Home /News /national /
তেলেঙ্গানা সংবেদনশীলতা না উন্নয়ন, কোন পথে বইতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি ?

তেলেঙ্গানা সংবেদনশীলতা না উন্নয়ন, কোন পথে বইতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি ?

File Photo

File Photo

  • Share this:

    #তেলেঙ্গানা: দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং রাজনৈতিক টালবাহানা পেরিয়ে পৃথক রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে তেলেঙ্গানা ৷ সেই আন্দোলনের পর পাঁচ বছর পেরিয়ে গিয়েছে ৷ কে চন্দ্রশেখর রাও রয়েছেন রাজ্যের শাসনের দায়িত্বে ৷ কিন্তু পাঁচ বছর পরেও রাজনীতির সমীকরণটা কি একই থাকবে ? রাজ্যের মানুষ কি আজও টিআরএস (তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি) প্রধান চন্দ্রশেখর রাও-কেই ভরসা করছেন ? আগামী ৭ ডিসেম্বরই সেটি পরিষ্কার হবে ৷

    আগামী ৭ ডিসেম্বর তেলেঙ্গানার বিধানসভা নির্বাচন ৷ গাজওয়েল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন কে চন্দ্রশেখর রাও ৷ ২০১৪ সালে তেলেগু দেশম পার্টির নেতা ভান্তেরু প্রতাপ রেড্ডিকে ১৯৩৯১ ভোটে পরাজিত করে জয়ী হয়েছিলেন কে চন্দ্রশেখর রাও ৷ উল্লেখ্য, টিডিপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন ভান্তেরু ৷ চমকপ্রদ বিষয়টি হল, টিডিপি ছেড়ে কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন ভান্তেরু এবং গাজওয়েল কেন্দ্রে কেশব চন্দ্রশেখরের বিপরীতেই দাঁড়িয়েছেন তিনি ৷

    তেলেঙ্গানা সরকার গঠনের ক্ষেত্রে পরিবারতন্ত্র কি উল্লেখযোগ্য ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে ? সেই প্রশ্নটাও উঠছে ৷ কারণ কে চন্দ্রশেখর রাও-র মন্ত্রিসভার একাধিক মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয় ৷ ইরিগেশন, মার্কেটিং এবং লেজিসলেটিভ অ্যাফেয়ার্সের মন্ত্রী টি. হরিশ রাও চন্দ্রশেখর রাওয়ের ভাইপো ৷ শুধু ভাইপোই নন ৷ চন্দ্রশেখরের ছেলে কে তারকা রামা রাও-ও রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ৷

    তেলেঙ্গানা পৃথক রাজ্য হিসেবে গঠিত হওয়ার পর ২০১৪-র প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে ১১৯ টি আসনের মধ্যে ৬৩ টি আসন দখল করেছিল চন্দ্রশেখর রাও-র দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতি (টিআরএস)। অন্যদিকে রাজ্যে থাকা ১৭ টি লোকসভা আসনের মধ্যে ১১ টি আসন দখল করেছিল তারা । যদিও পরবর্তী সময়ে কংগ্রেস, টিডিপি কিংবা ওয়াই এসআর কংগ্রেস থেকে বিধায়করা টিআরএস-এ যোগ দিয়েছেন ।

    অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে তেলেঙ্গানা আলাদা ভাগ হয়ে যাওয়ার সময় রাজ্যের মানুষকে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন চন্দ্রশেখর রাও ৷ পাঁচ বছরে কি সেই সমস্ত পূরণে কি সফল হয়েছেন রাও ? ৭ ডিসেম্বরই সেটির চূড়ান্ত পরীক্ষা হতে চলেছে ৷ আগামী ১১ ডিসেম্বরই জানতে পারা যাবে তেলেঙ্গানায় পরিবর্তন না কেশব রাও এর প্রত্যাবর্তন হবে ৷

    প্রসঙ্গত, তেলেঙ্গানা বিধানসভার মেয়াদ আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত ছিল ৷ কিন্তু আগেভাগেই বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাও ৷ কারণ নির্ধারিত সময়সূচি মেনে সরকার গঠন করতে গেলে লোকসভা এবং বিধানসভা ভোট প্রায় একসঙ্গে করতে হত ৷ এক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির সরকার নিয়ে রাজ্যবাসীর মনে কিছুটা হলেও দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে ৷ পাশাপাশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কংগ্রেস ৷ রাজ্যের তেলেগুভাষী অঞ্চলে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কংগ্রেস ৷

    যা নি:সন্দেহে টিআরএস-র কাছে চিন্তার বিষয় ৷ পাশাপাশি টিআরএস-এর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তেলুগু দেশম পার্টির (টিডিপি) সঙ্গে কংগ্রেস জোট করার দিকে অনেকটা এগিয়েছে। ডিসেম্বরে ভোট হয়ে গেলে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল বিশেষ সুবিধা আদায় করতে পারবে না রাজ্যে ৷ যার জেরেই তড়িঘড়ি বিধানসভা ভেঙে নির্বাচনের ঘোষণা করেন রাও ৷

    গতকালই ছিল তেলেঙ্গানার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৷ টিআরএস-র তরফ থেকে ১১৬টি মনোনয়ন জমা পড়েছে ৷ পাশাপাশি কংগ্রেস এবং বিজেপির তরফে যথাক্রমে ১৩৫ এনং ১২৮টি মনোনয়ন জমা পড়েছে ৷

    First published:

    Tags: India Assembly Election 2018, Kalvakuntla Chandrashekar Rao, Telengana Assembly Election 2018

    পরবর্তী খবর