সংবিধানের ৩৭০ ধারা খারিজ, নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের আরও এক মাস্টারস্ট্রোক!

সংবিধানের ৩৭০ ধারা খারিজ, নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহদের আরও এক মাস্টারস্ট্রোক!

রাজ্যসভায় জম্মু-কাশ্মীর থেকে তিনশো সত্তর ধারা খারিজের ঘোষণা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। রাজনৈতিক মহলের মতে, ফল কী হবে তা সূদুর প্রসারি।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: সরকার বলছে, কালা কানুনের অবসান। বিরোধিরা বলছেন, সংবিধানের কালোদিন। রাজনৈতিক মহলের দাবি, উপত্যকা থেকে সংবিধানের তিনশো সত্তর ধারা খারিজ করে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহদের আরও এক মাস্টারস্ট্রোক। ফল কী হবে, সময় বলবে। তবে আজকে দিনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক মাইলেজ ফের নিজেদের দিকে টেনে নিল বিজেপি।

চরম টানাপোড়েন। কিন্তু কী হচ্ছে স্পষ্ট নয়। জল্পনা, উত্তেজনা, দফায় দফায় বৈঠকের পরেও সবাই চুপ। দিল্লি থেকে শ্রীনগর। কিলোমিটারে সংখ্যাটা মাত্র আটশো নয়। এই দূরত্বেই ভারতীয় রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিল নরেন্দ্র মোদির এনডিএ সরকার। পাঁচ অগাস্ট, পর্দা উঠল রাজ্যসভায়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণায় আর বিশেষ থাকল না জম্মু-কাশ্মীর। রাজনৈতিক মহলের দাবি, ঘর গোছানোর কাজ শুরু হয়েছিল গত মাসে অমিত শাহের জম্মু-কাশ্মীর সফরেই। সূত্রের দাবি, রাজ্যের আমলাদের সঙ্গে বৈঠকেই প্রাথমিক নকশা সাজিয়ে ফেলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর গত বাহাত্তর ঘণ্টায় শুরু হয় মোদি-শাহ জুটির নতুন সার্জিক্যাল স্ট্রাইক। ঢাল এবার সংবিধান।

বিরাট নাশকতার সম্ভবনা। হাতিয়ার গোয়েন্দা তথ্য। গত শুক্রবার রাজ্য পুলিশকে পাশে নিয়ে কাশ্মীরে পাক মদতের প্রমাণ দিল ভারতীয় সেনা। প্রস্তাব দিল অমরনাথ যাত্রা বন্ধের। সেনার সাংবাদিক বৈঠকের খানিক পরেই রাজ্য থেকে পর্যটকদের ফিরে যেতে নির্দেশিকা জারি করল জম্মু-কাশ্মীরের স্বরাষ্ট্র দফতর। যত দ্রুত সম্ভব পর্যটকদের ফিরিয়ে আনা যায়, তার ব্যবস্থা করা হল। এরমধ্যেই দিল্লিতে শুরু হল জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক। কূটনৈতিক মহলের দাবি, পুরো বিষয়টি অন্ধকারে রাখতে সীমান্তে তৈরি ছায়াযুদ্ধ। ওয়াকিবহাল মহলের খবর, গত বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু নৌসেরা, রাজৌরি, কেরন সেক্টরে ভারী গোলাবর্ষণ। স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত। তা-হলে কী যুদ্ধ ? এদেশের রাজনৈতিক মহলের মতোই অন্ধকারে পাক প্রশাসনও। কার্যত আগ বাড়িয়েই কাশ্মীর সমস্যার মীমাংসা করতে আমেরিকার মধ্যস্থতা চেয়ে রবিবার টুইট পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। বিশেষ মর্যাদা অটুট রাখার দাবিতে শ্রীনগরেও সর্বদল বৈঠকে ওমর-মেহেবুবা। বাকি সাংসদদের নিয়ে যখন দু’হাজার চব্বিশের টার্গেট সেট করছেন প্রধানমন্ত্রী। তখন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, গোয়েন্দা প্রধান এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকে অমিত শাহ। কী সিদ্ধান্ত হল, তা জানাতে রাতেই প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে অমিত। এরমধ্যেই তৎপরতা শুরু উপত্যকায়। বন্ধ মোবাইল, ইন্টারনেট। জারি একশো চুয়াল্লিশ ধারা। রাতেই গৃহবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এবং মেহেবুবা মুফতি। রাজ্য পুলিশকে অস্ত্র জমা দিতে নির্দেশ। সোপিয়ানের মতো অতি স্পর্শকাতর থানা এলাকার দায়িত্ব নিল বিএসএফ। সোমবার প্রথমে নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির বৈঠক। তারপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর।

রাজ্যসভায় জম্মু-কাশ্মীর থেকে তিনশো সত্তর ধারা খারিজের ঘোষণা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। রাজনৈতিক মহলের মতে, ফল কী হবে তা সূদুর প্রসারি। কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক লড়াইয়ে বিরোধীদের আবার কয়েক মাইল পিছনে ফেলে দিল মোদি-শাহ জুটি। আরও শক্ত করল দিল্লিতে বিজেপির মসনদ।

First published: August 6, 2019, 2:16 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर