শহিদ দিবস: মহাত্মা গাঁধির মৃত্যুর স্মৃতি বুকে নিয়ে শোককাতর দেশ

শহিদ দিবস: মহাত্মা গাঁধির মৃত্যুর স্মৃতি বুকে নিয়ে শোককাতর দেশ
প্রতি বছর এই দিনটিতে রাজঘাটে মহাত্মার স্মৃতিসৌধে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এই বছরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

প্রতি বছর এই দিনটিতে রাজঘাটে মহাত্মার স্মৃতিসৌধে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এই বছরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ২ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। আমরা যাকে সহজ ভাবে বলে থাকি গাঁধির জয়ন্তী। কিন্তু বিশ্ব সঙ্ঘ সেই ২০০৭ সাল থেকে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে। তেমনই মোহনদাস করমচাঁদ গাঁধিরর (Mohandas Karamchand Gandhi) মৃত্যুদিনটিও স্মরণীয় হয়ে আছে এই দেশে শহিদ দিবস হিসেবে। প্রতি বছর ৩০ জানুয়ারি তাঁর হত্যার স্মৃতি বুকে নিয়ে শোককাতরতায় নিমজ্জিত হয় দেশ।

এই প্রসঙ্গে মহাত্মার (Mahatma Gandhi) একটি উক্তি স্মরণ না করলেই নয়! মৃত্যুর দিন কয়েক আগে তিনি অনুরাগীদের উদ্দেশে এক ভাষণে অহিংসার প্রকৃত স্বরূপটি উদঘাটনের চেষ্টা করেছিলেন। জানিয়েছিলেন- যদি কেউ কাউকে হত্যা করে এবং অন্তিম মুহূর্তেও সেই হত্যাকারীর পাপের জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে চলেন মৃত্যুপথযাত্রী, যদি ঈশ্বরের মঙ্গলময় সত্ত্বার প্রতি জীবনের শেষ শ্বাসটুকু পর্যন্ত তাঁর বিশ্বাস অটুট থাকে, তাহলেই একমাত্র বলা যায় যে সেই ব্যক্তি প্রকৃত অহিংস-নীতি অবলম্বন করে সারা জীবন কাটিয়েছেন। গাঁধিরর এই উক্তিকে কিছুটা হলেও আত্মসমালোচনা বলা যায়। কাউকে কিছু বলার আগে তিনি নিজে সব সময়ে সেই আদর্শ অনুসরণের চেষ্টা করতেন। এখানেও সেই ব্যাপারটাই ঘটেছিল। সবাই তাঁকে চরম অহিংসপন্থী বলে চিনলেও সেটা সঠিক কি না, সেই মর্মে এই উক্তির মাধ্যমে নিজেকে বিচার করতে চেয়েছিলেন জাতির জনক।

কিছুটা যেন কাকতালীয় ভাবেই সেই উক্তির সত্যতা নিজের জীবন দিয়ে প্রতিপন্ন করে গিয়েছিলেন মহাত্মা। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি তিনি ছিলেন রাজধানী দিল্লির বিড়লা ভবনে। সেখান থেকে একটি পথসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে নাথুরাম গডসে (Nathuram Godse) নামের এক ব্যক্তি তাঁর বুকে তিনটি গুলি মারে! অন্য অনেকের মতো হিন্দু মহাসভার এই সদস্যের বিশ্বাস ছিল- দেশভাগের সময়ে মুসলিমদের পক্ষপাতিত্ব করেছেনগাঁধির; তাই প্রতিশোধ নিতে হত্যার পথ বেছে নেওয়া হয়। অনেকে বলেন, গাঁধির তৎক্ষণাৎ প্রাণত্যাগ করেছিলেন। যদিও এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকের বয়ান অনুযায়ী রক্তাপ্লুত মহাত্মাকে বিড়লা ভবনের একটি শয়নকক্ষে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আধঘণ্টার ব্যবধানে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে তিনি। কিংবদন্তি- অন্তিমকালে তিনি শুধু বলে যেতে পেরেছিলেন- 'হে রাম'!


প্রতি বছর এই দিনটিতে রাজঘাটে মহাত্মার স্মৃতিসৌধে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এই বছরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) জানিয়েছেন যে শুধু মহাত্মাই নয়, এই দিনটিতে তিনি দেশের সেই সব নরনারীদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন, যাঁরা স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। অন্য দিকে, জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের (Ram Nath Kovind) বক্তব্য- তাঁর আদর্শেই সত্য, অহিংসা আর ভ্রাতৃপ্রেমের লক্ষ্যে পথ চলতে হবে!

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: