
#বেঙ্গালুরু: করোনার দ্বিতীয় দাপটে তছনছ হয়ে যাচ্ছে গোটা দেশ। বহু বড় শহরকে ফের লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে উন্নয়ন। তবে বেঙ্গালুরু থমকে যায়নি। লকডাউনেও সেখানে চুটিয়ে ব্যবসা করছেন ছোট ব্যবসায়ীরা। বেঙ্গালুরুর কেআর পুরমের বাসিন্দা রমেশ-এর ছোট একটি মুদিখানা দোকান রয়েছে। যেখানে বেশিরভাগ দিন গ্রাহকেরা ধার-বাকিতে সদাই কিনতে চলে আসেন, ব্যবসার জন্য রমেশ কিছু বলতেও পারেন না এবং গ্রাহকদের ধার-বাকির হিসেব দিনে দিনে তাঁর বোঝা হয়ে উঠতে শুরু করে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে তিনি একটি উপায় বের করেন, Gogle Play Store থেকে Khatabook নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করা শুরু করেন। প্রথম একমাস তিনি অ্যাপলিকেশনটা নিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি পুরো বিষয়টাকে বুঝতে পারেন যে Khatabook অ্যাপটি তাঁর জন্য প্রয়োজনীয় একটি অ্যাপ। এর সাহায্যে গ্রাহকদের সমস্ত আপডেট তিনি রাখতে পারবেন। এর পর থেকে রমেশের ব্যবসা Khatabook-কে সঙ্গী করে দুরন্ত গতিতে চলতে শুরু করেছে।
এবার জেনে নেওয়া যাক Khatabook আসলে কী? এটি একটা অ্যাপ্লিকেশন। ২ বছরের পুরনো একটি স্টার্টআপ অ্যাপ। যার মূল উদ্দেশ্য হল ক্ষুদ্র ব্যবসায় এবং এমএসএমই-গুলিতে মনোনিবেশ করে ডিজিটালাইজেশনের ব্যবসাকে আরও উন্নত করা। গত বছর লকডাউন চলাকালীন পুরো বিশ্ব যখন রোলার কোস্টার রাইডে গিয়েছিল, তখন Khatabook ব্যবহারকারীর সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। অ্যাপের কো-ফাউন্ডার রবিশ নরেশের (Ravish Naresh) দাবি ২০২০-২১-এ অ্যাপটি ২০০% বৃদ্ধি পেয়েছে ও বহু ব্যবসায়ীর সঙ্গী হয়েছে।
Khatabook ব্যবহার করার পদ্ধতি খুব সহজ। আপনার ব্যবসাকে ডিজিটালাইজড করে সব সুরক্ষা দিতে পারে এই অ্যাপ। প্রতি দিনের ব্যবসার সমস্ত নথি অন্তর্ভুক্ত করে রাখা যায়। যে গ্রাহকরা ধার-বাকিতে জিনিস কেনেন, তাঁদের জন্য বিশেষ করে তৈরি করা হয়েছে এই অ্যাপ। ধার-বাকির গ্রাহকদের পাওনা অর্থের নোটিফিকেশন সহ পেমেন্টের জন্য ইউপিআই লিঙ্ক সরবরাহ করতে সক্ষম Khatabook। অ্যাপটিতে ১৩টি আঞ্চলিক ভাষা রয়েছে এবং প্রায় ৮০ লক্ষ ব্যবহারকারীকে এতে অনবোর্ড করা হয়েছে। এই মুহূর্তে সংস্থাটির মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
Khatabook হিন্দি ভাষার মানুষ বেশি ব্যবহার করছে। কর্নাটকের কন্নড় ভাষায় অ্যাপ্লিকেশনটি প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ ব্যবহার করছে। এছাড়াও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি মরাঠি, গুজরাতি, বাংলা ভাষায় গ্রহণ যোগ্যতা বেড়েছে। ভারতের ৯৫% জেলায় এর ব্যবহার বেড়েছে। জয়পুর এবং লখনউ-এর বণিকরা একটু এগিয়ে এই দিক থেকে। অ্যাপের কো-ফাউন্ডার রবিশ নরেশ বলেন সংস্থাটির দক্ষ কর্মচারীদের নিয়ে বেঙ্গালুরুতে অফিস করা হয়েছে। এছাড়াও Pagar Khata নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আরও একটি অ্যাপ তারা নিয়ে এসেছে। যা ছোট ব্যবসায়ীদের ডিজিটালাইজ করে তাঁদের ব্যবসাকে আরও উন্নত করবে।