• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • TMC SAAYONI GHOSH ALLEGED ELECTRICITY INTERRUPTION NO FOOD SERVED IN TRIPURA HOTEL SDG

Saayoni Ghosh|| ত্রিপুরার পাঁচতারা হোটেলে কাটা হয় বিদ্যুৎ সংযোগ! খেতে না দেওয়ার অভিযোগ সায়নী ঘোষের

ত্রিপুরার পাঁচতারা হোটেলে সায়নী ঘোষ।

Saayoni Ghosh's Allegation: লোডশেডিংয়ের কারণে অন্ধকারেই গোটা রাত আগরতলার ফাইভ স্টার হোটেলে কাটালেন তৃণমূল যুব সভাপতি সায়নী ঘোষ।

  • Share this:

#আগরতলা: লোডশেডিংয়ের কারণে অন্ধকারেই গোটা রাত আগরতলার ফাইভ স্টার হোটেলে কাটালেন তৃণমূল যুব সভাপতি সায়নী ঘোষ। নিজেই মঙ্গলবার রাতের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন একটি ভিডিও মাধ্যমে৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় তা শেয়ার করা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে তাঁর বা তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে চূড়ান্ত অসহযোগিতা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সায়নী।

সায়নী ঘোষ জানিয়েছেন, ত্রিপুরায় এসে বিজেপির গণতন্ত্রের যে বহর দেখলাম তাকে স্বৈরাচার বললে স্বেচ্ছাচারের অপমান করা হয়! আমরা ত্রিপুরায় যে স্বনামধন্য হোটেলে রয়েছি, সেখানে বেশ কয়েকদিন ধরে স্বৈরাচারকে তুঙ্গে তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি নামে দলটি। হোটেল কর্তৃপক্ষকে ওপর থেকে এমনই লজ্জাজনকভাবে চাপ তারা দিচ্ছে যে সেখানে কোনওরকম আলোচনার জন্য ৪-৫ জন মিলে আমরা বসতেও পারছি না। ৪-৫ জন এক সঙ্গে খেতে বসতে গেলেও আটকে দিচ্ছেন তারা। খাবারের অর্ডার দেওয়া হলে জোর করে পুরোটাই বাতিল করা হচ্ছে, মঙ্গলবার দুপুরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল, যা থেকে স্পষ্টও কোনও স্বনামধন্য রেস্তোরাঁতেই এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক নয়।আজ রেস্তোরাঁতে খেতে গিয়ে চা ও কফি অর্ডার করা হয়েছিল, সঙ্গে কয়েকজন মিলে আলোচনা চলছিল, সেখানে বিজেপি থেকে চর মোতায়ন করা হয়েছিল, তারা এসে এ কথাও বলেন যে আমরা নিজেদের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা করতে পারব না।

ভারতীয় সংবিধানে যে বাক স্বাধীনতা নামক বিষয়ের আলাদা করে উল্লেখ রয়েছে বিজেপির হয় তো সেটা কখনই বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। ভারতবর্ষের যে কোনও জায়গায় থেকে যে কোনও মানুষ স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক চর্চা করতে পারেন, গণতন্ত্রের গলা টিপে বিজেপি যে স্বৈরাচার ত্রিপুরাতে চালাচ্ছে, তাদের এই লজ্জাজনক ব্যবহার মানুষের কাছে পৌঁছে দেবে নিশ্চিত। আমরা হোটেল কর্তৃপক্ষকে কোনওরকম দোষ দিচ্ছি না। বিজেপির তরফ থেকে তাদের অফিসিয়াল মেইল করে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তৃণমূল যাতে কোনওরকম সংগঠন ত্রিপুরায় গড়ে তুলতে না পারে। রীতিমত যুক্তি দেওয়া হচ্ছে আর এই আদেশ যাতে সফল হয় তার জন্য তারা চরম লজ্জার সীমা ভাঙতেও পিছুপা হয়নি। আমাদের খাবার পর্যন্ত দিতে বারণ করা হচ্ছে বিজেপির তরফ থেকে। আজ সকালে সামান্য চা এবং জুসের অর্ডার ক্যানসেল করে দেওয়া হয়, ফোন করে, অফিসিয়াল মেইল করে রীতিমতন হুমকি দেওয়া হচ্ছে আমাদের কোনঠাসা করে দেওয়ার জন্য।

সায়নী আরও বলেন, এই ধরনের নিষ্ঠুরতা যে গণতন্ত্রের লজ্জাজনক খুন। আমাদের সমস্ত কথা শোনার জন্য হোটেলে সকলে রীতিমতন তৎপর, কোনওরকম ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং বাক স্বাধীনতার তোয়াক্কা না করে এই ভাবেই নিজেদের মতন করে ত্রিপুরায় স্বৈরাচার বজায় রাখতে চাইছে তারা। তারা যখন পশ্চিম বাংলায় এসে প্রচারের নামে মন্ডামিঠাই খেয়ে গেছিলেন, দিনের পর দিন থেকে গিয়েছিলেন, তখন কিন্তু তাদের রাজনৈতিক প্রভাব আটকে দিতে আমরা তাদের তাদের মুখ থেকে খাবার ছিনিয়ে নিইনি। আর আজ তারা সেটা করতেও দ্বিধা বোধ করছেন না। বিজেপি যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করত তবে আজ এই নোংরামি তাদের করতে হত না। ধিক্কার জানাই তাদের এই আচরণে, লজ্জা আমাদের মানুষ হিসেবে যে ভারতের মতন গণতান্ত্রিক দেশে এইরকম স্বৈরাচার আমাদের এখনও দেখতে হয়।

বিজেপির কর্মকাণ্ডকে ধিক্কার জানিয়ে সায়নী বলেন, "ছিঃ বিজেপি! ধিক্কার তোমার রাজনীতির নাম করে নোংরামিকে। ধিক্কার তোমাদের মানবিকতায়। মানুষের স্বার্থে যদি আজ সত্যি কাজ করতেন, তবে এ ভাবে ত্রিপুরার মানুষের রেস্তোরাঁর ব্যবসা, গাড়ির ব্যবসাকে ছোট হতে দিতেন না। নিজেদের সংশোধনের দিন শেষ, এ বার কাউন্ডাউন শুরু করে দাও ত্রিপুরা থেকে বিদায় হওয়ার।"

সায়নী বা তৃণমূলের করা এই সব অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি যুব মোর্চার নেতা নবদল বণিক জানিয়েছেন, "গোটাটাই নাটক। একজন সব চিত্রনাট্য লিখে দিচ্ছেন। আর কয়েকজন সেটা পালন করছেন। হোটেলের কোনও ত্রুটি থাকলে সেটা প্রশাসন দেখবে। আমাদের নেতা-কর্মীদের বাংলায় বাধা দেওয়া হয়। আমরা কাউকে ত্রিপুরায় বাধা দিই না।"

ABIR GHOSAL

Published by:Shubhagata Dey
First published: