বিনা অপরাধে কারাদণ্ড, ২৩ বছর পর বাড়ি ফিরলেন কাশ্মীরি যুবক

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Jul 25, 2019 04:14 PM IST
বিনা অপরাধে কারাদণ্ড, ২৩ বছর পর বাড়ি ফিরলেন কাশ্মীরি যুবক
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Jul 25, 2019 04:14 PM IST

#শ্রীনগর: গাড়ি থেকে নেমে এলেন মহম্মদ আলি ৷ আশপাশ থাকে তাঁকে ঘিরে ধরল প্রতিবেশি ও বন্ধুরা ৷ কেউ জড়িয়ে ধরল, কেউ গালে চুমু খেল ৷ আলির চোখের কোল ঘেঁষে বয়ে গেল জল ৷ কবরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আলি ৷ কবরে শুয়ে তাঁর মা-বাবা ৷ একেবারে পাশাপাশি দুটি কবর৷ কবরের কাছে যেতেই হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললেন আলি ৷ ২৩ বছর পর শ্রীনগরে নিজের বাড়িতে ফিরে শব্দ হারালেন ৪৮ বছরের আলি ৷ কিছুক্ষণ চুপ করেই বসে থাকলেন তিনি ৷ ঠিক কী ঘটেছিল আলির সঙ্গে? ২৩ বছর ধরে কোথায় ছিলেন আলি?

মহম্মদ আলি, ১৯৯৬ সালে জয়পুর-আগ্রা হাইওয়েতে বোম ব্লাস্টের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি ৷ যে ঘটনায় প্রাণ গিয়েছিল প্রায় ১৪ জনের ৷ আহত হয়েছিলেন ৩৭ জন ৷ শুধু তাই নয়, মহম্মদ আলির ওপর অভিযোগ উঠেছিল দিল্লির লাজপত নগরের বোমা বিস্ফোরণেরও ৷ যা কিনা প্রাণ কেড়েছিল ১৩ জনের ৷ এই ঘটনার পরই কারাদণ্ড হয় মহম্মদ আলি ও আরও চার জনের ৷ কারাদণ্ড পেয়েছিলেন লতিফ আহমদ ওয়াজা ও মির্জা নসর ৷ তবে এখান থেকেই জীবনের গল্প ঘুরল অন্যপথে ৷ নানা কারাগারে ২৩ বছর ধরে কারাদণ্ডের পর রাজস্থান আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ খারিজ হল রাজস্থান আদালতে ৷

গোটা ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৪ সালে ৷ কার্পেটের ব্যবসা করতেন মহম্মদ আলি ৷ নেপাল থেকে ব্যবসার জন্য টাকা আনতে নেপালে পাড়ি দেন আলি ৷ কিছু মাস যেতেই আলির মনে হয় নেপাল খুবই সুন্দর জায়গা, এখানেই না হোক ব্যবসা শুরু করা যাক ৷ যেমন ভাবা তেমনি কাজ ৷ অন্যদিকে, তখন কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় আগুন জ্বলছে ৷ সেই সময় আলির কাছে সব নিরাপদ আশ্রয় হল নেপালের কাঠমাণ্ডুই ৷

তবে আলির শান্তির তাল কাটে ১৯৯৬ সালে ৷ হঠাৎই মসজিদ থেকে প্রার্থনা সেরে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন আলি ৷ সঙ্গে আরও দুই কাশ্মীরি যুবক ৷ গোটা ৯ দিন ধরে জেলা হেফাজতে পুলিশি অত্যাচার চলে আলি ও অন্য দু’জনের ওপর ৷ তারপর সেখান থেকে সোজা তিহার জেলে ৷ আলি জানান, ‘আমরা বার বার বলেছিলাম, আমরা কিছুই করিনি ৷ আমরা নিস্পাপ ৷ কিন্তু দিল্লি পুলিশ আমাদের কথা শুনতে চায়নি ৷ শুধু মারধর করেছিল আমাদের ৷ শুধুই কী কাশ্মীরি হওয়াটা ছিল অপরাধ? প্রশ্ন উঠেছিল আমাদের মনেও ৷ কিন্তু কেউ আমাদের কথা গুরুত্ব দেয়নি ৷ দেশের নানা কারাগারে আমাদের নিয়ে যেত ৷ বেঁচে থাকার সমস্ত ইচ্ছে চলে গিয়েছিল ৷’

২৩ বছর পর নিজের বাড়িতে ফিরে আলি যেন শব্দ হারিয়েছেন, কিছুই যেন বুঝে উঠতে পারছে না ৷ আলির কথায়, ‘আমি যখন নেপালে যাই, তখন আমার বয়স ১৯ ৷ পৃথিবীটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে এখন, জেলের ভিতর থেকে তো কিছুই বুঝতে পারেনি...আমার মা-বাবা এখন আর আমার কাছে নেই ৷ কাউকেই কাছে পেলাম না !’ চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে আলির ৷ হাতে তখন সদ্য পাওয়া মোবাইল ফোন ! ঘেঁটে দেখছেন নতুন প্রযুক্তি, পরিচিত হচ্ছেন বদলে যাওয়া আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে ৷

First published: 04:14:22 PM Jul 25, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर