টাকার অভাবে ছাড়তে হয়েছিল পড়াশোনা, এখন পরিযায়ী শিশুদের অনলাইন ক্লাসের বিকল্প দিচ্ছেন তেলঙ্গানার যুবতী!

টাকার অভাবে ছাড়তে হয়েছিল পড়াশোনা, এখন পরিযায়ী শিশুদের অনলাইন ক্লাসের বিকল্প দিচ্ছেন তেলঙ্গানার যুবতী!

পেটের টানে মায়ের সঙ্গে তাঁকে বসতে হয়েছিল দোকানে। তবু শিক্ষার চেতনা লক্ষ্যচ্যুত হতে দেয়নি তেলঙ্গানার যুবতীকে।

পেটের টানে মায়ের সঙ্গে তাঁকে বসতে হয়েছিল দোকানে। তবু শিক্ষার চেতনা লক্ষ্যচ্যুত হতে দেয়নি তেলঙ্গানার যুবতীকে।

  • Share this:

#তেলঙ্গানা: অনলাইন ক্লাসের বিকল্প হিসেবে পরিযায়ী শিশুদের জন্য বিশেষ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করলেন তেলঙ্গানার এক যুবতী। বছর চব্বিশের এস ভানজানাকে (S Vanjana) মাঝপথেই লেখাপড়া ছেড়ে দিতে হয়েছিল। পেটের টানে মায়ের সঙ্গে তাঁকে বসতে হয়েছিল দোকানে। তবু শিক্ষার চেতনা লক্ষ্যচ্যুত হতে দেয়নি তেলঙ্গানার যুবতীকে। সমাজকে আলোকিত করার ব্রত নিয়েছেন ভানজানা।

তেলঙ্গানার হানামকোন্ডার বাসিন্দা এস ভানজানা ইন্টারমিডিয়েটের গণ্ডি পেরোনের পর বাবাকে হারান। সংসারের আর্থিক অনটন সামাল দিতে স্বামীর দোকান সামলানোর দায়িত্ব নেন ভানজানার মা। কিন্তু তিনি একা পারছিলেন না। তাই মায়ের সঙ্গে দোকানে গিয়ে বসতে শুরু করেন তরুণী। ফলে লেখাপড়ার থেকে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। একদিন স্কুল ছেড়ে দেন ভানজানা। বুকে পাথর রেখে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তরুণীকে। তবু তিনি হার মানেননি।

করোনাভাইরাসের জেরে লকডাউনে বিভিন্ন স্কুলে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে। বাড়ি বসে স্মার্টফোনেই শিক্ষকদের নোট নিতে পারছেন পড়ুয়ারা। কিন্তু অর্থের অভাবে যাদের পরিবারে দুই বেলা খাবার জোটে না, তাদের হাতে স্মার্টফোন যে দুরাশার সমান, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তেমনই কিছু পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের বাস তেলঙ্গানার হানামকোন্ডায়। ছত্তিসগড় ও মহারাষ্ট্র থেকে আসা ওই সব পরিবারের শিশুদের হাতে স্মার্টফোন না থাকায়, তারা অনলাইন ক্লাস করতে পারছেন না।

বিষয়টি ওই গ্রামেরই যুবতী এস ভানজানার কানে পৌঁছয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঠিক করে নেন যে ওই গরিব শিশুদের পড়ানোর দায়িত্ব নেবেন। যেমন ভাবা, তেমন কাজ। দোকান চালানোর ফাঁকে লোয়ার কেজি থেকে ক্লাস থ্রি-র শিশুদের আলাদা করে পড়াচ্ছেন ভানজানা। হানামকোন্ডার আশিয়ান মলের পাশে প্রতি সকালে ২০ জন শিশুকে নিয়ে টোল খোলেন ভানজানা। তাঁর এই উদ্যোগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন এলাকাবাসী।

বুকে একরাশ ব্যথা নিয়ে ভানজানা জানিয়েছেন যে তাঁর লেখাপড়া করে বড় মানুষ হওয়ার ইচ্ছা ছিল। আর্থিক অনটনে তা সম্ভব হয়নি। বেদনাতুর মন নিয়ে তিনি চান না যে অন্য কোনও শিশু একই ভাবে পরিস্থিতির চাপে লেখাপড়া ছেড়ে দিক। ভানজানার কথায়, তিনি মনে করেন দেশের প্রত্যেক শিশুর শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার অধিকার রয়েছে।

First published:

লেটেস্ট খবর