর চড়াও হওয়া সহ নানা হিংসাত্মক ঘটনাও সামনে আসে। সেই সূত্র ধরে তামিলনাড়ুতে প্রায় ১৫০০ মামলা দায়ের হয়। সম্প্রতি সেই মামলাগুলি তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করেছে তামিলনাড়ু সরকার। তামিলনাড়ু সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যে মামলাগুলি অত্যন্ত গুরুতর অর্থাৎ কোনও হিংসাত্মক ঘটনা বা বড় ভাঙচুরের সঙ্গে যে মামলাগুলির যোগ রয়েছে, সেগুলি ছাড়া বাকি মামলাগুলি তুলে নেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থেই এই পদক্ষেপ বলে জানাচ্ছে সরকার।

First published:

লেটেস্ট খবর