‘পিরিয়ড চলাকালীন রান্না করলে পরজন্মে কুকুর হয়ে জন্মাবে মেয়েরা, আর সেই মেয়ের হাতে খাবার খেলে জন্ম হবে ষাঁড় রূপে’

‘পিরিয়ড চলাকালীন রান্না করলে পরজন্মে কুকুর হয়ে জন্মাবে মেয়েরা, আর সেই মেয়ের হাতে খাবার খেলে জন্ম হবে ষাঁড় রূপে’

উল্লেখ্য, স্বামীনারায়ণ ভূজ মন্দিরের অনুগামীরাই গুজরাতের ওই আবাসিক হস্টেল ও স্কুল চালান, যেখানে ছাত্রীদের অন্তর্বাস খুলিয়ে ঋতুমতী কিনা দেখা হয় ৷

  • Share this:

#ভুজ: ঋতুমতী অবস্থায় বা পিরিয়ড চলাকালীন রান্না করলে পরের জন্মে কুকুর হয়ে জন্মাতে হবে ৷ মেয়েদের পিরিয়ড নিয়ে এমন মন্তব্যে ফের ছড়াল চাঞ্চল্য ৷ সম্প্রতি গুজরাতেরই এক কলেজে ছাত্রীদের প্যান্টি খুলে পিরিয়ড হয়েছে কিনা দেখা হয়  ৷ ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের শ্রী সহজানন্দ গার্লস ইন্সটিটিউটে। তারা যে ঋতুমতী নয়, প্রমাণ দিতে অন্তর্বাস খুলতে হয় ৬৮ জন পড়ুয়াকে। ঘটনায় সোমবারই কলেজের অধ্যক্ষ সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷

ভুজের হস্টেলের ঘটনার জের কাটতে না কাটতেই ঋতুমতী মহিলাদের নিয়ে এক পুরোহিতের বিতর্কিত মন্তব্য প্রকাশ্যে ৷ মন্তব্যকারী কৃষ্ণস্বরূপ দাসজি স্বামীনারায়ণ ভুজ মন্দিরের পুরোহিত ৷  উল্লেখ্য, স্বামীনারায়ণ ভূজ মন্দিরের অনুগামীরাই গুজরাতের ওই আবাসিক হস্টেল ও স্কুল চালান, যেখানে ছাত্রীদের অন্তর্বাস খুলিয়ে ঋতুমতী কিনা দেখা হয় ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কৃষ্ণস্বরূপ দাসজি বলছেন, ‘কোনও ঋতুমতী মহিলার হাতে রান্না করা খাবার খেলে জন্মাতে হবে ষাঁড় হয়ে ৷’ এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও বলেন,‘ঋতুমতী অবস্থায় বা পিরিয়ড চলাকালীন কোনও মহিলার রান্না করা উচিত নয় ৷ কেউ সেই অবস্থায় কেউ রান্না করে স্বামীকে খাওয়ালে তাঁকে পরজন্মে কুক্কুরী হয়ে জন্মাতে হবে ৷’ এই ভিডিও ভাইরাল হতেই সোশ্যল মিডিয়ায় চাঞ্চল্য ৷
জানা গিয়েছে, গুজরাতের ভুজের শ্রী সহজানন্দ গার্লস ইন্সটিটিউট, মোদিরাজ্যের এই কলেজে নিয়মকানুন অদ্ভুত। ঋতুমতী ছাত্রীদের সকলের থেকে আলাদা করে রাখা হয়। তাঁদের হস্টেলে থাকতে দেওয়া হয় না। এই সময় তাঁদের ঠাঁই হয় কলেজের বেসমেন্টে। পিরিয়ড চলাকালীন কলেজ চত্বরের মন্দির ও ক্যান্টিনেও ঢুকতে দেওয়া হয় না পড়ুয়াদের। গত সপ্তাহে এই নিয়মই ভাঙার অভিযোগ ওঠে। বাগানে পাওয়া যায় একটি ব্যবহৃত প্যাড ৷ তারপরই বর্বরোচিত আচরণ কলেজ কর্তৃপক্ষের। ক্লাসচলাকালীনই প্রিন্সিপাল আসেন। পড়া থামিয়ে তাঁদের জিজ্ঞাসা করা হয়, কোন ছাত্রীরা ঋতুমতী। তারপর ৬৮ জন ছাত্রীকে লাইন করে শৌচালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পিরিয়ডস হয়েছে কিনা জানতে তাঁদের অন্তর্বাস খোলানো হয়। সেসময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রিন্সিপালও। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে জাতীয় মহিলা কমিশন ৷ অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রিন্সিপাল ও হোস্টেলের ওয়ার্ডেন সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷
First published: February 18, 2020, 6:02 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर