খাঁ খাঁ করছে জগন্নাথধাম পুরী, করোনা আতঙ্কে পালাচ্ছে মানুষ

খাঁ খাঁ করছে জগন্নাথধাম পুরী, করোনা আতঙ্কে পালাচ্ছে মানুষ

তবে মন্দির প্রশাসন হাতিদ্বার, বৌদ্ধদ্বার এবং অশ্বাদ্বার ও সিংহদ্বার - চারটি গেটের মাধ্যমে স্থানীয় ভক্তদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । মন্দিরে ঢোকার সময় একটা করোনা ভাইরাস সেল্ফ ডিক্লারেশন ফর্ম ভরতে হবে পূণ্যর্থীদের ৷

  • Share this:

#ভুবনেশ্বর: অন্য বছর এই সময়টা গমগম করে মন্দির চত্বর। অজ্রস্র মানুষ ঘুরে বেড়ান সমুদ্রেতটে। সেই পুরীই এখন জনশূন্য প্রায়। স্বর্গদ্বারের রাস্তায় দাঁড়ালে মনে হচ্ছে যেন কারফিউ জারি হয়েছে।

হিন্দু ধর্মের অন্যতম পীঠস্থান হিসেবে পরিচিত পুরীধামে জগন্নাথের টানে সারাবছরই তিল ধারনের জায়গা থাকে না। কিন্তু করোনা সংক্রমনের ভয় এখন গোটা দেশের মানুষকেই গ্রাস করেছে। ফলে অনেকটাই ফাঁকা মন্দির চত্বর। তবে পর্যটকদের সুবিধের কথা মাথায় রেখে সতর্কতায় কোনও ফাঁক রাখতে চায় না পুরীর হোটেলমালিকরা। পুলিন পুরী হোটেলের এমডি শংকর বন্দ্যেপাধ্যায়ের কথায়, প্রশাসনের নির্দেশিকা মেনে আগে থাকতেই মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইসার প্রতি ঘরেই রাখা হচ্ছে। পুরীর পুলিস প্রশাসনের পক্ষে গত দুদিন ধরে প্রতি হোটেলে পরিদর্শন করা হচ্ছে। হোটেলে কত জন টুরিস্ট আছে, কে কোথা থেকে এসেছেন ইত্যাদি বিষয়ে সবিস্তারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। নতুন করে কোনও টুরিস্টকে ঘর ভাড়া দিতে বারণ করা হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে।

কিন্তু তাতেও উদ্বেগ যাচ্ছে না। শংকরবাবুর কথায়- " ঘর নতুন করে ভাড়া দেওয়ার প্রস্নই ওঠে না। টুরিস্ট তলানিতে এসে ঠেকেছে। কিন্তু পুরনো বুকিং আটকাবো কী করে?" আগেভাগে ঘর বুক করা মানুষজন এখন রীতিমতো বিপদে পড়েছেন পুরীতে।

তবে মন্দির প্রশাসন হাতিদ্বার, বৌদ্ধদ্বার এবং অশ্বাদ্বার ও সিংহদ্বার - চারটি গেটের মাধ্যমে স্থানীয় ভক্তদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে । মন্দিরে ঢোকার সময় একটা করোনা ভাইরাস সেল্ফ ডিক্লারেশন ফর্ম ভরতে হবে পূণ্যর্থীদের ৷ মন্দির চত্বরের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন জায়গায় দেওয়া হচ্ছে এই ফর্ম ৷ মন্দিরের লাইনে ২ মিটার ব্যবধান রাখতেও বলা হয়েছে ৷ গত ১৫ দিনে কোনও করোনা আক্রান্ত দেশ বা রাজ্যে সেই পূণ্যার্থী গিয়েছে কী না, সেটাও জানাতে হচ্ছে ফর্মে ৷ মাস্ক নিয়ে ভক্ত ও পান্ডাদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে। যদিও হাতে গোনা ভক্তের দেখা মিলছে।

পুরী মন্দিরের পন্ডিত সমাবেশ সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মন্দির চত্বর ফাঁকা। করোনার ভয় থেকে বাঁচতে বরাভয় দিতে পারছেন না খোদ প্রভু জগন্নাথও। এমনই অবস্থা। পুরী আক্ষরিক অর্থেই 'শূন্যপুরী'।

First published: March 18, 2020, 1:44 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर