হোম /খবর /দেশ /
বাইশেই তেইশের বার্তা! তৃণমূল-বামফ্রন্টকে একযোগে আক্রমণ ত্রিপুরার মানিকের

বাইশেই তেইশের বার্তা! তৃণমূল-বামফ্রন্টকে একযোগে আক্রমণ ত্রিপুরার মানিকের

অম্পির সভামঞ্চ থেকেই ত্রিপুরায় বিজেপির সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। সরকারের স্বচ্ছতার উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেন টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ প্রসঙ্গ।

  • Share this:

#ত্রিপুরা: ত্রিপুরার অম্পির সভামঞ্চ থেকে আরও একবার তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। তবে, সে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল বামফ্রন্ট-সহ কংগ্রেসকেও তুলোধনা করতে ছাড়লেন না এই বিজেপি নেতা।

এদিন ত্রিপুরার অম্পি বাজার গ্যালারি মাঠে দলের অম্পি মণ্ডল আয়োজিত একটি জন সমাবেশের বক্তৃতা করতে গিয়ে মানিক বলেন, "আজকাল তৃণমূল কংগ্রেসকে আমরা দেখছি, পরিযায়ী পাখির মতো তারা ৬ শতাংশ ভোট পেতে ত্রিপুরায় আসছে।  এই দলকে ত্রিপুরার মানুষ কখনওই গ্রহণ করবে না।"

আরও পড়ুন: ভোটগণনায় এগিয়ে জাদেজা-পত্নী, উৎসব শুরু পদ্মশিবিরে

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বাইরে, অন্য যে সমস্ত জেলায় তৃণমূল তাঁর প্রভাব বিস্তার করতে চায়, বাঙালি অধ্যুষিত ত্রিপুরা সেগুলির মধ্যে অন্যতম। বর্তমানে, ত্রিপুরা তৃণমূলের দায়িত্বে রয়েছেন সুস্মিতা দেব এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১-এ পুরনির্বাচনের আগে ত্রিপুরায় সংগঠন বাড়াতে তৎপর হয়েছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্য়ান্ড অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। তবে, সেই নির্বাচনে বিশেষ কোনও ছাপ ফেলতে পারেনি তৃণমূল।

কিন্তু, ২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে ত্রিপুরায় ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। সূত্রের খবর, এবার তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন টিডিএফ নেতা তথা প্রাক্তন ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পীযূষ বিশ্বাস। এর আগে যোগ দিয়েছিলেন তার ছেলে পূজন বিশ্বাস। রাজ্যের বর্ষীয়ান নেতা পীযুষ বিশ্বাস এবং তাঁর ছেলে পূজন বিশ্বাসের পাহাড়ে সংগঠন মজবুত। এর ফলে ঘাসফুল শিবির রাজনৈতিক ভাবে লাভবান হবে বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন: হিমাচলে কি বহাল থাকছে ৪০ বছরের 'রিওয়াজ'? শাসকবিরোধী ভোটে এগিয়ে কংগ্রেস

এই পরিস্থিতিতে জনসভা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সম্পর্কে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত অনেকের। এদিন মানিক বলেন, "রাজ্যে জাতি-জনজাতি ঐক্য সুদৃঢ় রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা‌ পরিস্থিতিও যথেষ্ঠ উন্নত। কিন্তু, একে নষ্ট করার জন্য অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধীরা।" তাই বিরোধীদের প্ররোচনা ও উস্কানির বিরুদ্ধে ভারতীয় জনতা পার্টির যুবমোর্চা কর্মীদের আরও বেশি সংগঠিত ও সতর্ক থাকতে হবে বলে জানান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী।

এরপরেই কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানান বিজেপি নেতা। বলেন, "এই রাজ্যের মানুষ কংগ্রেসের উশৃঙ্খলতা দেখেছে। তারপরে বিরক্ত হয়ে বিকল্প হিসাবে মার্কসবাদী কমিউনিস্ট পার্টিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। কিন্তু তারাও এ রাজ্যে এসে খুন সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।"

আরও পড়ুন: হিমাচলে কি বহাল থাকছে ৪০ বছরের 'রিওয়াজ'? শাসকবিরোধী ভোটে এগিয়ে কংগ্রেস

অম্পির সভামঞ্চ থেকেই ত্রিপুরায় বিজেপির সরকারের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। সরকারের স্বচ্ছতার উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেন টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ প্রসঙ্গ।

 মানিকের দাবি, বর্তমান ত্রিপুরা সরকার স্বাস্থ্য, শিক্ষা থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই প্রসঙ্গে অম্পি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের নবনির্মিত ভবনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি। বলেন, "রাজ্যের প্রত্যেকটি প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রকে হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারে পরিণত করার চেষ্টা চলছে।" অম্পি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের নবনির্মিত ভবন এবং স্টাফ কোয়ার্টারের দ্বারোদ্ঘাটনের ফলে এলাকার মানুষ দারুণভাবে উপকৃত হবেন বলে তাঁর আশা।

এছাড়া, স্থানীয় সূত্রের খবর, বাংলায় তৃণমূল সরকারের দুয়ারে সরকারের ধাঁচে ত্রিপুরাতেও শুরু হয়েছে 'প্রতি ঘরে সুশাসন' অভিযান। ত্রিপুরার প্রতিটা মানুষ যাতে সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতেই এই প্রকল্প শুরু করেছে ত্রিপুরা সরকার। এ দিন মানিক জানান, এই প্রকল্পের সময়সীমা বর্তমানে বাড়িয়ে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।

ত্রিপুরার প্রতিটা মানুষ যাতে বর্তমান বিজেপি সরকারকে নিজের সরকার ভাবতে পারে, তার জন্য মানিকের সরকার চালু করেছে বিশেষ পোর্টাল। এর মাধ্যমে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলের মানুষ তাঁদের যে কোনও অসুবিধা এবং সমস্যা সম্পর্কে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে।  প্রশাসনও যথাসম্ভব সেই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবে বলে বক্ৃতায় জানান মানিক।

তেইশের নির্বাচনের আগেই রাজনৈতিক হাওয়া গরম হতে শুরু করেছে ত্রিপুরায়। দল ভাঙা, দল জোড়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা। গুজরাত, হিমাচল তো মিটল, এবার নজরে থাকতে শুরু করল উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে।

Published by:Satabdi Adhikary
First published:

Tags: Tripura