মাত্র এক টাকায় দুপুরের পেট ভরা খাবার!‌ ভারতেই রয়েছে এমন দোকান

Image: ANI

এই দোকানের মূল নীতি হচ্ছে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে দুপুরের খাবার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া। দুপুর ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত এই খাবার পাওয়া যায়।

  • Share this:

    করোনা ভাইরাস অতিমারির প্রভাবে সারা ভারতে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। মূলত, প্রভাব পড়েছে ছোট ব্যবসার উপর। অনেক ছোট দোকানদার, হকার এই সময়ে উপার্জন শূন্য হয়েছেন। অনেকে চাকরি হারিয়েছেন, সকলেই ধুঁকছেন সামান্য উপার্জনের জন্য। যতটুকু খরচ না করলে বেঁচে থাকা যায়, তার থেকে বেশি খরচ করতে চাইছেন না কেউ। অনেকেই বাড়ি থেকে কাজ করছেন, সেই কারণে বাইরের খাবার খেতে হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে খাদ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে পৃথিবী, এমনটা মনে করছে রাষ্ট্রসংঘ। তাদের যে হিসেব অনুসারে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ ২০২০ সালে খাদ্য সঙ্কটে পড়তে পারেন। এই পরিস্থিতিতে গোটা বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক অভিনব পদ্ধতি চালু করেছে দিল্লির একটি খাবার দোকান। সেখানে একটি থালি অর্থাৎ একবেলার খাবার পাওয়া যাচ্ছে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে।

    শ্যাম রসই নামে এই দোকানটি রয়েছে দিল্লির শিব মন্দির অঞ্চলে। এই দোকানের মূল নীতি হচ্ছে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে দুপুরের খাবার মানুষের হাতে তুলে দেওয়া। দুপুর ১১ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত এই খাবার পাওয়া যায়। এই দোকানের মালিক প্রবীন কুমার জানিয়েছেন, গত দুই মাস ধরে তিনি অভুক্ত সাধারণ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্যই এই পরিকল্পনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন প্রতিদিন প্রায় দু’‌হাজার মানুষের খাবার এখান থেকে যায়। তার মধ্যে এক হাজার মানুষ নিয়মিত দোকানে খেতে আসেন, বাকি এক হাজার মানুষকে বিভিন্নভাবে পার্সেল করে দেওয়া হয়।

    একটি বন্ধ কারখানার খালি জমিতে এই খাবারের দোকান তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী রঞ্জিত সিং বিনামূল্যে এই জমি দিয়েছেন দোকান করার জন্য। কা থাকে এই থালিতে?‌ সাধারণত ভাত, রুটি, পনির, সোয়াবিন, হালুয়া, এছাড়া সকালবেলা একটা কাছে চা–ও। এখানে কাজ করেন মোট ছ’‌জন কর্মী, যাঁদের দৈনিক বেতনের পরিমাণ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। যা বিক্রি হয় তার উপর নির্ভর করে দেওয়া হয় এই বেতন। এছাড়া স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রীরাও এগিয়ে এসে সাহায্য করেন। কয়েকদিন আগে ১০ টাকায় এই খাবারের প্রথা চালু করেছিলেন এই দোকানের মালিক। তারপর আরও বেশি মানুষকে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য এক টাকার বিনিময়ে থালি বিক্রি শুরু করেন তাঁরা। দোকানের মালিক জানিয়েছেন, ‘‌আমরা বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে অর্থ সাহায্য পাই। কয়েকদিন আগে একজন বৃদ্ধ মানুষ এসে আমাদের আমাদের হাতে তার রেশন তুলে দিয়েছেন। যেখানে গম, চাল ইত্যাদি রয়েছে। এত সাহায্যের জন্যই আমরা দু’‌মাস ধরে একাজ চালিয়ে যেতে পারছি। ডিজিটাল গেটওয়ের মাধ্যমেও আমাদের কাছে সাধারণ মানুষ অর্থ তুলে দেন। আমরা এখনও আরও সাত দিনে এই এক টাকার বিনিময়ে খাবারের পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারবো।’‌

    Published by:Uddalak Bhattacharya
    First published: