• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • THIRTEEN YEAR OLD ASSAM GIRL WINS HEART BY LOOKING AFTER TWO LITTLE BROTHERS AFTER DEATH OF PARENTS DMG

Assam Girl Wins Hearts: বাবা মা মৃত, ছোট্ট দুই ভাইয়ের অভিভাবক ১৩ বছরের দিদি! তবু ভয় পায় না পাপুলি

ছোট্ট দুই ভাইয়ের সবকিছু এখন পাপুলি৷

তিন বছর প্রথমে নিজের বাবাকে হারায় পাপুলি৷ এর পরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত মা এবং ছোট দুই ভাইয়ের দেখাশোনা করার জন্য স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় তার (Assam Girl Wins Hearts)৷

  • Share this:

    #জোরহাট: বয়স ১৩ বছর৷ কোন স্বচ্ছল পরিবারের শিশুর জন্য হয়তো এই বয়সটা পড়াশোনা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলো, বাবা মায়ের কাছে একের পর এক আব্দার করার৷ কিন্তু অসমের জোরহাটের দোহুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ১৩ বছরের পাপুলির জন্য নিয়তি হয়তো অন্য কিছু লিখে রেখেছিল৷ কারণ বাবা-মাকে হারানোর পর এই বয়সে ছোট্ট মেয়েটিই তাঁর আরও ছোট দুই ভাইয়ের অভিভাবক৷ পাপুলির এই কাহিনিই তুলে ধরেছিল নিউজ ১৮৷ সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া পাপুলির এই অসহায় অবস্থা অনেকেরই মন গলিয়ছে, চোখ পাতা ভিজিয়ে দিয়েছে৷ অসমের সমাজকল্যাণ মন্ত্রীও পাপুলি এবং তার ভাইদের সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন৷

    তিন বছর প্রথমে নিজের বাবাকে হারায় পাপুলি৷ এর পরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত মা এবং ছোট দুই ভাইয়ের দেখাশোনা করার জন্য স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় তার৷ পরিবারের একমাত্র রোজগেরে হয়ে দাঁড়ায় ছোট্ট মেয়েটি৷ গ্রামের ধান ক্ষেতে কাজ করে পরিবারের সবার মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় সে৷

    কিন্তু দিন পনেরো আগে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হেরে যান পাপুলির মা৷ অসু্স্থ গলেও এতদিন পাপুলি এবং তার ভাইদের মাথার উপরে অভিভাবক হিসেবে ছিলেন তিনি৷ কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর পাপুলিই তার ছোট দুই ভাইয়ের বাবা-মা সবকিছু হয়ে দাঁড়ায়৷

    তবু ছোট থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করেই হয়তো ১৩ বছর বয়সেও এক বুক সাহস আর আত্মসম্মান বোধ জন্ম নিয়েছে ১৩ বছরের এই কিশোরীর মনে৷ তার কথায়, 'ধান ক্ষেতে কাজ করে দিনে ২৫০ টাকা করে পাই৷ এই টাকা দিয়েই আমি নিজের দুই ভাইয়ের দেখাশোনা করতে পারি৷ মায়ের মৃত্যুর পর আমার ভাইরা মাঝে মধ্যে রাতের দিকে ভয় পায়, কিন্তু আমি কখনও ভয় পাই না৷ বিনা শ্রমেও কারও থেকে শুধু শুধু টাকা নিতে চাই না আমি৷'

    পাপুলি এবং তার ভাইদের এই অবস্থা দেখে বেশ কয়েকজন তাদের দত্তক নেওয়ার প্রস্তাবও দেয়৷ কিন্তু তিন ভাই বোনই আলাদা হতে চায়নি৷ পাপুলিদের এক প্রতিবেশীর কথায়, 'আমরা ওদের যতটা সম্ভব সাহায্য করছি৷ কিন্তু ওদের জন্য সরকারকে কিছু করতে হবে৷ তিন ভাইবোনই আলাদা হতে চায় না৷ ফলে কেউ দত্তক নিলেও ওরা যেতে রাজি নয়৷' ফলে ভাঙাচোরা ঘরেই কোনওক্রমে দিন কাটছিল তিন ভাইবোনের৷ নিউজ ১৮-এ পাপুলি এবং তার দুই ভাইয়ের অসহায়তার কথা জানতে পেরে বহু মানুষই তাদের সাহায্য করার জন্য অসম সরকারের কাছে আবেদন জানায়৷

    নিউজ ১৮-এর ওই প্রতিবেদনে পাপুলি জানিয়েছিল, ক্লাস সেভেন পড়ার সময়ই অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করার জন্য তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়৷ ফের স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করে পাপুলি আরও বলে, 'আমিই ভাইদের জন্য রান্না করি, ওদের দেখাশোনাও করি৷ আমার এক ভাই ক্লাস ফাইভে পড়ে৷ আর এক ভাইয়ের বয়স চার বছর৷ আমার খুব ইচ্ছে যাতে আবার আমরা সবাই পড়াশোনাও করতে পারি আর ঠিক মতো খাবার পাই৷'

    নিউজ ১৮-এ পাপুলিদের কথা জানতে পেরে অসমের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী অজন্তা নিওগ ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, 'তিন ভাইবোনেরই যাবতীয় দায়িত্ব নেবে অসম সরকার৷ ওরা যাতে ফের স্কুলে গিয়ে নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারে, তা দেখা হবে৷' জোরহাট জেলা পরিষদ থেকেও একটি দল পাপুলিদের বাড়িতে পৌঁছয়৷ প্রাথমিক ভাবে শিশুদের জন্য বরাদ্দ সরকারি প্রকল্প থেকে পাপুলিদের ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে৷ পাপুলিরা যাতে সরকারি আর্থিক সাহায্য পেতে পারে, তার জন্য তাদের নামে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হচ্ছে৷ পাপুলিদের বাড়িতে পানীয় জলের ব্যবস্থা করার জন্যও স্থানীয় পঞ্চায়েতকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: