• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • THESE NEW MOTHERS CANT EVEN BREASTFEED THEIR BABIES DUE TO LOCKDOWN AG

Lockdown| 'বুকে দুধ শুকিয়ে গিয়েছে, বাচ্চাকে মরতে দেখবো?' খিদের জ্বালায় নতুন মায়েদের আর্তনাদ

ছবিটি প্রতীকী

বিছানায় শুয়ে জড়ানো গলায় নীতু বললেন, 'দুধ নেই৷ মাঝে মাঝে খাবার পাচ্ছি, মাঝে মাঝে অনাহারে কাটছে৷

  • Share this:

    Suhas Munshi

    #গুরগাঁও: গত ৭ মার্চ চতুর্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন৷ সেই থেকে পেটভরা খাবার জোটেনি নীতুর৷ ৩২ বছরের মেয়েটি এতটাই দুর্বল যে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছেন না৷ পা টলে যাচ্ছে৷ পেটের জ্বাল সহ্য করতে করতে কাহিল৷ স্বামী পেশায় চর্মকার৷ গত ৩ সপ্তাহ হল সব রোজগার বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ এমনকী সন্তানের জন্মের পরে প্রয়োজনীয় ওষুধও জুটছে না৷ পয়সা কই!

    বিছানায় শুয়ে জড়ানো গলায় নীতু বললেন, 'দুধ নেই৷ মাঝে মাঝে খাবার পাচ্ছি, মাঝে মাঝে অনাহারে কাটছে৷ ডাক্তার অনেক ওষুধ দিয়েছেন৷ টাকাই নেই কেনার৷ সারাদিন দুর্বল লাগে৷ বিছানা ছেড়ে উঠতে পারি না৷ আমার বাচ্চাটাও শুকিয়ে যাচ্ছে৷' গুরগাঁওয়ের প্রেম নগর বস্তি৷ সেখানেই নীতুর ঠিকানা৷ বস্তির লোকেরাই টাকা তুলে সদ্যোজাত সন্তানকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করছেন৷

    প্রতিবেশী কাল্লো দেবীর কথায়, 'ওদের এককাপ চা খাওয়ারও টাকা নেই৷ একেবারে নিঃস্ব৷ দিন দশেক আগে নীতু যখন আইসিইউ থেকে ছাড়া পেল কেউ একজন ১০ কিলো গম দিয়েছিল৷ কিন্তু সেই গম ভাঙিয়ে যে আটা করবে, তারও পয়সা নেই৷ আমি ওর বাচ্চাটাকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছি৷ নীতুর তো বুকের দুধও শুকিয়ে গিয়েছে৷'

    নীতুর স্বামী হ্যান্ডিক্যাপড৷ অন্তত ভিক্ষা করেও কিছু টাকা নিয়ে আসতে পারতেন৷ কিন্তু ওঁর হুইলচেয়ারটিও কয়েক সপ্তাহ আগে চুরি হয়ে গিয়েছে৷ নীতুদের বস্তি থেকে ১ কিলোমিটার দূরে আরও একটি বস্তি৷ গুরগাঁও বাস টার্মিনালের কাছে৷ সেখানে আঁচল দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ আগে৷ ডাক্তার বলেছেন, এখন বিশ্রাম খুব দরকার৷ খিদের জ্বালায় তিনিও দুর্বল৷ তাই প্রসবের পরেই কিছু দূরে একটি লঙ্গরখানায় ছুটেছেন, পেট ভরাতে৷

    আঁচলের স্বামী দিনমজুর৷ তাঁর মা রাগী গলায় বললেন, 'আমাদের কথা কেন ভাবচে না সরকার? অনেক দিন পরে এখানে একটা লঙ্গর খুলল সরকার৷ তাও পুরি আর আলুরদম৷ আচ্ছা ১৫ দিনের একটি শিশু পুরি-আলুরদম খাবে? সরকার বলছে বাড়ি থেকে বেরবেন না৷ তার মানে আমরা ঘরে বসে বসে বাচ্চাগুলোকে চোখের সামনে মরতে দেখবো? আঁচলের বাবা একটু গুঁড়ো দুধ কিনবে বলে ভিক্ষে করতে গিয়েছিল৷ পুলিশ ধরল৷ মারল৷'

    মনোবিদ জেহরা মেহদির কথায়, 'লকডাউনের জেরে বেকারত্ব, এবং তার ফলে সদ্য সন্তানের জন্ম দেওয়া এই ধরনের মহিলাদের আত্মসম্মানে আঘাত, অত্যন্ত বিপজ্জনক৷ যখন একজন মহিলা বলছেন, আমি এতই দুর্বল যে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছি না, তখন তাঁর আত্মগর্ব ও অত্মসম্মানের জায়গাটা ক্ষতবিক্ষত৷ আমি অনেক জায়গা থেকেই ফোন পাচ্ছি৷ পুরুষরা অনেক সময়ই না খেয়ে কাটিয়ে দিচ্ছেন৷ কিন্তু মহিলারা প্রচণ্ড অবসাদে ভুগছেন৷ তাঁরাই সবচেয়ে বেশি চিন্তিত৷ লকডাউনের আগে যাও বা একটু স্বাধীনতা ছিল, এখন অনেক মহিলাই অত্যাচারী স্বামী বা শাশুড়ির অত্যাচার সহ্য করছেন ২৪ ঘণ্টা৷ এটা যে একটি মেয়ের পক্ষে কত বড় মানসিক চাপ, তা কল্পনার অতীত৷'

    Published by:Arindam Gupta
    First published: