'সাহস থাকলে উত্তর-পূর্ব ভারতে যান অমিত শাহ,' চ্যালেঞ্জ সনিয়া গান্ধির

'সাহস থাকলে উত্তর-পূর্ব ভারতে যান অমিত শাহ,' চ্যালেঞ্জ সনিয়া গান্ধির
অমিত শাহ ও সনিয়া গান্ধি (বাঁ দিক থেকে)

দিল্লি ও আলিগড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর কেন্দ্রের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে সনিয়া বললেন, 'সাহস থাকলে উত্তর-পূর্ব ভারতে গিয়ে দেখাক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷'

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: নাগরিকত্ব সংশোধিত আইন নিয়ে যখন তীব্র বিক্ষোভ, আন্দোলন চলছে দেশজুড়ে, তখন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধি৷ দিল্লি ও আলিগড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর কেন্দ্রের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে সনিয়া বললেন, 'সাহস থাকলে উত্তর-পূর্ব ভারতে গিয়ে দেখাক কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷'

একটি বিবৃতিতে সোমবার সনিয়া গান্ধি বলেন, 'মোদি সরকারের উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার৷ দেশে অশান্তি তৈরি করে, হিংসা ছড়িয়ে যুবকদের অধিকার কেড়ে নেওয়া৷ ধর্মীয় বিভাজন ছড়িয়ে তার রাজনৈতিক ফায়দা তোলা৷ এই সব কিছুর মূলে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ৷'

সনিয়ার কথায়, 'অসম, ত্রিপুরা ও মেঘালয় জ্বলছে৷ অমিত শাহ নিজেই উত্তর-পূর্ব ভারতে যাওয়ার সাহস করছেন না৷ এমন অবস্থা যে, প্রথমে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ও পরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী, দুজনেই ভারত সফর বাতিল করেছেন৷'

অসমের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা এ দিন জানান, স্বাভাবিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অসমে ফিরছে৷ ইন্টারনেট পরিষেবা শীঘ্রই চালু হয়ে যাবে৷ মন্ত্রীর কথায়, 'অসমের বিভিন্ন জায়গায় এখনও কারফিউ চলছে৷ খুব শীঘ্রই কারফিউ উঠে যাবে৷ রাজ্য পুলিশ ১৩৬টি মামলা দায়ের করেছে ও ১৯০ জনকে গ্রেফতার করেছে৷'

১২ ডিসেম্বর পুলিশের গুলিতে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে অসমে। সিএএ বিক্ষোভে অসমে মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় দিন দু’য়েক আগে গুরুতর জখম হওয়া এক লরিচালকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবারই অসমের শোনিতপুরে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে আগুন জ্বালিয়ে দেয় প্রতিবাদকারীরা। দগ্ধ চালককে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, সেই সব হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, যাঁরা ধর্মীয় নিপীড়নের জেরে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে ভারতে এসে আশ্রয় নেন৷ ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য ১২ মাস টানা ভারতে থাকতে হত৷ একই সঙ্গে গত ১৪ বছরের মধ্যে ১১ বছর ভারতবাস জরুরি ছিল। সংশোধনী বিলে দ্বিতীয় নিয়মে পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্থান থেকে আনা নির্দিষ্ট ৬টি ধর্মাবলম্বীদের জন্য ১১ বছর সময়কালটিকে নামিয়ে আনা হচ্ছে ৬ বছরে। বেআইনি অভিবাসীরা ভারতের নাগরিক হতে পারে না। এই আইনের আওতায়, যদি পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়া কেউ দেশে প্রবেশ করে থাকেন, বৈধ নথি নিয়ে প্রবেশ করার পর নির্দিষ্ট সময়কালের বেশি এ দেশে বাস করে থাকেন, তা হলে তিনি বিদেশি অবৈধ অভিবাসী বলে গণ্য হবেন।

First published: 08:03:31 PM Dec 16, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर