আদর্শ শিক্ষক তিনি! ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দান করে দিলেন জমি

আদর্শ শিক্ষক তিনি! ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দান করে দিলেন জমি
Rajan at his property. PHOTO : NEWS18

৩৫ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন৷ কিন্তু অবসরের আগে তিনি যা করলেন তা উদাহরণ হতে পারে যে কোনও মানুষের জীবনে৷

  • Share this:

#তিরুঅনন্তপুরম: ৩৫ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন৷ ক’দিন বাদেই অবসর নেবেন কুন্নুর জেলার মেউইল পঞ্চায়েতের কায়ারালম এলাকার স্কুল শিক্ষক কে সি রাজন৷ কিন্তু অবসরের আগে তিনি যা করলেন তা উদাহরণ হতে পারে যে কোনও মানুষের জীবনে৷ সারাজীবনের উপার্জন থেকে কেনা পাঁচ সেন্ট জমি তিনি দান করে দিয়েছেন চার পডুয়ার মধ্যে৷ কারণ, সেই পডুয়ারা আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার অংশ৷ বাড়ি নেই, আর্থিক নিরাপত্তা নেই, স্কুল ছাত্র বা প্রাথমিকের ছাত্রদের মা বাবা কীভাবে তাদের উচ্চশিক্ষার জন্য তৈরি করবেন? সে কথা ভাবিয়েছিল রাজনকে৷ তাই পড়ুয়াদের জীবনকে সুরক্ষিত করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি৷ নিউজ ১৮-এর সাংবাদিকের কাছে ভাবনার বিষয়ে বিস্তারিত বলতে গিয়ে তিনি জানালেন, ‘ক’দিন আগে আমি লক্ষ্য করি, একটি নবম শ্রেণির ছাত্রী নিয়মিত স্কুলে আসছে না৷ আমি তখন ওর পারিবারিক অবস্থা জানার চেষ্টা করি৷ দেখি ওই ছাত্রীর একটা মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নেই৷ একদিকে চরম আর্থিক দৈন্য অন্যদিকে ওই ছাত্রীর বাবা পরিবারকে পথে বসিয়ে চলে গিয়েছেন৷ ছাত্রীর একমাত্র ভাই সে আবার বিশেষভাবে সক্ষম৷ সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমনই যে পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এই পরিস্থিতিতে অসম্ভব৷ তাই তখন এই ছাত্রীকে আমি জমি দান করার কথা ভাবি৷’ কিন্তু এটাও তো সত্য যে এমন অবস্থা আরও অনেকের আছে৷ তাই রাজন পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেন আরও কয়েকজনকে জমি দান করবেন৷ পরিবার, স্ত্রী ও বোনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দুৃঃস্থ পড়ুয়াদের চিহ্নিত করেন৷ একেবারে নার্সারির পড়ুয়া থেকে সপ্তম শ্রেণির পডুয়ারা স্থান পায় এই তালিকায়৷ তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পড়ুয়াদের মায়ের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি৷ সেই চুক্তিতে বলা হয়, আগামী ২০ বছর, অর্থাৎ যতদিন না নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে ওই পড়ুয়ারা উপার্জন করতে পারছে, ততদিন এই জমি তাদেরই সম্পত্তি থাকবে৷ যেই জমি থেকে একটা পরিমাণ উপার্জন হওয়া সম্ভব৷ কিন্তু পড়ুয়াদের পরিচয় তিনি সামনে আনতে চান না৷ কারণ, কোনও পরিবার এই দানের ভিত্তিতে বাঁচছে, এই কথা সবাই জানলে যদি তাঁদের আত্মসম্মানে আঘাত লাগে? তাই পরিবারগুলিকে সামনে আনতে চাননি শিক্ষক৷ কে সি রাজন কেরল প্রদেশ স্কুল শিক্ষক অ্যাসোসিয়েশনের নেতা৷ কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ এই সংগঠনের নেতা হয়েও এই কাজে তিনি, দল, ধর্ম, বর্ণ বিচার করেননি৷ যাঁর প্রয়োজন তাঁর হাতেই তুলে দিচ্ছেন জমি৷

First published: February 14, 2020, 6:49 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर