corona virus btn
corona virus btn
Loading

পুলিশি অত্যাচারে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য, মুখ খুললেন প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা পুলিশকর্মী

পুলিশি অত্যাচারে বাবা-ছেলের মৃত্যুতে প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য, মুখ খুললেন প্রত্যক্ষদর্শী মহিলা পুলিশকর্মী
প্রতীকী ছবি

বাবা-ছেলেকে যেদিন রাতভর অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে, সেদিন থানায় কর্তব্যরত ছিলেন এই মহিলা পুলিশকর্মী ।

  • Share this:

#কোভিলপাত্তি, তামিলনাড়ু: হেফাজতে নির্মম পুলিশি অত্যাচারে মৃত পি জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে বেনিক্সের মৃত্যুর তদন্তভার দেওয়া হয়েছে CBI-কে। রবিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামী ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা হাতে তুলে দেন। তারপরই তাঁদের মৃত্যুতে সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।

বাবা-ছেলেকে যেদিন রাতভর অত্যাচার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে, সেদিন থানায় কর্তব্যরত ছিলেন এক মহিলা পুলিশকর্মী । সেদিনের ঘটনায় ওই মহিলা পুলিশকর্মী প্রধান সাক্ষী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। পরিবারের তরফে দায়ের করা মামলায় মাদ্রাজ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান নথিভুক্ত করছে। জানা গিয়েছে, ওই মহিলা পুলিশকর্মী মুখ খুলেছেন আদালতের কাছে। গোপন জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছে, সেদিন সারা রাত ব্যটন ও লাঠি দিয়ে পেটানো হয় বাবা-ছেলেকে। এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তাঁরা। তারপরেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানিয়েছেন, সেদিন রাতে পুলিশি অত্যাচারে পি জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে বেনিক্স রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েছিলেন। ভয়ঙ্কর অত্যাচারে তাঁদের রক্ত থানার টেবিলে ছিটকে গিয়ে লাগে। যে লাঠি দিয়ে তাঁদের মারা হয়, তাতেও রক্তের নমুনা ছিল বলে জানান তিনি। এমনকি সেদিন রাতের কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যন্ত মেলেনি। তবে বয়ান দেওয়ার পর এখন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই পুলিশকর্মী। পরে ওই মহিলা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্ট।

প্রসঙ্গত, লকডাউন কার্ফু উপেক্ষা করে মোবাইলের দোকান খুলেছিলেন তিনি । সেই অপরাধে পুলিশ পি জ্য়রাজকে গ্রেফতার করে । ঘটনার কথা শুনে ছেলে জে বেনিক্সও তড়িঘড়ি থানায় যান বাবাকে ছাড়িয়ে আনতে । যদিও দু'জনের কেউই আর বাড়ি ফিরে আসেননি ।

পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে দু'জনের উপর পাশবিক অত্যাচার চালায় থোথুকুড়ি ডিভিশনের পুলিশ। তাঁদের উপর শারীরিক নির্যাতন চালান হয় । অভিযোগ মৃত জয়রাজ পি-এর পায়ুদ্বারে লাঠি বা বোতল জাতীয় কিছু ঢুকিয়ে দেয় পুলিশ। তার যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ জয়রাজ। তারপর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি মঙ্গলবার মারা যান তিনি। অন্যদিকে, মাত্র ১০ ঘণ্টার আগে সোমবার ছেলে জে বেনিক্সও প্রবল রক্তক্ষরণের জেরে মারা যায় হাসপাতালে। যদিও পুলিশের দাবি, প্রচণ্ড বুকে ব্যথা হওয়ায় বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, মারা যান তিনি।

এ প্রসঙ্গে একটি সমর্থিত সূত্র জানায় , অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পর পুলিশ শুক্রবার রাত ১১টা নাগাদ থানার দরজা বন্ধ করে দেয়। শনিবার সকাল পর্যন্ত দরজা খোলা হয়নি। এমনকী সারা রাত থানা থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূর পর্যন্ত দু'জনের চিৎকারের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল। এরপরই তামিলনাড়ুর তুতিকোরিনে পুলিশি অত্যাচারে পি জয়রাজ এবং তাঁর ছেলে জে বেনিক্স-এর মৃত্যুতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

Published by: Shubhagata Dey
First published: July 1, 2020, 4:31 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर