• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • TMC LEADER YASHWANT SINHA SAID NARENDRA MODI GOVERNMENT CHEATED WITH WEST BENGAL SB

Yashwant Sinha: বাংলার সঙ্গে 'বিশ্বাসঘাতকতা' করেছে মোদি সরকার! হঠাৎ স্টেপআউট যশবন্ত সিনহার

যুযুধান

Yashwant Sinha: কেন্দ্রের কাছে শুধু জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্যের প্রাপ্য ৩৮৫০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। অভিযোগ যশবন্ত সিনহার।

  • Share this:

# নয়াদিল্লি : তৃণমূল নেতা যশবন্ত সিনহা এবং ডেরেক ও'ব্রায়েনের অভিযোগ, "জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্যের প্রাপ্ত অর্থের অনেকটা অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ঘূর্ণিঝড় আমফান, করোনা মহামারিতে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক টাকাও বরাদ্দ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। জিএসটি বাবদ প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ এবং বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বিপুল অংকের প্রাপ্য টাকা বকেয়া রেখেছে কেন্দ্র‌। কেন্দ্রের কাছে শুধু জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ রাজ্যের প্রাপ্য ৩৮৫০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়াও অর্থ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কেন্দ্রের আদায় করা মোট করের উপর রাজ্যগুলোর প্রাপ্য আরও ১০ শতাংশ বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে বাড়ানো হয়েছে মাত্র ১.৪২ শতাংশ।"

পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি এবং মূদ্রাস্ফীতি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের মুণ্ডপাত করেছেন দুই দুঁদে তৃণমূল নেতা। তাঁদের অভিযোগ, উপযুক্ত নীতির অভাবে আকাশ ছুঁয়েছে দেশের বেকারত্বের হার। করোনা মহামারিতে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি পরিকল্পনার নীতি নির্ধারণের অভাবে বিগত পাঁচ দশকের রেকর্ড ভেঙেছে দেশের বেকারত্ব। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে, যখন দেশে ইউপিএ সরকার চলেছে, তখন দেশে বেকারত্বের হার ছিল ৫.৫৬ শতাংশ। এরপর ২০১৪ সালে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার আসার পর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেকারত্বের হার মোটামুটি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যেই ঘোরাফেরা করেছে। যা যথাক্রমে - ৫.৬০ শতাংশ, ৫.৫৬ শতাংশ, ৫.৫১ শতাংশ, ৫.৪১ শতাংশ, ৫.৩৩ শতাংশ এবং ৫.২৭ শতাংশ ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে দেশের বেকারত্বের হার পৌঁছয় ৭.১১ শতাংশে। কেন্দ্রীয় সরকারের চরম ব্যর্থতা সামনে এসে পড়ে। যশবন্ত সিনহার কথায়, "গত ৫০ বছরে দেশে এ হেন কর্মসংস্থানের অভাব দেখা যায়নি। বেকারত্বের এই চরম দুর্দশার অন্যতম কারণ সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার দিকে না তাকানো। বিশেষত, করোনা অতিমারির সময়েও চোখ বুজে থেকেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। কোটি কোটি পরিযায়ী শ্রমিক কাজ হারিয়ে রাস্তায় নামলে ও সরকার তাদের দিকে মুখ ফিরে তাকায়নি। যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে অর্থনীতিতে। এর জেরেই দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়েছে। তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে অর্থনৈতিক অগ্রগতির হার।" এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য তুলে ধরে যশবন্ত সিনহা জানিয়েছেন, মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ২০১৩ সালে মার্কিন ডলারের নিরিখে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির হার ছিল ৬.৩৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে অগ্রগতির হার ৮.২৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। তারপর থেকেই ক্রমে তলিয়ে গিয়েছে অর্থনৈতিক অগ্রগতি। ২০২০ সালে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির হার গিয়ে ঠেকে -৭.৯ শতাংশে। সরকারের তরফে এর জন্য করোনা অতিমারিকে দায়ী করা হচ্ছে। কিন্তু, এখানে উল্লেখনীয় বিষয় হল, করোনা অতিমারি পর্বের আগের বছরগুলোতেও অর্থনৈতিক অগ্রগতির হার তাৎপর্যপূর্ণভাবে ক্রমশ কমেছে‌।

দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির কথায়, "গত পাঁচ বছর ধরে দেশের এই করুণ অর্থনৈতিক পরিণতির অন্যতম এবং প্রধান কারণ হল পরিকল্পনাহীন অবিবেচকের মতো নোটবন্দির সিদ্ধান্ত দেশবাসীর উপর চাপিয়ে দেওয়া। আজ যে কেউ বলতে পারে নোটবন্দি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ, নোট বন্দির সময় প্রধানমন্ত্রী যেসব কারণগুলি উল্লেখ করেছিলেন সেই কালোটাকা, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি ইত্যাদির কোনওটিই বন্ধ হয়নি। বরং আরও কয়েকগুণ বেড়েছে। এর দায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে।" একইসঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি ইস্যুতেও কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নিয়েছেন দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। তথ্য-সহ তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে মুদ্রাস্ফীতির কারণেও মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ২০১৩ সালে দেশে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১১.৬৩ হাজার জেরেই ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল ইউপিএ সরকারকে। ২০১৪ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছিল ৬.৬৫ শতাংশ। কিন্তু ২০২০ সালে একলাফে তা গিয়ে দাঁড়ায় ৬.৬২ শতাংশে। মুদ্রাস্ফীতি সরকারি নীতির ব্যর্থতা ছাড়া অন্য কিছুই নয়।

Published by:Suman Biswas
First published: