Home /News /national /

Rss in Bengal: মুকুল-ঘনিষ্ঠ প্রদীপ যোশীকে বাংলা থেকে সরাল RSS, গুরুদায়িত্বে দিলীপ শিবিরের রমাপদ

Rss in Bengal: মুকুল-ঘনিষ্ঠ প্রদীপ যোশীকে বাংলা থেকে সরাল RSS, গুরুদায়িত্বে দিলীপ শিবিরের রমাপদ

আরএসএস-এ রদবদল!

আরএসএস-এ রদবদল!

Rss in Bengal: গত পাঁচদিন ধরে মধ্যপ্রদেশের চিত্রকূটে বৈঠক করেছেন আরএসএস শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই অখিল ভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠকে পরই সরকার্যবাহ শ্রী দত্তাত্রেয় জী হোসবলে ঘোষণা করেন, শ্রী প্রদীপজী যোশিকে বাংলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল চণ্ডীগড়ের দায়িত্ব।

আরও পড়ুন...
  • Share this:

#কলকাতা: অনেক আশা জাগিয়েও বাংলার মসনদ দখলের ধারেকাছে পৌঁছতে পারেনি বিজেপি। সেই দায় যেমন পড়েছে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতাদের উপর, তেমনি আরএসএস (RSS)-এর সংগঠনের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে। গেরুয়া শিবিরের অন্দরে যেমন 'শিবির' ভাগ নিয়ে দোষ-পাল্টা দোষের পালা চলে, তেমনি সংঘের মধ্যেই কি দানা বেঁধেছিল 'শিবির' রোগ? প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনের পর থেকে। এরই মধ্যে দরজায় কড়া নাড়ছে উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনে ভর করেই ফের ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট উতড়াতে চাইছে বিজেপি। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যেমন রদবদল হয়েছে, তেমনি শুরু হয়েছে বিজেপির অন্দরের রদবদলও। তবে, ২০২৪-এর দিকে নজর রেখে বাংলাকেও যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দিল্লি সফর থেকেই স্পষ্ট। এই আবহে আরএসএস-এও বড়সড় রদবদল আনা হল। বিজেপির সঙ্গে মিলে কাজ করার ক্ষেত্রে সমন্বয় রক্ষা করার দায়িত্ব পেতে চলেছেন অরুণ কুমার। গত পাঁচদিন ধরে মধ্যপ্রদেশের চিত্রকূটে বৈঠক করেছেন আরএসএস শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই অখিল ভারতীয় প্রান্ত প্রচারক বৈঠকে পরই সরকার্যবাহ শ্রী দত্তাত্রেয় জী হোসবলে ঘোষণা করেন, শ্রী প্রদীপজী যোশিকে বাংলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হল চণ্ডীগড়ের দায়িত্ব। রমাপদ পালকে পূর্ব ক্ষেত্র প্রচারকের দায়িত্বে আনা হল, কলকাতা কেন্দ্রের সহ ক্ষেত্র প্রচারক করা হল জলধর মাহাতোকে আর দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত প্রচারকের দায়িত্ব পেলেন প্রশান্ত ভট্ট।

প্রসঙ্গত, এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটে আরএসএস-এর পক্ষ থেকে রাজ্যের দায়িত্ব ছিলেন প্রদীপ যোশী। তাঁকে এবার সরিয়ে দিল সংঘ। সূত্রের খবর, মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ প্রদীপ যোশী তৃণমূল নেতৃত্বকে বিজেপিতে সামিল করার বিষয়ে সায় দিয়েছিলেন।সেই কারণে যোশীর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিল দিলীপ ঘোষ শিবির। ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকেই তাই যোশীকে সরানোর দাবি উঠেছিল।

সাধারণভাবে সংঘের এই সম্মলনে সাংগঠনিক রদবদলের ঘোষণা করা হয় না। সেই রদবদল করা হয় মার্চ মাসে হওয়া স্বরসংঘচালকদের সম্মেলনে। কিন্তু, এবার বেশ কিছুটা ব্যতিক্রম হল। সামনে উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনকে মাথায় রেখে সময় নষ্ট করতে চায়নি সংঘ। প্রদীপ যোশীকে বাংলা থেকে সরিয়ে চণ্ডীগড়ের দায়িত্ব দেওয়া হলেও যোশী শিবিরের দাবি, তিনি নিজে চণ্ডীগড়ের মানুষ, তাই পঞ্জাব নির্বাচনকে মাথায় রেখেই তাঁকে নিজের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হল।

যদিও, রাজ্যে দিলীপ ঘোষ শিবিরের পাল্টা দাবি, বাংলার বিধানসভা ভোটের ফলে বেজায় ক্ষুব্ধ সংঘ। বিজেপির এ রাজ্যের পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় সহ গেরুয়া শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একমত হয়ে কাজ করেছিলেন প্রদীপ যোশী। ফলে, বাংলায় হারের ব্যর্থতার দায় তিনিও অস্বীকার করতে পারেন না।

তবে, সংঘের আরেকটি সূত্র বলছে, এ সবের থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল বাংলার দায়িত্বে যোশীর জায়গায় রমাপদ পালকে আনা। রমাপদ পাল ও জলধর মাহাতোর সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সুসম্পর্ক সুবিদিত। একসঙ্গে বহুদিন প্রচারক হিসাবে কাজ করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি, বাংলার ক্ষেত্র প্রচারকের মত গুরুদায়িত্বে একজন অবাঙালির জায়গায় বাঙালি রমাপদ, জলধরদের মত মুখকে আনাও সংঘের মাস্টারস্ট্রোক বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Published by:Suman Biswas
First published:

পরবর্তী খবর