• Home
  • »
  • News
  • »
  • national
  • »
  • Opinion: কৃষক আন্দোলনকে হাতিয়ার করে, ভারতে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছে চিনের দালালেরা

Opinion: কৃষক আন্দোলনকে হাতিয়ার করে, ভারতে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছে চিনের দালালেরা

ভারতীয় রাজনীতিতে, সব থেকে দূরদর্শী মানুষ ছিলেন সর্দার পটেল। চীন সম্পর্কে তিনি সতর্ক করেছিলেন ভারতকে। মৃত্যুর সাত দশক পর, তিনি প্রমাণ করলেন যে চীন সম্পর্কে তাঁর ধারণা একেবারে সত্যি।

ভারতীয় রাজনীতিতে, সব থেকে দূরদর্শী মানুষ ছিলেন সর্দার পটেল। চীন সম্পর্কে তিনি সতর্ক করেছিলেন ভারতকে। মৃত্যুর সাত দশক পর, তিনি প্রমাণ করলেন যে চীন সম্পর্কে তাঁর ধারণা একেবারে সত্যি।

ভারতীয় রাজনীতিতে, সব থেকে দূরদর্শী মানুষ ছিলেন সর্দার পটেল। চীন সম্পর্কে তিনি সতর্ক করেছিলেন ভারতকে। মৃত্যুর সাত দশক পর, তিনি প্রমাণ করলেন যে চীন সম্পর্কে তাঁর ধারণা একেবারে সত্যি।

  • Share this:

    প্রতিবেদন- Brajesh Kumar Singh

    #নয়াদিল্লি:  চিন ভারতকে আক্রমণ করে ১৯৬২ সালে। স্বাধীন ভারতের উপর সেই প্রথম বিদেশিদের হামলা। হার হয় ভারতের। তবে ইতিহাস বলছে, সে সময় এদেশের বামপন্থীদের একাংশ সমর্থন করতে শুরু করে চীনকে। এই মুহূর্তে, পুনরাবৃত্তি হচ্ছে এই ঘটনার। কৃষক আন্দোলনকারীদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে, চীনকে খুশি করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বামপন্থীদের মধ্যে।

    ভারতীয় রাজনীতিতে, সব থেকে দূরদর্শী মানুষ ছিলেন সর্দার পটেল। চীন সম্পর্কে তিনি সতর্ক করেছিলেন ভারতকে। মৃত্যুর সাত দশক পর, তিনি প্রমাণ করলেন যে চিন সম্পর্কে তাঁর ধারণা একেবারে সত্যি। সে সময়, সর্দার পটেলের সাবধানবাণী কানে তোলেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু। আর তার ফলও পেয়েছেন হাতে-নাতে। ১৯৬২ সালের যুদ্ধে, চীনের কাছে লজ্জাজনক ভাবে হেরে যায় ভারত। হাস্যকর বিষয় হল, ঠিক এই যুদ্ধের কয়েক মাস আগেই ভারত শ্লোগান দিতে শুরু করেছিল “হিন্দি-চিনি ভাই ভাই।”

    ১৯৫০ সালে, নিজের মৃত্যুর ঠিক আগে, সর্দার পটেল একটি চিঠি লিখে গিয়েছিলেন নেহরু’র উদ্দেশ্যে। এই চিঠিতে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীনের থেকে সাবধান হওয়া প্রয়োজন ভারতের। সে সময় তাঁর কথা উপেক্ষিত হলেও, এখন সময় এসেছে এ-কথার গুরুত্ব বোঝার। বামপন্থীদের ধ্বংসাত্মক মানসিকতা সম্পর্কেও তিনি দেশের প্রধান ব্যক্তিত্বদের সাবধান করেছিলেন। সর্দার পটেল জীবিত অবস্থাতেই দেখেছেন, বামপন্থীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তেলেঙ্গানাকে দু’ভাগ করতে। বাম দলের উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেই, তাঁদের আন্দোলনকে নির্মম ভাবে রোধ করেছিলেন তিনি।

    চিন ভারতের উপর হামলা করে ১৯৬২ সালে এবং বামপন্থীরা খোলাখুলি সমর্থন করতে শুরু করে তাদের। ঠিক এই সময় জন্ম হয় নতুন পার্টি সিপিআইএম অর্থাৎ কম্যুনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া-র। এই মুহূর্তে কৃষকদের যে আন্দোলন চলছে, সেখানে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এই রাজনৈতিক দল। দেশের অন্যান্য অংশের মতো, রাজধানীকেও অস্থিতিশীল করে তোলার পরিকল্পনা করছে তারা। এর একটি কারণ হল, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় না থাকা মেনে নিতে পারছে না বামপন্থীরা। তিন দশক ধরে যে দল পশ্চিমবঙ্গে শাসন করেছে, আজ রাজ্যে তাদের কোনও অস্তিত্বই নেই। অন্যদিকে, বেশ কয়েক দশক ধরে শাসন করার পর ত্রিপুরাতেও ক্ষমতা হারিয়েছে এই দল। বামপন্থী দল এক সময় ক্ষমতায় এসেছিল কংগ্রেস বিরোধী দল হিসেবে। তবে সময়ের সঙ্গে, কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিছে তারা। এর সব থেকে বড় উদাহরণ হল, মনমোহন সিং-এর ইউপিএ সরকার।

    বিগত কয়েক বছরে পরিস্থিতি বদলেছে বেশ কিছুটা। বিশেষত, ২০১৪ সাল থেকে। এই অবস্থার পরিবর্তন হয়, বর্তমান বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর। বামপন্থীদের আঁতুড়ঘর যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেগুলি ঢেলে সাজানো শুরু হয়েছে এই সরকার আসার পর। এরপর থেকেই, বামপন্থীরাও অজুহাত খুঁজতে শুরু করেছে মোদী সরকারকে আক্রমণ করার। নক্সাল আদর্শে বিশ্বাসী বামপন্থীরা ক্রমে হিংসাত্মক হয়ে উঠছে। মোবাইল টাওয়ার ভেঙ্গে দেওয়া থেকে, পথ অবরোধের মতো কাজ করে চলেছে তারা দিনের পর দিন।

    এই পরিস্থতিতে, উসকানিমূলক আচরণ করে, তারা নিজেদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে পঞ্জাবের কৃষকদের। খুব স্বাভাবিকভাবেই, দেশের ভিতর এই টালমাটাল পরিস্থিতির সুযোগ নিতে শুরু করেছে চিন। লাদাখে যে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চলছে চীনের, তার পক্ষে রয়েছে দেশের বেশ কিছু নেতা, বুদ্ধিজীবী এবং সমাজকর্মী। আসলে এফইএমএ অ্যাক্ট পাশ হওয়ার পর, এই একদল মানুষের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। আর সে কারণেই চীনের প্রতি তাদের এই সমর্থন। দিল্লি বর্ডারে কৃষকদের ধরনাকে সমর্থন আসলে, আম আদমি পার্টি অথবা আকালি দালের মতো রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা পাওয়ার খেলা ছাড়া আর কিছুই নয়। সব মিলিয়ে দেশের মধ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চীনের পক্ষে আদর্শ। ভারতের বিভিন্ন দলের মধ্যে এই মতবিরোধের ফায়দা নিয়ে, নিজেদের জায়গা তারা স্থায়ী করে নেওয়ার চেষ্টা করছে লাদাখে।

    (লেখকের নিজস্ব মতামত)

    Published by:Antara Dey
    First published: