Home /News /national /
মারণ রোগ, অদৃশ্য শত্রু, তবু কর্ণজোড়ার প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক লড়াই করছেন অসম সাহসে

মারণ রোগ, অদৃশ্য শত্রু, তবু কর্ণজোড়ার প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক লড়াই করছেন অসম সাহসে

কোনও চেষ্টাই কখনও ক্ষুদ্র হয় না, শুধু মনে থাকা উচিত লড়াই করার প্রবল ইচ্ছা৷

  • Share this:

#রায়গঞ্জ:  স্বাধীনতা সংগ্রামে নেমেছেন রায়গঞ্জ ব্লকের কর্ণজোড়া কালীবাড়ির বাসিন্দা প্রাথমিক শিক্ষক বিপ্লব কুমার মন্ডল। এই সংগ্রামের মূল মন্ত্র এস এম এস। যার পুরো অর্থ স্যানেটাইজার  ,মাস্ক এবং স্যোশাল ডিসটেন্সিং।সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের কাছে এই এস এম এস  বার্তাই পৌছে দিয়ে করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন বিপ্লববাবু। তিনি সাধারণ মানুষকে এই লড়াই এ সামিল হবার আহ্বান জানিয়েছেন।বিপ্লববাবুর এই ধরণের উদ্যোগে খুশী এলাকার বাসিন্দারা।

রায়গঞ্জ কর্ণজোড়া কালীবাড়ির বাসিন্দা বিপ্লব কুমার মণ্ডল। তিনি রায়গঞ্জ ব্লকের বাহিন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।  এছাড়াও তিনি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাও করেন। চাকরি পাওয়ার আগে তিনি চিকিৎসার জন্য ফি নিলেও বর্তমানে তিনি ফ্রি তে চিকিৎসা করছেন। বিপ্লববাবু জীবনে কোন দিনই ভাবেননি যে সারা দেশের মানুষ চরম সংকটের মুখোমুখি হবেন। গতবছর মার্চ মাসে দেশে করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর অন্যদের মত বিপ্লববাবু ঘরে বসে সময় কাটাননি।

মানুষকে এই বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে জীবনের ঝুকি নিয়ে এস এম এস বার্তা নিয়ে পথে নেমে পড়েন। এস এম এস এর মূল অর্থ কি? যার মূল অর্থ স্যানেটাইজার ,মাস্ক এবং সোশ্যাল ডিসটেন্সিং। এই তিনটি পালন করলেই এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। ঘাড়ে একটি ব্যাগ। তার মধ্যে রাখতেন মাস্ক এবং স্যানিটাইজার। রাস্তা নিয়ে মাস্কবিহীণ কাউকে দেখলেই তার হাতে একটি মাস্ক তুলে দিতেন। এছাড়াও হাটবাজার আসা সাইকেল, মোটরবাইকে স্যানেটাইজার  করে দিতেন। এই কাজ সম্পূর্ণ নিজের খরচে এই কাজ করে গেছেন।

পরিবারে মা, স্ত্রী এবং এক মেয়ে রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে কাজ করে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা প্রথম দিকে আপত্তি  করেছিল। অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে তার কাজে বাধা দেয় নি। বিপ্লববাবুর মা স্নেহলতা মণ্ডল। বয়স ষাটোর্ধ্বে।এখনও তিনি এলাকার মানুষকে সচেতনতার কাজে নেমে পড়েন। রাস্তার দিয়ে কোন ব্যক্তি মাস্ক ছাড়া গেলে তাকে ডেকে নিয়ে তার হাতে একটি তুলে দেন। একই সঙ্গে করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত সেগুলো তাকে জানিয়ে দেন।

আজ সকাল রায়গঞ্জ কর্ণজোড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেল বিপ্লববাবু ঘাড়ে স্প্রের ড্রাম  নিয়ে এলাকায় স্প্রে করছেন।  সেই কাজ শেষ করে তিনি চলে এলেন কর্ণজোড়া বাজারে। আংশিক লকডাউনের কারনে বাজারে লোক সংখ্যা কম হলেও তার কাজ থেমে থাকে নি। তিনি ক্রেতা বিক্রেতার হাতে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার তুলে দেন। বিপ্লববাবুর লাগাতর কাজে খুশি এলাকার।স্থানীয় বাসিন্দা দীপঙ্কর দাস এবং বিশ্বজিৎ দাস জানলেন করোনা সংক্রমণ শুরু হতেই বিপ্লববাবু সচেতনতার কাজে নেমেছেন।এই বিপদ থেকে মুক্তি পেতে হলে সাধারন মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।তবেই দেশ থেকে করোনাকে তাড়ানো সম্ভব হবে।

Uttam Paul

Published by:Debalina Datta
First published:

Tags: Coronavirus, Raiganj

পরবর্তী খবর