৫০ হাজার পুলিশকর্মী, জলকামান....‘চাক্কা জ্যাম’ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী

৫০ হাজার পুলিশকর্মী, জলকামান....‘চাক্কা জ্যাম’ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তার চাদরে রাজধানী
Photo-Reuters

কৃষকদের ট্র্যাক্টর অভিযানের দশ দিন পরে দিল্লির কিছু অংশে বিক্ষোভকারীরা সারা দেশে তিন ঘন্টা চাক্কা জ্যাম (রোড ব্লক) পালন করতে প্রস্তুত

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লিতে হিংসার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রস্তুত দিল্লি পুলিশ ৷   শনিবার আন্দোলনকারী কৃষকদের দেশজোড়া ‘চাক্কা জ্যাম’ কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার বাড়ছে ৷  কর্মসূচি ঘিরে যাতে  হিংসা না ছড়ায়, সেই চেষ্টায়  কোনো কসুর রাখছে না দিল্লি পুলিশ। দিল্লির উপকণ্ঠে মোতায়েন করা হয়েছে ৫০ হাজার পুলিশকর্মী । রয়েছে পর্যাপ্ত জলকামানও।

    তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকদের বিক্ষোভে উত্তাল গোটা দেশ। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ‘চাক্কা জ্যাম’ কর্মসূচি হবে আজ। তবে এই কর্মসূচির বাইরে রাখা হয়েছে উত্তপ্রদেশ, উত্তরাখন্ড ও দিল্লি শহরে। শুক্রবার সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার তরফ থেকে এই ঘোষণা করা হয়। তবে দিল্লির বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে কৃষকদের ‘চাক্কা জ্যাম’ পালন করতে আর্জি জানিয়েছেন কৃষক মোর্চা।


    ‘চাক্কা জ্যাম’ কর্মসূচি প্রসঙ্গে রাকেশ বলেছেন, ‘এই কর্মসূচিতে অ্যাম্বুলান্স, স্কুলের গাড়ি রাস্তায় আটকে পড়লে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত সুরক্ষা মোতায়েন করা হয়েছে গোটা রাজধানীতেই ৷ শক্তিশালী করা হয়েছে ব্যারিকেড, যা দিল্লির অনেক মূল রাস্তায় ট্র্যাফিক যানজটের কারণ হতে পারে। গাজিপুর সীমান্তে জলকামানেরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে নজরদাড়িতে রাখা হয়েছে লাল কেল্লা অঞ্চলটিকে । পুলিশ জানিয়েছে, পুরো দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে প্রায় ৫০,০০০ পুলিশ, আধাসামরিক ও রিজার্ভ ফোর্সের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে ৷ এ ছাড়াও কমপক্ষে ১২ টি মেট্রো স্টেশনকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে ৷

    গত বেশ কয়েক মাস ধরে দিল্লি লাগোয়া সীমানায় কৃষি আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে চলেছেন দেশের কৃষকেরা। তাঁদের কোণঠাসা করতে বিক্ষোভস্থল লাগোয়া এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা, জল, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেও দেওয়া হয় বলে জানা যায়। তাঁদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয় ৷ এরই প্রতিবাদে চাক্কা জ্যাম কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন কৃষকরা। তবে সাধারণতন্ত্র দিবসের দিন কৃষকদের ট্র্যাক্টর র‍্যালি ঘিরে অশান্তির ঘটনার পর রাজধানীকে চাক্কা জ্যাম কর্মসূচির বাইরে রাখার যে সিদ্ধান্ত নিলেন কৃষকরা।

    প্রসঙ্গত, বুধবার কৃষকদের মহাপঞ্চায়েতে পাঁচটি প্রস্তাব পেশ করা হয়, সেগুলি হল- বিতর্কিত তিন কৃষি আইন বাতিল, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যর সাংবিধানিক গ্যারান্টি, স্বামীনাথন রিপোর্টের বাস্তবায়ন করা , ২৬ জানুয়ারি লালকেল্লায় হামলার ঘটনায় কৃষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা এবং কৃষক নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহের আলোচনা। ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের মুখপাত্র রাকেশ তিকাইত বলেন, সরকারের সঙ্গে ফের আলোচনা শুরু করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সংযুক্ত কিষান ইউনিয়নের পক্ষ থেকে।

    মঙ্গলবার সিংঘু সীমানায় কৃষকদের উদ্দেশ্যে রাকেশ তিকাইত বলেন, ‘হামারা স্লোগান কানুন ওয়াপসি নহি তো ঘর ওয়াপসি নহি’। অন্যদিকে, বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যদি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে চায়, তাহলে তাঁদের আপত্তি নেই বলে তিনি জানান। কিন্তু এই বিষয়টিকে নিয়ে রাজনীতি না করার ব্যাপারে সাফ জানান রাকেশ তিকাইত ।

    অপরদিকে, সরকার এবং এবং বিক্ষোভকারী দু’পক্ষকেই ‘সর্বোচ্চ পর্যায়ের সংযম’ পালনের বার্তা দিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতর। ইতিমধ্যেই কৃষক বিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে সম্প্রতি ট্যুইট বার্তা দিয়েছিলেন পপ তারকা রিহানা, পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব। সেই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    Published by:Simli Dasgupta
    First published: