৪১ পল্লির থিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ৭ রঙা রামধনুতে ৭ ধর্মের প্রতীক

নিজস্ব চিত্র

নানা, বর্ণ। নানা ধর্ম। নানা জাতির দেশ ভারতবর্ষ। সবাই একই সূত্রে বাধা। মাঝে মাঝে তাল কাটে বটে।

  • Share this:

    #কলকাতা: নানা, বর্ণ। নানা ধর্ম। নানা জাতির দেশ ভারতবর্ষ। সবাই একই সূত্রে বাধা। মাঝে মাঝে তাল কাটে বটে। ধর্মের নামে ছড়ায় হিংসা । দাঙ্গা, হানাহানির খবরে বাড়ে আতংক। তবু জোটবদ্ধ জীবন। সমাজ। আজও। হরিদেবপুর ৪১ পল্লীর পুজো দেখতে এসে সম্প্রীতির এই ছবিতেই এবার মুগ্ধ হবেন দর্শক। চ্যালেঞ্জ শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যার।

    ভাঙা নয়। গড়া। বার বার এমনই উদাহরণ তৈরি করেছে ভারত। জাতের নামে বজ্জাতি। ধর্মান্ধতার অন্ধকার জগত। সব ছাপিয়ে উঠেছে সূর্য । সূর্যের আলোয় সব মলিনতা ধুয়ে মুছে পরিস্কার হয়ে গেছে। শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যার কল্পনায় এভাবেই সেজে উঠছে হরিদেবপুর ৪১ পল্লীর পুজো মণ্ডপ।

    মণ্ডপে ঢোকার মুখেই সাত-রঙা রামধনু। সাতটি ধর্মের প্রতীক। বৈচিত্রের মাঝেই মিলনের ফিউসান। তার মধ্যে দিয়েই মূল মণ্ডপে প্রবেশ। ভিতরটা কেমন যেন ঝাপসা। দুর্বোধ্য। জটিল জীবনের টুকরো টুকরো মূহূর্ত। ধর্মের আগ্রীসা বিশাল অক্টোপাস জড়িয়ে রেখেছে পুরো মণ্ডপ। সব ছাপিয়ে সূর্যোদয়। শান্তির, সম্প্রীতির , শক্তির প্রতীক। মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের পাটকাঠি ও টায়ার।

    এখন অস্ত্র মানেই বিতর্ক। কিন্তু সূর্যের চেয়ে বড় অস্ত্র আর হয় নাকি? প্রশ্ন শিল্পীর। আর তাই ৪১ পল্লীর দুর্গা অসুরদলনী নন। নিরস্ত্র। পায়ের কাছে হেলায় পড়ে অস্ত্র। দুর্গা এখানে শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছেন মর্তে।

    আবহ সঙ্গীতে জয় সরকার। পুজোর নান্দনিকতার সঙ্গে সামাজিক বার্তার এই মেলবন্ধনে একটা বড় ভূমিকা থাকছে রাখির। মণ্ডপ জুড়ে অসংখ্য রাখি। সম্প্রীতির রাখি। একে অন্যকে এই রাখি পরানোর সুযোগ পাবেন দর্শকরাও।

    First published: