পাসপোর্ট হারিয়ে ১৮ বছর পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি! ভিটে মাটিতে পা রাখতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন হাসিনা বেগম

পাসপোর্ট হারিয়ে ১৮ বছর পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি! ভিটে মাটিতে পা রাখতেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন হাসিনা বেগম
বাড়ি ফিরতে আঠারো বছর লাগবে, স্বপ্নেও ভাবেননি হাসিনা বেগম। পাসপোর্ট হারিয়ে পাকিস্তানের কারাগারে কাটিয়েছেন জীবন। মঙ্গলবার দেশে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।

বাড়ি ফিরতে আঠারো বছর লাগবে, স্বপ্নেও ভাবেননি হাসিনা বেগম। পাসপোর্ট হারিয়ে পাকিস্তানের কারাগারে কাটিয়েছেন জীবন। মঙ্গলবার দেশে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: ঘরে ফিরতে যে আঠারোটা বছর লেগে যাবে, তা স্বপ্নেও বোধ হয় কল্পনা করেননি বছর ৬৫-এর হাসিনা বেগম। সময়টা নেহাৎ কম নয় বটে। ভিনদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে আঠারো বছর ওই দেশের কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দেশে ফিরে আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি বেগম, কেঁদে বললেন, "স্বর্গে ফিরলাম"। এই দিন ঔরঙ্গাবাদের পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্বাগত জানাতে স্টেশনে উপস্থিত হয়েছিলেন।ঘটনার সূত্রপাত আঠারো বছর আগে। বেগম উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের বাসিন্দা দিলশাদ আহমেদের সঙ্গে বিয়ে করেছিলেন। পাকিস্তানে গিয়েছিলেন স্বামীর আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে, কিন্তু হঠাৎই পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলায় দেশে আর ফেরা হয়নি বেগমের। ওই মুহূর্তেই তাঁকে ওই দেশের কারাগারে রাখা হয়। তবে হাল ছাড়েননি বেগম, নিজেকে নির্দোষ প্রমানিত করার জন্য আবেদন করেছেন বার বার। যদিও তাতে কোনও ফল মেলেনি। ভাবতে পারেননি অবশ্য নিজের ভিটে মাটি ছেড়ে তাঁকে ভিন দেশের কারাগারে বন্দি হয়ে থাকতে হবে আঠারো বছর।

    পুলিশ সূত্রে খবর, এত বছর ধরে চেষ্টা করেও কোনও সুরাহা মেলেনি। তারপর বেগমের পরিবারের সদস্যরা ঔরঙ্গাবাদ থানায় গিয়ে বেগমের কথা জানায়। তখন সেখানকার পুলিশ 'নিখোঁজ' প্রতিবেদন দায়ের করে। তারপর পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাঁরা। কিছু দিন আগে সে দেশ থেকে খবর মেলে, দীর্ঘ আঠারো বছর অপেক্ষার পর দেশে ফিরছেন বেগম।


    সংবাদ সংস্থা, এএনআই-কে বেগম জানিয়েছেন, "আমি অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটিয়েছি এবং নিজের দেশের মাটিতে পা রেখে আমি শান্তি ফিরে পেলাম। মনে হচ্ছে আমি যেন স্বর্গে রয়েছি। পাকিস্তানে আমাকে জোর করে কারাগারে রাখা হয়েছিল। অনেক চেষ্টার পরেও তাঁরা আমাকে মুক্তি দেয়নি। আমার নিখোঁজের ব্যাপারে প্রতিবেদন দায়ের করার জন্য আমি ঔরঙ্গাবাদের পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।"

    বেগমের মতে, তিনি লাহোরে থাকাকালীন পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলেছিলেন। 'জোরপূর্বক' তাঁকে পাকিস্তানের একটি কারাগারে রাখা হয়েছিল। ১৮ বছর ধরে তিনি ওই দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে মুক্তির আবেদন করেছেন, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি।

    উল্লেখ্য, ১ জানুয়ারি বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতির তরফে জানানো হয়েছে, ভারতের কারাগারে থাকা ২৬৩ জন পাকিস্তানি বেসামরিক বন্দি এবং ৭৭ জন জেলের নামের তালিকা পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেরকমই পাকিস্তানের কারাগারে থাকা ৪৯ জন বেসামরিক বন্দি এবং ২৭০ জন জেলের নামের তালিকা ভারতের কাছে প্রকাশ করা হয়েছে। কারণ এর মধ্যে কেউ কেউ নির্দোষ হতে পারেন বলে জানানো হয়।

    Published by:Somosree Das
    First published: