corona virus btn
corona virus btn
Loading

আপাতত বন্ধ স্টেশনের বাইরে ভবঘুরে ও পথচারীদের জন্য রেলের খাবার বিতরণ 

আপাতত বন্ধ স্টেশনের বাইরে ভবঘুরে ও পথচারীদের জন্য রেলের খাবার বিতরণ 
Representational Image

হাওড়া বেস কিচেনে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের জন্য খাবার তৈরির চাপ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত খাবার বিলির সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এল রেল।

  • Share this:

#কলকাতা: আপাতত বন্ধ হচ্ছে স্টেশনের বাইরে ভবঘুরে বা পথচারীদের খাওয়ানোর পরিকল্পনা। এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই স্টেশনের বাইরে চলছিল খাবারের আয়োজন। হাওড়া বেস কিচেনে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেনের জন্য খাবার তৈরির চাপ বেড়ে যাওয়ায় আপাতত খাবার বিলির সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এল রেল।

লকডাউন পরিস্থিতিতে বহু মানুষ আটকে পড়েন স্টেশনের বাইরে। বহু মানুষের প্রতিদিনের রোজকার বন্ধ হয়ে যায়। এই সমস্ত নিরন্ন মানুষকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করে ভারতীয় রেল। ভারতীয় রেলের ক্যাটারিং সংস্থা আইআরসিটিসি রান্না করা খাবার সরবরাহ করে। প্রথমে খিচুড়ি দেওয়া হলেও, পরবর্তী সময় মেনু বদল করে ভেজ বিরিয়ানি দেওয়া হচ্ছিল।

প্রথম দিকে প্রায় ৫০০ লোকের জন্যে রান্না হলেও পরবর্তী সময় প্রায় ৯০০০ লোকের জন্যে রান্না করা হয়। ৫ এপ্রিল রবিবার থেকেই বিরিয়ানি দেওয়া হয় প্রায় ৫০০০ মানুষকে। লকডাউন পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে সেই সংখ্যা বাড়ে। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনের বাইরে প্রতিদিন রেলরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে চলছিল খাবার পরিবেশন। এর জন্যে হাওড়া বেস কিচেনে প্রতিদিন চলছিল প্রায় ৯০০০ লোকের খাওয়ানোর ব্যবস্থা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ১৩ জন কর্মী অক্লান্ত পরিশ্রম করে খাবার তৈরি করছিলেন। আইআরসিটিসি'র হিসেব অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৫০০ কেজি চাল ও ৪০০ কেজি সবজি লাগছিল এই খাবার তৈরি করতে। আর এই বিপুল পরিমাণ খাবার জোগাড় করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছিল রেলকে।

কলকাতার তিনটি বাজার থেকে এই সমস্ত জিনিস সংগ্রহ করা হত। আইআরসিটিসি'র হাওড়া বেস কিচেনের ইলেকট্রিক উনুনে চলছিল এই খাবার তৈরি। এই অল্প কয়েকজন কেউ করতেন রান্না তো কেউ সবজি কাটার কাজে ব্যস্ত থাকতেন। সব কাজ হত সিসি ক্যামেরার নজরেই। দিল্লি থেকে রেল মন্ত্রক সরাসরি খাবার তৈরির সমস্ত পদ্ধতি মনিটর করে যেত। যেহেতু সামাজিক দুরত্ব মেনে খাবার দিতে হবে। তাই আরপিএফ এই খাবার দেওয়ার কাজ করছিল। প্রথমে হাওড়া ও শিয়ালদহতে এই কাজ হলেও, পরে বিধাননগর, শালিমার, সাঁতরাগাছি-সহ অন্যান্য স্টেশনেও এই খাবার বিলি করা হয়েছিল। এমনকী, পূর্ব রেলের এজিএম সেলেও দেওয়া হচ্ছিল খাবার। শেওড়াফুলি থেকে সাঁতরাগাছি।

শালিমার থেকে বিধাননগর। একাধিক স্টেশনে দেওয়া হয়েছে খাবার। দিনের পর দিন যেভাবে খাবার নেওয়ার সংখ্যা বেড়েছিল তাতে শুধুমাত্র হাওড়া থেকে নয়, এবার শিয়ালদহ বেস কিচেনেও খাবার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রয়োজন হলে খড়গপুর-সহ অন্যত্র যে সমস্ত বেস কিচেন আছে, সেখানেও রান্না করা হতে পারে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

আইআরসিটিসি সূত্রে খবর আপাতত এই খাবার দেওয়ার কাজ বন্ধ। ১ মে থেকে শুরু হয়েছে শ্রমিক স্পেশাল ট্রেন পরিষেবা। হাওড়া বেস কিচেনে আপাতত শ্রমিক স্পেশালের যাত্রীদের জন্যে খাবার রান্না হচ্ছে। গড়ে ২০ হাজার লোকের জন্যে এই খাবার করা হচ্ছে। লকডাউনের জন্যে বেশি লোক নেই। কম লোক দিয়েই এই খাবার করতে হচ্ছে। আপাতত তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভবঘুরেদের খাবার দেওয়া হবে না। ফলে দু'মাস ধরে খাওয়ানোর রীতিতে আপাতত ছেদ পড়ল।

আবীর ঘোষাল

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: May 31, 2020, 3:18 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर