corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাবার শেষ ইচ্ছে, কথা রাখতে সাইকেলেই ২১০০ কিমি. যাত্রা এই ব্যক্তির

বাবার শেষ ইচ্ছে, কথা রাখতে সাইকেলেই ২১০০ কিমি. যাত্রা এই ব্যক্তির
মুম্বইয়ের আবাসনের সিকিওরিটি গার্ড আরিফ

পথে বেশ কয়েকবার পুলিশের মুখোমুখি হয়েছেন আরিফ। কেউ তাঁকে আটকায়নি। কেউ তাঁকে কোনও রকমভাবে সাহায্যও করেনি।

  • Share this:

ফোনটা আসে মঙ্গলবার দুপুরে। মুম্বইয়ে পাহারাদারের কাজ করা মহম্মদ আরিফ জানতে পারেন, তাঁর বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁকে একবার চোখের দেখা দেখতে চাইছেন। অন্য সময় হলে ট্রেনে চড়ে রওনা দেওয়া যেত, কিন্তু বিধি বাম। দেশ জুড়ে লকডাইন। এই অবস্থায় ২১০০ কিলোমিটার দূরে জম্মুর রাজৌরি অঞ্চলে বাড়িতে পৌঁছতে আরিফ যা করলেন তা সিনেমাকেও হার মানাবে।

আরিফের অভিজ্ঞতা তাঁর মুখেই শোনা যাক। সিএনএন নিউজ ১৮-কে বান্দ্রার লিব্রা টাওয়ার নামক আবাসনের সিকিওরিটি গার্ড আরিফ বলেন, "আমি সাহায্যের জন্যে নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি। কিন্তু সাহায্য পাইনি। আমি আমার এক বন্ধুকে তখন ৫০০ টাকা দিয়ে তার সাইকেলটা ধার নিই। বাবাকে দেখতে রওনা হই ওই সাইকেলে চড়েই।"

এরপর দু'দিন টানা সাইকেল চালিয়েছন আরিফ। লক্ষ্য একটাই, শেষবার, যেন বাবার সঙ্গে দেখা হয়। আরিফ বলছিলেন, "আমার বাবাকে দেখার কেউ নেই। আমার কোনও ভাইবোন নেই। আমি ৮০০ টাকা আর সামান্য কয়েক বোতল জল নিয়ে রওনা হই। রাতে রাস্তাতেই শুয়েছি।এখন আমার কাছে ৬০০ টাকা পড়ে আছে। " এই কথা যখন আরিফ বলছেন, তখন তিনি মহারাষ্ট্র গুজরাটের বর্ডারে। ফোনের চার্জ ফুরিয়ে আসছে।

পথে বেশ কয়েকবার পুলিশের মুখোমুখি হয়েছেন আরিফ। কেউ তাঁকে আটকায়নি। কেউ তাঁকে কোনও রকমভাবে সাহায্যও করেনি। সমস্ত দোকানপাট বন্ধ থাকায় অভুক্ত থাকতে হয়েছে আরিফকে।

আরিফের বাড়ি নাভের ভ্রমণা বলে এক গ্রামে। বৃদ্ধ পিতার সঙ্গে সেই গ্রামে বাড়িতে রয়েছেন আরিফের স্ত্রী ও সন্তান।

এর পরে সিএনএন নিউজ-১৮ এর তরফে আ্ররিফের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি। কিন্তু যোগাযোগ করা ইয়েছে জম্মুকাশ্মীর প্রশাসনের সঙ্গে। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন লক্ষ্মণপুর অঞ্চল থেকে তাঁকে নিয়ে রাজৌরি পৌঁছে দেওয়া হবে চার ঘণ্টায়।

First published: April 4, 2020, 3:18 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर