ঘুরেছে চার্চিল থেকে শার্লক হোমসের ঠোঁটে, তিরুচিরাপল্লীর সিগারের পরতে পরতে জড়িয়ে ইতিহাস

ঘুরেছে চার্চিল থেকে শার্লক হোমসের ঠোঁটে, তিরুচিরাপল্লীর সিগারের পরতে পরতে জড়িয়ে ইতিহাস
Trichinopoly cigar

ব্রিটিশ ভারত ও পরবর্তী সময়ে এক সুপ্রাচীন ইতিহাস বহন করে চলে এই সিগার সংস্থা। নাৎজি জার্মানি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও এক সুদৃঢ় বাণিজ্যিক রণনীতিকে তুলে ধরে এই সংস্থা।

  • Share this:

#তিরুচিরাপল্লী: ব্রিটিশ ভারত ও পরবর্তী সময়ে এক সুপ্রাচীন ইতিহাস বহন করে চলে এই সিগার সংস্থা। নাৎজি জার্মানি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েও এক সুদৃঢ় বাণিজ্যিক রণনীতিকে তুলে ধরে এই সংস্থা। ঔপনিবেশিক ভারতে ছোট ছোট ব্যবসা আর উদ্যোগ যখন সবে হাঁটতে শিখেছে, তখন ব্র্যান্ড ইমেজের স্বপ্ন দেখিয়েছিল এই সংস্থা। কথা হচ্ছে তিরুচিরাপল্লীর বিখ্যাত সিগার সংস্থাকে নিয়ে। আসুন জেনে নেওয়া যাক বিশদে!

২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ১৯০০ সালে ফেন থম্পসন প্রতিষ্ঠা করেন সোলাই থেভর (Solai Thevar)। যা তিরুচিরাপল্লীর অন্যতম সিগার প্রস্তুতকারক সংস্থা হিসেবে জনপ্রিয়তা লাভ করে। তৎকালীন সময়েও ব্র্যান্ডিংয়ের শক্তি বুঝতে পেরেছিলেন সোলাই। ফেন থম্পসনের প্রোপাইটার বাসুদেবনের কথায়, অনেকেই দেশি নামে সংস্থা চালাচ্ছিল। কিন্তু ব্র্যান্ড ইমেজের কথা মাথায় রেখে ইংরেজি নামেই চলতে থাকে ফেন থম্পসন। একটা সময় এই সংস্থা যে দাপিয়ে বেড়িয়েছিল, তার অনেক প্রমাণও পাওয়া যায়। স্বাধীনতার পূর্বে নানা বিজ্ঞাপন, লিফলেট, প্যামফ্লেটেও সেই বিষয়টি ফুটে ওঠে। বাসুদেবনের সঙ্গে কথোপকথন সূত্রে জানা যায়, এক সময়ে চার্চিলকে সিগার পাঠাত এই সংস্থা।

১৯৪০ সালের শুরু দিকে। নাৎজি জার্মানির ডুবোজাহাজের ইতিহাস ব্যখ্যা করতে গিয়েও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের প্রিয় হাভানা সিগারের প্রসঙ্গ উঠে আসে। তীক্ষ্ণ ধারযুক্ত ত্রিচির সিগার নিয়ে নানা সমালোচনা ও আলোচনাও রয়েছে। ক্রাইম লেখক ডরোথি সাইয়ারসের (Dorothy Sayers) গোয়েন্দা লর্ড উইমসে এই সিগারের প্রসঙ্গে উঠে আসে। ১৮৮৭ সালে আর্থার কোনান ডয়েলের (Arthur Conan Doyle) শার্লক হোমসেও (Sherlock Holmes) এই তিরুচিরাপল্লীর সিগারের প্রসঙ্গ উঠে আসে।


ফেন থম্পসনের (Fenn Thompson) সিগারগুলিতে ব্যবহৃত তামাক নিকটবর্তী ডিন্ডিগুল ( Dindigul) থেকে সংগ্রহ করা হত। এক্ষেত্রে আপেল, কমলালেবু, আনারস এবং আঙুরের রস, গুড় এবং মধু মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করা হত। দিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় শ্রমিকরা সিগার তৈরি করতেন। যদিও পরের দিকে এই ধরনের ব্যবসায় একটু পরিবর্তন দেখা যায়। ব্যবসার স্থায়িত্বের ভয়ে এই সিগার তৈরির কাজ থেকে সরে আসেন অনেকে। কিন্তু এর মাঝেই পরিবারের ব্যবসা আঁকড়ে চলার কথা বলেছেন বাসুদেবনের ছেলে ভি রত্নাভেল (V Rathnavel)।

২০১০ সালে Armenteros নামে একটি প্রিমিয়াম ‘হ্যান্ড রোলড’ সিগার ব্র্যান্ড চালু করেছিল ITC। বিজ্ঞাপনও ছিল নজরকাড়া। সিগার তৈরির কৌশল থেকে শুরু করে নানা দেশে থেকে তামাক আমদানির কথা বলা হয়েছিল। চার্চিল স্পেশাল, ব্ল্যাক টাইগার-সহ একাধিক জনপ্রিয় ব্যান্ড নিয়েও প্রায়শই নানা মাতামাতি হয়েছে। তবে এই সব থেকে একটু আলাদা তিরুচিরাপল্লীর এই সিগার। বছর দু'য়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে বাসুদেবন জানিয়েছিলেন, পণ্য বিক্রি করতে আমরা কখনও কোনও ফ্যান্সি বা নজরকাড়া শব্দের উপরে নির্ভর করিনি। আমাদের গ্রাহকরা প্রজন্ম ধরে এই ব্র্যান্ডের উপরে বিশ্বাস রেখেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইনেও প্রচুর অর্ডার এসেছে। প্রথম প্রথম কৌতূহলের বশে অর্ডার করেছেন মানুষজন। পরে ভালো লাগতে শুরু করে তাঁদের!

Published by:Subhapam Saha
First published: