corona virus btn
corona virus btn
Loading

"কেউ মঙ্গলে আটকে পড়লেও ভারতীয় দূতাবাস সেখানে আপনার সাহায্যের জন্য প্রস্তুত"...

photo: Sushma Swaraj

কেউ মঙ্গলে আটকে পড়লেও ভারতীয় দূতাবাস সেখানে আপনার সাহায্যের জন্য প্রস্তুত৷

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: মধ্যপ্রদেশের বিদিশাই হয়ে রইল সুষমা স্বরাজের সাংসদ জীবনের শেষ স্টপেজ। ২০১৪ সালে এই কেন্দ্র থেকেই চার লক্ষেরও বেশি ভোটে জিতেছিলেন। উনিশে আর ভোটে লড়েননি। তবে, সংসদ তাঁকে মনে রাখবে। তাঁর মতো বক্তা যে লোকসভা-রাজ্যসভা কমই দেখেছে। হিন্দিতে তাঁর তুখোড় বক্তৃতা প্রতিপক্ষের নেতারাও মন দিয়ে শুনতেন। ছাত্র অবস্থা থেকেই হিন্দিতে সুবক্তা ছিলেন সুষমা স্বরাজ।

জন্ম হরিয়ানায়৷ ১৯৫২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি৷ বাবা ছিলেন আরএসএসের সদস্য৷ পঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন৷ ১৯৭৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু৷ তার আগেই অবশ্য রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৭০ সালে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদে নাম লেখান৷ জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্বে আন্দোলনেও যোগ দেন৷ ১৯৭৭ সালে মাত্র ২৫ বছর বয়সেই হরিয়ানার আম্বালা ক্যানটনমেন্ট কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হন সুষমা স্বরাজ৷ ২ বছর পরে হরিয়ানা জনতা পার্টির সভানেত্রী৷ হরিয়ানার শিক্ষামন্ত্রীরও দায়িত্ব সামলেছেন সুষমা৷ জরুরি অবস্থার পরে যোগ দেন বিজেপিতে৷ সুষমা অবশ্য হরিয়ানার রাজনীতিতে আটকে থাকেননি। ১৯৯০ সালে রাজ্যসভার সাংসদ হন সুষমা স্বরাজ। ৬ বছর পরে একেবারে রাজধানীতে। ১৯৯৬ সালে দক্ষিণ দিল্লি কেন্দ্র থেকে জিতে লোকসভায় পা রাখেন সুষমা স্বরাজ। অটল বিহারী বাজপেয়ীর তেরো দিনের সরকারে সুষমা ছিলেন তথ্য-সম্প্রচারমন্ত্রী৷ ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ছেড়ে সুষমা স্বরাজ হন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লির প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। মূল্যবৃদ্ধির কাঁটা-পেঁয়াজের ঝাঁঝে ৫২ দিনেই অবশ্য সেই সরকার পড়ে যায়৷
সুষমা স্বরাজ তারপর থেকে ফের সংসদীয় রাজনীতিতে। কখনও স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কখনও লোকসভার বিরোধী দলনেতা। কখনও আবার বিদেশমন্ত্রী। ইন্দিরা গান্ধির পর সুষমা স্বরাজই দ্বিতীয় মহিলা বিদেশমন্ত্রী৷ ২০১৪ সালে তিনি বিদেশমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। বিদেশমন্ত্রককে সুষমা দিয়েছিলেন মানবিক মুখ। যখনই এ দেশের কোনও নাগরিক বিদেশে কাজ করতে গিয়ে আটকে পড়েছেন, সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়েছেন সুষমা। যেন বিদেশমন্ত্রী নন। একেবারে ঘরের মানুষ। ওয়াশিংটন পোস্ট তাই সুষমাকে বলেছিলেন - সুপারমম। তিনি নিজে অবশ্য রসিকতা করতেন। একবার টুইটারে লিখেছিলেন কেউ মঙ্গলে আটকে পড়লেও ভারতীয় দূতাবাস সেখানে আপনার সাহায্যের জন্য প্রস্তুত৷ রাজনীতিক সুষমার জীবনে বিতর্কও এসেছে। গত মোদি সরকারের আমলে ললিত মোদিকে নিয়ে বিতর্কে জড়ান। সুষমা অবশ্য প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। সরকারে থাকুন বা বিরোধী শিবিরে, সুষমার সঙ্গে প্রতিপক্ষ দলের নেতাদের সবসময়েই সুসম্পর্ক। সংসদের দাঁড়িয়ে তুমুল আক্রমণ। কিন্তু, বাইরে সখ্য। তা সে সনিয়া গান্ধি হোন বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা শীলা দীক্ষিত। ভারতের সংসদীয় রাজনীতি সেই সুষমা হারাল।
First published: August 7, 2019, 11:51 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर