দেশ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

UGC নির্দেশিকায় না, রাজ্যের অ্যাডভাইজারি মেনেই নতুন করে কোনও পরীক্ষা হবে না, জানাচ্ছেন উপাচার্যরা

UGC নির্দেশিকায় না, রাজ্যের অ্যাডভাইজারি মেনেই নতুন করে কোনও পরীক্ষা হবে না, জানাচ্ছেন উপাচার্যরা

প্রশ্ন থাকছে এ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যদি ইউজিসির গাইডলাইন না মেনে পরীক্ষা না নেয় তাহলে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যান্য রাজ্যে পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না তো?

  • Share this:

#কলকাতা: এবার ইউজিসির নয়া গাইডলাইন নিয়ে সরাসরি সংঘাতে যেতে চলেছেন এ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা? শুক্রবারের "উপাচার্য পরিষদের" নেতৃত্বে সব উপাচার্যদের বৈঠকের পর পর এমনই জল্পনা শুরু হতে চলেছে। ইউজিসির নয়া গাইডলাইন পরীক্ষা নিয়ে দেওয়ার পর পর বৃহস্পতিবার রাজ্য উচ্চ শিক্ষা দফতরের আপত্তি জানিয়ে ইউজিসিকে চিঠি পাঠানো হয়। চিঠি পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় রাজ্যের আপত্তির কথা। তার সঙ্গে ইউজিসির নয়া গাইডলাইনকে পুনর্বিবেচনা করার আবেদন  রাখা হয় রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দপ্তরের তরফে পাঠানো চিঠিতে।

শুক্রবার সকাল বেলাতেই উপাচার্য পরিষদের অধীনে রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যরাই আলোচনায় বসেন। মূলত UGC’র নয়া গাইডলাইন মেনে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নাকি সে বিষয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। বৈঠকে উপাচার্য কার্যত একমত বর্তমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। বৈঠক শেষেই উপাচার্য পরিষদের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয় বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা রাজ্যের অ্যাডভাইজারি মেনেই চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন করবে। শুধু তাই নয় উপাচার্য পরিষদের তরফে নেওয়া এদিনের সিদ্ধান্ত ইউজিসি চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠিয়ে জানানো হবে বলেও স্থির হয়েছে বৈঠকে।

চলতি সপ্তাহেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়ার অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। অনুমতি পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের তরফে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের কিভাবে পরীক্ষা নেওয়া হবে সে বিষয়ে বিশদ গাইডলাইন জারি করা হয়। গাইডলাইনে ৩০ শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়। এর পাশাপাশি অনলাইন,অফলাইন অথবা অনলাইন ও অফলাইন এই তিনটি মাধ্যমের মধ্যে যেকোনো একটি মাধ্যমের সাহায্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানানো হয়। যদিও গত মাসেই রাজ্যের তরফে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি কিভাবে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের ছাত্র-ছাত্রীদের মূল্যায়ন করবে সে বিষয়ে বিস্তারিত অ্যাডভাইজারি জারি করে। যেখানে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় কোন লিখিত পরীক্ষা হবে না তার বদলে ৮০% নম্বর দিতে হবে ছাত্র-ছাত্রীদের আগের সেমিস্টারের পরীক্ষা গুলিতে সবথেকে বেশি পাওয়া নম্বরকে চূড়ান্ত বর্ষের সেমিস্টারের নম্বরের যোগ করতে হবে এবং তার সঙ্গে বাকি ২০ শতাংশ ইন্টার্নাল অ্যাসেসমেন্ট এর নিরিখে নম্বর দিতে হবে।

রাজ্যের তরফে অ্যাডভাইজারি জারি করার পর পর রাজ্যের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ছাত্র-ছাত্রীদের মূল্যায়ন নিয়ে নির্দেশিকা জারি করে দেয়। যাদবপুর,কলকাতা,প্রেসিডেন্সি,বিদ্যাসাগরের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে নির্দেশিকা জারি করে ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফল প্রকাশ করার প্রক্রিয়াও শুরু করে দেয়। শুক্রবারের উপাচার্য পরিষদের বৈঠকে ঠিক হয়েছে রাজ্যের অ্যাডভাইজারি অনুযায়ী ইতিমধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যে ফলাফল প্রকাশের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে তাও ইউজিসিকে জানানো হবে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাজ্যের তরফে আপত্তি এবং ইউজিসিকে এই চিঠি পাঠানোর পর পর ইউজিসির তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি রাজ্য থেকে এই ধরনের প্রস্তাব পেলেও তারা পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। তবে শুক্রবারে উপাচার্য পরিষদের নেতৃত্বে রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কার্যত এটা নিশ্চিত যে ইউজিসির সঙ্গে এবার রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যরা প্রকাশ্যেই সংঘাতে যেতে চলেছে ৷ চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়নের প্রক্রিয়া নিয়েই এই সংঘাত ৷ যদিও সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকছে এ রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি যদি ইউজিসির গাইডলাইন না মেনে পরীক্ষা না নেয় তাহলে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের অন্যান্য রাজ্যে পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না তো?

সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়

Published by: Elina Datta
First published: July 10, 2020, 9:25 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर