দেশ

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

হাতরসে ধর্ষিতার বাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশের প্রবল বাধা, পড়ে গেলেন রাহুল গান্ধি

হাতরসে ধর্ষিতার বাড়ি যাওয়ার পথে পুলিশের প্রবল বাধা, পড়ে গেলেন রাহুল গান্ধি
যমুনাসেতুর উপর পুলিশি বাধার মুখে রাহুল গান্ধি।

পরিস্থিতি বেসামাল হওয়ায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে হাতরাসে। নিরাপত্তার বেষ্টনীতে মুড়ে দিয়েছে এলাকার সমস্ত সীমানা।

  • Share this:

#লখনউ: হাতরসে নির্যাতিতার বাড়ি যাওয়ার পথে পদে পদে বাধার মুখে পড়লন রাহুল গান্ধি। যমুনা সেতুত পুলিশের সঙ্গে প্রবল ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে গেলেন রাহুল গান্ধি। পুলিশের যুক্তি, পরিস্থিতি বেসামাল হওয়ায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে হাতরাসে। তাই যাওয়া চলবে না হাতরসে। রাহুল-প্রিয়াঙ্কারা সেই নির্দেশ অমান্য করে এগোতেই শুরু হয়ে যায় ধাক্কাধাক্কি।

রাহুল গান্ধি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমাদের গাড়ি আটকে দিয়েছে, তাই আমরা পায়ে হেঁটেই এগোচ্ছিলাম। এর মধ্যেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে। আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। এ দেশে কি শুধু নরেন্দ্র মোদিই হাঁটবেন? সাধারণ মানুষের হাঁটারও অধিকার নেই?"

হাতরাস কাণ্ডে ফুঁসছে গোটা দেশ। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে ফোন করে তদন্তের বিষয়ে জোর দিয়েছে। নানা আশ্বাসও দিয়েছে আদিত্যনাথ সরকার। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভিজছে না। ইতিমধ্যেই আদিত্যনাথের ইস্তফা চেয়ে সরব সব পক্ষ। এই পরিস্থিতিতেই হাতরাসে মৃত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রওনা হন প্রিয়াঙ্কা গান্ধি ও রাহুল গান্ধি।

উত্তরপ্রদেশের ধর্ষণ কাণ্ডের আঁচ এসে পড়েছে দেশের রাজধানীতেও। এদিন কংগ্রেস, বাম, ভীম রাও আর্মির সদস্যরা জোট বেধে প্রতিবাদ করেন নয়াদিল্লির উত্তরপ্রদেশ ভবন ও ইন্ডিয়া গেটের সামনে। সেখান থেকে ৩২ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

যোগী সরকারকে একহাত নিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি একটি ভার্চুয়াল বিবৃতিতে বলেন, "আপনি প্রধানমন্ত্রীর ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন? এক ধর্ষিতার পরিবারের সঙ্গে এ কেমন ব্যবহার? একজন মা তাঁর মৃত সন্তানের দেহ বাড়ি নিয়ে যেতে পারল না। আপনার সরকার কী ভাবে এত অমানবিক হয়?" ট্যুইটারে সরব হন রাহুল গান্ধিও। তাঁর মতে, উত্তরপ্রদেশে জঙ্গলরাজ চলছে। তিনি লেখেন, "বিজেপি সরকার দলিতদের দমিয়ে রাখছে। আমাদের লড়াই এই বিদ্বেষের বিরুদ্ধে।

আসরে নেমেছে বিএসপিও। বিএসপি নেত্রী মায়াবতী বলছেন, "হাতরসের ঘটনার পরে আমি ভেবেছিলাম উত্তরপ্রদেশ সরকার এর বিরুদ্ধে করা ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু দেখা গেল বলরামপুরে আরও এক দলিত তরুণীকে ধর্ষণ করা হল।" ঝাঁঝ বাড়িয়ে মায়াবতীর আক্রমণ, "আসলে উত্তরপ্রদেশ বিজেপি সরকার ক্রিমিনাল, মাফিয়া আর ধর্ষকদের খোলামাঠ।"

একদিনে সমলোচনার ঝড়, অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রীর ফোন। ব্যাকফুটে পড়ে আদিত্যনাথ সরকার সিট গঠন করেছে। সাত দিনের মধ্যে রিপোর্টও দেবে সিট। ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্টে সেই মামলার শুনানি হবে। ক্ষতিপূরণের আশ্বাসও দিয়েছেন যোগী। কিন্তু প্রশ্ন থাকছেই। কেন এতদিন লেগে গেল সিট গঠন করতে? পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কেন নীরব আদিত্যনাথ? আগুনে ঘি ঢেলেছে নির্যাতিতার মায়ের বয়ান। তিনি বলছেন, চোখের দেখা দেখতে না দিয়ে জোর করে পুলিশ দেহ দাহ করে দিয়েছে।

এই আবহে মায়াবতী রাষ্ট্রপতির শাসনেরও আর্জি রাখছেন। সকলেই এক বাক্যে মানছেন এ আরেক নির্ভয়া কাণ্ড। এখন দেখার কী ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন।

Published by: Arka Deb
First published: October 2, 2020, 5:11 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर