Home /News /national /
‘আমরা কি সরকারি বিজ্ঞাপনের দেওয়াল’? সরকারি শাড়ি গায়ে না তোলার সিদ্ধান্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের!

‘আমরা কি সরকারি বিজ্ঞাপনের দেওয়াল’? সরকারি শাড়ি গায়ে না তোলার সিদ্ধান্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের!

বড় সিদ্ধান্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের

বড় সিদ্ধান্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের

Anganwadi: ইউনিফর্ম হিসেবে দেওয়া সেই শাড়ি পত্রপাঠ ফিরিয়ে দিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সাফ জবাব, ‘শাড়িগুলো দেখে মনে হচ্ছে যেন সরকারি ব্যানার’!

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের (Anganwadi Workers) বিশেষ ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্নাটক সরকার (Karnataka Government)। কিন্তু ইউনিফর্ম (Uniform) হিসেবে দেওয়া সেই শাড়ি পত্রপাঠ ফিরিয়ে দিয়ে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সাফ জবাব, ‘শাড়িগুলো দেখে মনে হচ্ছে যেন সরকারি ব্যানার’!

সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) ‘পোষণ অভিযান’ (Poshan Abhiyaan) আরও সাফল্যমণ্ডিত করে তুলতে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ইউনিফর্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কর্নাটক সরকার। আর তার জন্য রাজ্যের প্রায় ৬২,৫৮০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র এবং ৩৩৩১টি মিনি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী ও তাঁদের সহকারীদের জন্য এই শাড়ি তৈরির বরাতও দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাত মাস আগেই শাড়ির রঙ, মান এবং নকশা বাছাই করে তবেই এই বরাত দেওয়া হয়েছিল। এক-একটি শাড়ির দাম পড়েছে প্রায় ৩৮৫.৭ টাকা, আর সেখানে সরকার কিনেছে আড়াই লক্ষেরও বেশি শাড়ি। সরকারি সূত্রে খবর, এই ইউনিফর্মের পিছনে খরচ হয়েছে প্রায় ৯.৯ কোটি টাকা।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা এই শাড়ি ব্যবহার করতে অস্বীকার করছেন? আসলে গোল বাঁধিয়েছে শাড়ির নকশা। ইউনিফর্মের শাড়ির পাড়ের দিকে কন্নড় ভাষায় মোটা হরফে লেখা রয়েছে ‘পোষণ অভিযান’। এমনকী শাড়ির ফুলের নকশা জুড়েও রয়েছে এই অভিযানের লোগো। ফলে এই শাড়ি পরতে চাইছেন না অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বক্তব্য, “শাড়ির ফুলের নকশা জুড়ে রয়েছে পোষণ অভিযানের লোগো। শাড়িটা দেখে মনে হচ্ছে যেন কোনও সরকারি ব্যানার। এরকম ডিজাইনের শাড়ি পরতে আমাদের খুবই অস্বস্তি হচ্ছে।”

আরও পড়ুন: '২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত আছি, যখন ডাকবে, চলে যাব', কী প্রসঙ্গে বললেন অর্জুন সিং?

যদিও রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ আধিকারিকেরা জেলায় জেলায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের এই শাড়ি পরতে রাজি করানোর চেষ্টা করে চলেছেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হচ্ছে না। অঙ্গনওয়াড়ি ও আশাকর্মী ইউনিয়নের এআইডিএসও রাজ্য সভাপতি কে সোমশেখর ইয়াদগির (K. Somasekar Yadgir) জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে রাজ্যের ১২-১৩টি জেলায় এই শাড়ি কর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছিল। তখন শাড়ির ডিজাইনে এক বার চোখ বুলিয়েই তা ফেরত দিয়ে দেন তাঁরা। এই প্রসঙ্গে কর্নাটক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মচারী সমিতির রাজ্য সভানেত্রী এস বরলক্ষ্মীর (S. Varalakshmi) বক্তব্য, “আমরা নারী ও শিশুকল্যাণ দফতর এবং রাজ্য সরকারকে সাফ জানিয়ে দিয়েছি যে, অভিযানের নাম লেখা শাড়ি আমরা পরতে পারব না। ওঁরা কী ভাবেন আমাদের? আমরা কি কোনও সরকারি বিজ্ঞাপনের দেওয়াল? একমাত্র যদি কোনও নকশা ছাড়া সাধারণ শাড়ি দেওয়া হয়, তবেই আমরা তা পরতে পারি। না-হলে আমরা কিছুতেই ওই ইউনিফর্ম পরব না।”

আরও পড়ুন: ইনিই বিশ্বের ভয়ঙ্করতম স্নাইপার! ছাড়লেন ইউক্রেন, তুললেন ভয়ঙ্কর অভিযোগ

নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের ডিরেক্টর প্রিয়াঙ্কা মেরি ফ্রান্সিস (Priyanka Mary Francis) জানিয়েছেন, “রঙ এবং নকশা চূড়ান্ত করে তবেই শাড়ির বরাত দেওয়া হয়েছিল। আর সরকার ইতিমধ্যে তা কিনেও ফেলেছে। ফলে ওই শাড়ি আর কোনও ভাবে ব্যবহার করারও রাস্তা নেই। শুধু তা-ই নয়, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের তো রোজ ওই শাড়ি পরতে হচ্ছে না। নির্দিষ্ট দিনগুলিতে তা পরতে হবে। আমরা এখন ভাবছি কীভাবে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের এই শাড়ি পরতে রাজি করানো যায়।”

নানা ভাবে আলোচনা করে চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা ওই শাড়িগুলি পরেন। ফলে শাড়ি নিয়ে তরজা চলছেই। তাই রাজ্যের বিভিন্ন গুদামে পড়ে রয়েছে প্রায় ১০ কোটি মূল্যের আড়াই লক্ষেরও বেশি শাড়ি। আর সেই সব শাড়ির ভবিষ্যৎ এখনও অন্ধকারেই!

First published:

Tags: Anganwadi, Karnataka

পরবর্তী খবর