প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথকীকরণের লেজার পদ্ধতি আবিষ্কার হায়দরাবাদের, স্বাগত জানাল আমেরিকা!

প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথকীকরণের লেজার পদ্ধতি আবিষ্কার হায়দরাবাদের, স্বাগত জানাল আমেরিকা!
এই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে এর মধ্যেই গবেষকরা তৈরি করে ফেলেছেন এক যন্ত্র। যা প্লাস্টিক বর্জ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দিতে পারবে যে তার মধ্যে কোনটা রিসাইকেল করা যেতে পারে!

এই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে এর মধ্যেই গবেষকরা তৈরি করে ফেলেছেন এক যন্ত্র। যা প্লাস্টিক বর্জ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দিতে পারবে যে তার মধ্যে কোনটা রিসাইকেল করা যেতে পারে!

  • Share this:

#হায়দরাবাদ: অপটিক্যাল সোসাইটি অফ আমেরিকা প্রতি বছরে অপটিক্স অ্যান্ড ফটোনিক্স নিউজ নামে একটা বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করে থাকে। সেই তালিকায় সম্প্রতি নজর কেড়েছে লো কস্ট সর্টিং অফ প্লাস্টিক ওয়েস্ট নামের একটি প্রবন্ধ। যা লিখেছে হায়দরাবাদ ইউনিভার্সিটির গবেষক তথা বিজ্ঞানীরা। এই প্রবন্ধের মূল কথা হল কী ভাবে খুব কম খরচে প্লাস্টিক বর্জ্যকে আলাদা করা চেনা যায়!

এই জায়গায় এসে সঙ্গত কারণেই একটি প্রশ্ন উঠবে। প্লাস্টিক বর্জ্যকে আলাদা করে চেনার দরকারটা ঠিক কোথায়?

সন্দেহ নেই, প্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে সারা বিশ্বের কাছেই নানা দিক থেকে একটি আতঙ্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এর আগে প্রকাশিত নানা রিপোর্ট বলছে যে এই প্লাস্টিক দূষণের ফলে উপকূলবর্তী এলাকায় প্রবাল প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড়সড় প্লাবনের জন্ম দিতে পারে। সমুদ্রে জমে থাকা প্লাস্টিকের বিষময় প্রভাবে অবলুপ্তির পথে এগিয়ে চলেছে নানা প্রাণী। এমনকি গর্ভস্থ মানবভ্রুণের চারপাশেও মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব। বিশেষ করে এই শেষের দিকটি নিয়ে গুরুত্বের দাবি রাখে হায়দরাবাদ ইউনিভার্সিটির গবেষক তথা বিজ্ঞানী রাজেন্দর জুনজুরি এবং জি মনোজ কুমারের কাজ।


আসলে, প্লাস্টিক বর্জ্যকে রূপান্তরিত করা হয় ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকে। কিন্তু এটা করার সময়ে খেয়াল রাখা হয় না যে কোন প্লাস্টিক আমাদের শরীরের পক্ষে তুলনামূলক ভাবে ব্যবহারের যোগ্য। ফলে, শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ বাড়ে, নতুন করে সমস্যা জন্ম নেয় প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেল করা হলেও।

আর এই জায়গাতেই কাজে আসবে হায়দরাবাদ ইউনিভার্সিটি আবিষ্কৃত লেজার ইনডিউজড ব্রেকডাউন স্পেকট্রোস্কোপি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে এর মধ্যেই গবেষকরা তৈরি করে ফেলেছেন এক যন্ত্র। যা প্লাস্টিক বর্জ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়ে দিতে পারবে যে তার মধ্যে কোনটা রিসাইকেল করা যেতে পারে! তেলঙ্গানার নির্মল জেলায় তাঁদের আবিষ্কৃত এই যন্ত্রের কার্যক্ষমতা প্রয়োগ করে দেখেছেন জুনজুরি এবং কুমার। তাঁরা বলছেন, তাঁদের এই যন্ত্র ৯৭ শতাংশ সফল ভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য পৃথকীকরণের কাজ করতে সক্ষম!

সব চেয়ে বড় কথা, এই যন্ত্র তৈরির খরচও খুব একটা বেশি নয়। আশা করা যায়, ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য রিসাইকেল করার ক্ষেত্রে লেজার ইনডিউজড ব্রেকডাউন স্পেকট্রোস্কোপি পদ্ধতি নতুন পথ দেখাবে।

Published by:Simli Raha
First published: