দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

লকডাউনে স্কুল ছেড়ে চা বিক্রি করছে কিশোর ! লড়াই শুনে সাহায্যের হাত বাড়াল গোটা দেশ !

লকডাউনে স্কুল ছেড়ে চা বিক্রি করছে কিশোর ! লড়াই শুনে সাহায্যের হাত বাড়াল গোটা দেশ !
photo source humans of bombay

এই ১৪ বছরের কিশোরের গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় 'হিউম্যান অফ বোম্বে' নামের একটি পেজ থেকে শেয়ার হয়েছে। আর তার পরই ঘটেছে মিরাকল।

  • Share this:

#মুম্বই:  মুম্বই। স্বপ্ন নগরী। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ নতুন নতুন স্বপ্ন নিয়ে আসে। কিছু স্বপ্ন সত্যি হয়। কিছু যায় কালের নিয়মে হারিয়ে। তবে করোনা ভাইরাসের হানা যেন সব কিছুকে বদলে দিয়েছে। মুম্বইতে শুধু যারা স্বপ্নের খোঁজে আসে তাঁদেরই সব আশায় জল ঢেলেছে এমন নয়। দেশের হাজার হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। ঠিক যেমন ভয়ঙ্কর খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে মুম্বইয়ের ১৪ বছরের এই কিশোরকে। করোনার জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁর স্কুল, পড়াশুনো। রাস্তায় চা বিক্রি করে কাটছে তাঁর দিন। তবুও তাঁর মুখের হাসি একটুও ম্লান হয়নি।

করোনা আসার আগেই তাঁর বাবা হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়। পরিবারের দিদি, বোন ও মাকে নিয়ে তাঁর সংসার। ছেলেটি জানায়, "বাবা মারা যাওয়ার পর আম্মি সব কিছু সামলায়। রোজ কাজে যায় আম্মি। একদিনও ছুটি নেয় না। যাতে আমাদের পড়াশুনো ঠিকভাবে চলে। আম্মি চায় আমি বড় হয়ে এয়ারফোর্সে চাকরি করি। আর তাই তাঁর স্বপ্নই এখন আমার স্বপ্ন। আমি ক্লাসে সব সময় ভালো রেজাল্ট করি। কারণ পড়াশুনোয় আমাকে ও আমার পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে পারবে। কিন্তু করোনা আসার পর আমার আম্মির কাজ চলে যায়। এখন সংসার চালানোই মুশকিল হয়ে গিয়েছে। তাই আমি বাধ্য হয়েই চা বিক্রি করা শুরু করেছি। এক কাকু খুব ভালো। তাঁর দোকানের পাশে আমায় একটু জায়গা দিয়েছে। সেখানেই রোজ চা বানিয়ে মুম্বইয়ের রাস্তায় বিক্রি করি আমি। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টাকা আয় হয়। এতে আর কিছু না হোক আমার পরিবারকে না খেয়ে ঘুমোতে হচ্ছে না। দুপুর ১ টা থেকে রাত ১ টা পর্যন্ত আমি চা বিক্রি করি। সবাই আময় চেনে। তবে আম্মি খুব কষ্ট পায় আমি এই কাজ করছি বলে। তবে তিনিই তো আমায় শিখিয়েছেন পরিবারের থেকে বড় কিছু নয়। আমি তো ভালোই আছি। তবে আমি চাই পড়াশুনো করতে। বড় হতে। জানি না তা আর হবে কিনা! তবে আমি হেরে যাব না।"

এই ১৪ বছরের কিশোরের গল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় 'হিউম্যান অফ বোম্বে' নামের একটি পেজ থেকে শেয়ার হয়েছে। আর তার পরই ঘটেছে মিরাকল। হাজার হাজার মানুষ এগিয়ে এসেছেন এই কিশোরকে আর্থিক সাহায্য করতে। ছোট্ট ছেলেটির মুখের হাসি দেখে চোখের জল আটকাতে পারেননি অনেকেই। বহু মানুষ দাঁড়াতে চেয়েছেন তাঁর পাশে। তাঁর পড়াশুনো ও সংসার সব কিছুর দায়িত্ব নিতে চাইছেন মানুষ। ওই কিশোরের কাছে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এবার হয়তো সে আবার পড়াশুনো চালাতে পারবে। সংসারও চলবে। সত্যিই মানুষ সাহায্য করলেই এভাবে ফের জীবন স্বাভাবিক হতে পারে। এই মিষ্টি হাসির ছেলে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

Published by: Piya Banerjee
First published: November 14, 2020, 5:39 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर